Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

করোনায়ও ‘ভয়ঙ্কার’ সিএনজি অটোরিকশা পার্টি

পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযদ্ধে’ নিহত দুই সদস্য

খলিলুর রহমান | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনাভাইরাসের মধ্যেও রাজধানীতে ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশা পার্টির সদস্যরা। তারা যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে গিয়ে ছিনিয়ে নেয় সর্বস্ব। শুধু তাই নয়, ছিনতাইয়ে বাঁধা দিলে গামছা গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে। আর ওই হত্যাকান্ড ঘটাতে সময় নেয় মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিট। এছাড়াও কোনো কোনা সময় মলমের মাধ্যমে যাত্রীদের অজ্ঞান করে তাদের কাছ থেকে সর্বস্ব নিয়ে যায় ওই চক্রের সদস্যরা। 

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তবে ওই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে গত রোববার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন দুই ব্যক্তি। পুলিশের ধারণা, তারা দুইজনই ওই চক্রের সদস্য।
জানা যায়, গত ১৭ জুন রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তারের স্বামী হারুন অর রশীদ নামের এক ব্যক্তি সিএনজি অটোরিকশা চক্রের সদস্যদের হাতে নিহত হন। পরে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে হারুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন সোনিয়া।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর মহাখালীতে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য দেখে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়।
শুধু হারুনই নয়, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই চক্রের সদস্যদের খপ্পরে পড়েন অজ্ঞাত (৩০) এক ব্যক্তি। পরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, এসব অপরাধ নির্বিঘেœ করতে ৩০০ ফিট এলাকাকে বেছে নিয়েছে ওই চক্রের সদস্যরা। তাই ওই এলাকায় চুরি-ছিনতাই যেন প্রতিদিনের ঘটনা। এছাড়াও খুনের পর লাশগুলো ওই এলাকায় ফেলে রাখা হয়। সর্বশেষ গত ১৯ জুন ওই এলাকা থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও এর আগে গত তিন মাসে মোট চারটি লাশ উদ্ধার করা হয় ওই এলাকা থেকে। সড়ক বাতি ও সিসি ক্যমেরা না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে ওইসব অপরাধীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচে একটি সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে দুইজন নিহত হন। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে শফিক ও সিদ্দিক নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহতরা হলেন নান্নু ও মোশাররফ।
ডিএমপির ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম এই গ্রুপটিকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার। একটি গ্রুপ তাদের নির্ধারিত গাড়িতে লোক উঠিয়ে পথে চোখে মলম দেয়। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে সব ছিনিয়ে নেয়। যদি কেউ বেশি বাড়াবাড়ি করে তবে তাকে রক্তাক্ত করে মেরে ফেলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ