Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

সর্বনাশ করেছিলেন মীর জাফর

বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস-শেষ

বিবিসি বাংলা | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

এ পরিণতির জন্য মীর জাফর অনেকাংশেই দায়ী। গুলাম হুসেইন খান লিখছেন, ‘সব সময়েই দামী গয়না-জহরত পরার একটা শখ ছিল মীর জাফরের। কিন্তু নবাব হওয়ার পরেই নানা রত্মখচিত ছয়-সাতটা গয়না পরতে শুরু করেছিলেন তিনি। গলায় তিন-চারটে মুক্তোর মালা থাকতো সবসময়েই। তার গান শোনা চাই আর নারীদের নাচ দেখা চাই’।
কিছুদিনের মধ্যেই মানুষ বুঝতে পারল যে, বাংলা শাসন করার ক্ষমতা মীর জাফরের নেই। তার আচার ব্যবহার একজন অশিক্ষিত আরব সৈন্যর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার রাজ্য সামলানোর কোনও দক্ষতাই ছিল না। স্যার প্যান্ডেরল মুন তার বই ‘দ্য ব্রিটিশ কনকোয়েস্ট অ্যান্ড ডমিনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ বইটিতে লিখেছেন: ‘ক্লাইভ ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার জাহাজে ওঠার আগে বলেছিলেন, মীর জাফরের শাসন করার কোনও ক্ষমতাই নেই। প্রজাদের ভালবাসা আর বিশ্বাস জয় করতেও সে অক্ষম। তার কুশাসন বাংলাকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে’।
তিনশো’র বেশি হত্যা করেছিল মীরান
একদিকে যখন মীর জাফরের রাজ্য শাসনে অক্ষমতা পরিষ্কার হচ্ছে, তখন তার ছেলে মীরান নিষ্ঠুরতা চালিয়েই গেছে। দয়া বা ঔদার্য - এই শব্দগুলো তার অভিধানে ছিলই না। তার সবথেকে বড় চিন্তা ছিল আলিবর্দি খানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে - যাতে ভবিষ্যতে কোনওদিন বিদ্রোহের কোনও সম্ভাবনাও না থাকে।
গুলাম হুসেইন খান লিখছেন: ‘আলিবর্দি খানের পুরো হারেম নদীতে ডুবিয়ে তো দিয়েইছিল মীরান, তারপরে তার নজর পড়ে সিরাজের সবচেয়ে কাছের পাঁচ আত্মীয়ের পরিবারের দিকে। সিরাজের ছোটভাই মির্জা মেহেদীকে দুটো কাঠের তক্তার মাঝে রেখে পিষে মেরেছিল মীরান। ওই হত্যাকান্ডের যুক্তি হিসাবে সে বলেছিল, সাপ মারার পরে তার বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়’।
‘সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের যতজন সদস্যকে সে হত্যা করেছিল, তার একটা তালিকা সে নিজের কাছে রাখত। খুব কম সময়ের মধ্যেই সেই তালিকায় নামের সংখ্যা ৩শ’রও বেশি হয়ে গিয়েছিল’, -লিখছেন গুলাম হুসেইন খান। তার প্রতিদ্ব›দ্বীরা আর আগের প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মীরানকে রাজপ্রাসাদের প্রধান ফটকের কাছেই হয় ছুরি দিয়ে হত্যা করেছিল, বা বিষ খাইয়ে মেরেছিল।
ওয়ারেন হেস্টিংস যখন সিরাজের পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যার ঘটনাগুলো শুনলেন, তারপরে তিনি কলকাতায় পাঠানো এক চিঠিতে লিখেছিলেন: ‘এই পাশবিক হত্যাকারী যা করেছে, তার পক্ষে কোনও যুক্তিতর্কই টেকে না। আমি এই কথা বলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, কিন্তু তবুও বলছি, এরকম একজনকে আমাদের সমর্থন করা কোনওভাবেই সঠিক হবে না’।



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ৭ জুলাই, ২০২০, ১০:১০ পিএম says : 0
    আমি ছোট বেলায় শুনেছি সাপকে এড়িয়ে চলতে হয়। নয়ত একেবারে সমূলে নিঃশেষ করতে হয় যাতে করে এদের একটিও বেঁচে না যাত। যদি কোনক্রমে একটি বেঁচে যায় তাহলে সাপের স্বভাব প্রতিশোধ নিবেই মরতে হলে মরবে। সেদিক থেকে মীর জাফরের ছেলে মীরনের কথাটা সত্য “সাপ মারার পরে তাঁর বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়”। আমরা এর প্রমাণ বহু পেয়েছি যদি পরিবারের একজনও বেঁচে যায় তাহলে সে ঠিকই তাঁর পূর্বপুরুষদের প্রতি করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়েন, এটাই মানুষের স্বভাব। আমাদের দেশ স্বাধীন হবার পর শ্ত্রুদের সাধারন ক্ষমা করার ফলে জাতীকে এর মাসুল গুনতে হয়েছিল। আমরা এই বিষয়ে ধর্মকে মানে ক্ষমার চেয়ে বড় কিছু নেই এই কথাটাকে সামনে এনে আমরা শাসন করতে গিয়ে সবই গুলিয়ে ফেলি। আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেইনা, যেমন এই মীর জাফরের ইতিহাস আমরা পড়ি কিন্তু এটাকে সেইভাবে বুঝতে বা এরপর কি করা উচিৎ সেটা নিয়ে গবেষণা করিনা। আর আমরা যদি এই ইতিহাস থেকে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করি তাহলে আমি নিশ্চিত আমাদের কোন ভুল হতে পারেনা। পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক বাহাউদ্দিন সাহেব মীর জাফরের ইতিহাস নিয়ে কয়দিন থেকে তাঁর দৈনিকে লিখে যাচ্ছেন। এই ইতিহাস সমাজের সকল স্তরের লোকজনদেরকে তিনি জানাচ্ছেন যাতে করে এই চরিত্র সম্পর্কে নূতন প্রজন্মের পাঠকেরা জানতে পারেন এবং এখান থকে শিক্ষা নিতে পারেন কেন আমরা ইসলামিক ভাষায় বেঈমানকে মীর জাফর বলি এবং কেন এদেরকে নির্মূল করা দরকার এবং এধরনের ব্যাক্তিদের কাছথেকে সাবধান থাকার দরকার। বাহাউদ্দিন সাহেব নূতন প্রজন্মের লোকদেরকে যে অনুপ্রেরনা দিচ্ছেন এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। আল্লাহ্‌ আমাকে সহ সবাইকে ইতিহাস পড়ে সেটাকে জানার, বুঝার এবং সেইভাবে প্রতিফলিত করার ক্ষমতা প্রদান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Faruq Ligare ৮ জুলাই, ২০২০, ১:৪১ এএম says : 0
    NOWADAYS AVAILABLE MIR JAFOR IN BANGLADESH
    Total Reply(0) Reply
  • Syed Rashedul Islam ৮ জুলাই, ২০২০, ১:৪২ এএম says : 0
    ভাই আপনার সাথে আমি একমত।
    Total Reply(0) Reply
  • তফসির আলম ৮ জুলাই, ২০২০, ১:৪৩ এএম says : 0
    সঠিক ইতিহাস তুলে ধরায় দৈনিক ইনকিলাবকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি
    Total Reply(0) Reply
  • আবেদ খান ৮ জুলাই, ২০২০, ১:৪৫ এএম says : 0
    সকল আমলেই কিছু মীর জাফর থাকে। তাই সব সময় এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ