Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

পদ্মা সেতু বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবে : সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ হচ্ছে বিরোধী দল নির্র্যাতনের কারণে

প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আবু হেনা মুক্তি : পদ্মা সেতু নির্মাণ খুলনাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। এ দাবি বাস্তবায়নের রোডম্যাপে সরকার অগ্রসর হওয়ায় এ অঞ্চলের আমজনতার স্বস্তি মিলেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল সরকারের উন্নয়নের দিকে। কিন্তু বিরোধী দল দমনের কারণে উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। সরকারের উন্নয়নের ভাবমর্যাদা ক্রমেই ক্ষুণœ হচ্ছে বিরোধী দল নির্যাতনের কারণে। গত মেয়াদে আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অনেকখানি হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রথম ৫ বছরের শাসনামলে এ অঞ্চলের ৩ কোটি মানুষের কাছে দেয়া কথা রাখতে পারেনি সরকার। তাই পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার শতভাগ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ঘরে তুলতে চায়। এই সেতু নির্মাণ প্রশ্নে পদ্মার পশ্চিম পাড়ের আওয়ামী রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থে বর্তমান সরকার তার প্রথম মেয়াদে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় মেয়াদকালেই এই সেতু নির্মাণ তাদের জন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। সরকার আশা করছে তাদের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই জোরেশোরে কাজ চলছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে খুলনাঞ্চলের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপ্লব সাধিত হবে। কিন্তু পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতির সাথে জ্যামিতিক হারে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির আশা করা হলেও বিরোধী দল দমন-নিপীড়নের কারণে গাণিতিক হারে জনপ্রিয়তায় ধস নামার আশংকা করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এ অঞ্চলে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও ভাবমর্যাদা রক্ষায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর বিষয়ে ব্যাপক তোড়জোড় করলেও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক মামলা ও হয়রানির দরুন শাসক দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বদলে ভাটা পড়ছে বলে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
সূত্রমতে, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কারণে কেটে যাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মংলার সকল দৈন্যদশা। সে কারণে পদ্মা সেতু-পরবর্তী পরিবর্তিত দক্ষিণাঞ্চল সাজাতে বিশ্বব্যাংক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তারা সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়েও গবেষণা শুরু করেছে। দৈর্ঘ্যরে বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এবং নদীর প্রশস্ততা এবং পানি প্রবাহের তীব্রতার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় এই সেতুই হবে ২০১৮-পরবর্তী পরিবর্তিত খুলনার উন্নয়নের মাইলফলক। এই মাইলফলকের দিকনির্দেশনাই খুলনাকে অসম বঞ্চনার দীর্ঘকালের ইতিহাস ঘোচাতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর খুলনার চেহারা পাল্টে যাবে। পদ্মার প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে রচিত হবে উন্নয়নের সেতুবন্ধন। খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের ২১ জেলা যুক্ত হবে সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্কে। ঢাকার সাথে খুলনার যাত্রাকালীন সময় বাঁচবে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। অন্যান্য জেলার সাথেও সময়ের ব্যবধান কমে আসবে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। মংলা বন্দর চলে আসবে দেশের উন্নয়নের মূলস্রোতে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং মংলা বন্দর গ্রথিত হবে একই সুতায়। গ্যাস-বিদ্যুৎ-রেল এই তিনে মিলে খুলনা হয়ে উঠবে প্রকৃতপক্ষেই দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী। এমনি একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নেই পদ্মা সেতু মুখ্যত খুলনার চাবি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। এমনি বাস্তবতায় আগামীর খুলনার সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যাবে সেই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে না পারলে স্বপ্নের পদ্মা সেতুও খুলনার ভাগ্য খুলবে না।
সূত্র আরো জানায়, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সমান্তরালে খুলনার সমন্বিত উন্নয়নে খুবই আগ্রহী। এ বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথাও তারা সরকারকে জানিয়েছে। তারা চায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব। এমনি অবস্থায় সরকারকেই এখন ভাবতে হবে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সাথে সাথে আর কী কী করতে হবে। সূত্র মতে, আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি স্বপ্নবিলাসী মনে হলেও ভবিষ্যতের জন্য এটিই বাস্তব। কারণ ১৬ হাজার কোটি টাকায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই খুলনাঞ্চল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর বা মংলা পোর্ট হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের পেনাংÑ এই অভিমত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের। দক্ষিণাঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন প্রধান ভূমিকা রক্ষাকারী হিসেবে পদ্মা সেতুকে বিবেচনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দুরদর্শী পদক্ষেপই পারে খুলনাকে বঞ্চনার অভিশাপ থেকে ম্ক্তু করতে। এজন্য প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুকে আবর্তিত করেই ভবিষ্যৎ দক্ষিণাঞ্চলকে সাজাতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ