Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে কোরবানি পশুরহাটের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। তবে হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার সাথে ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া না হলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
প্রশাসনের তরফে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাজার শুরু করার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন এবার পর্যাপ্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের মজুদ রয়েছে। এ অঞ্চলে কোরবানিপশুর কোন সঙ্কট নেই। তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও গবাদিপশু আসছে।

এবারও বৃহত্তর চট্টগ্রামে স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি শতাধিক অস্থায়ী হাট বসছে। নগরীর প্রধান দুইটি স্থায়ী পশুরহাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে সিটি কর্পোরেশন। সাগরিকা ও বিবির হাট গরুর বাজার এবং দেওয়ান হাটের অদূরে পোস্তারপাড়ের ছাগলের হাটও ইজারা দেওয়া হয়েছে। চারটি অস্থায়ী হাটের ইজারার দরপত্র বাক্স আজ বুধবার খোলা হবে। অস্থায়ী এ চারটি হাট হলো- বিমানবন্দর লাগোয়া বাটার ফ্লাই পার্কে পাশের খোলা মাঠ, কমল মহাজন হাট, সল্টগোলা ক্রসিং এবং কর্ণফুলী গরুর বাজার।

প্রতিবছর পতেঙ্গা হাই স্কুলের সামনে এবং স্টিল মিল বাজারে পশুরহাটের ইজারা দেওয়া হলেও এবার পুলিশের অনুরোধে ওই দুটি হাট বসছে না। পতেঙ্গা হাইস্কুলে এবং তার অদূরে আরও একটি ফিল্ড হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চলছে। তাছাড়া নগরীর প্রধান এই সড়কের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে চট্টগ্রাম ইপিজেড অংশে চলছে সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। দুটি হাসপাতাল কাম আসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে এবং একই সাথে প্রধান সড়কে যানজট এড়াতে পশুরহাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, স্থায়ী দুটি পশুরহাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। চারটি অস্থায়ী হাটের দরপত্র বুধবার উম্মুক্ত করা হবে। যারা হাটের ইজারা পাবেন তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হাট পরিচালনা করতে হবে। হাটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন সব প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে দুটি হাটের ইজারা বন্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার এ খাতে কর্পোরেশনের আয়ও কমে যাবে। সাগরিকা ও বিবির হাট গরুর বাজার থেকে এবার আট কোটি ৩১ লাখ টাকা পেয়েছে কর্পোরেশন।

এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলায় স্থায়ী গরুর বাজারের পাশাপাশি শতাধিক কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। মহানগর এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এবার হাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে স্বাস্থ্যবিধি পালন। ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে হাটের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই যাতে নিজেদের সুরক্ষায় সচেতন হন সে বিষয়ে পুলিশ কাজ করবে। প্রতিবছরের মতো সড়কে চাঁদাবাজি, গরুবোঝাই গাড়ি নিয়ে টানা হেঁচড়া বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। জাল টাকা, মলম, অজ্ঞানপার্টি ও টানা পার্টির দৌরাত্ম্য রোধেও পুলিশ কাজ করবে।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, গরু বা গবাদি পশু থেকে করোনা ছড়ায় না। তবে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে হবে। এ বিষয়ে প্রাণি সম্পদ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত গবাদিপশু মজুদ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার কোরবানি ঈদে সম্ভাব্য পশুর চাহিদা সাত লাখ ৩১ হাজার। চার হাজার ৭৭৮ জন খামারির কাছে মজুদ আছে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ২২টি জবাইযোগ্য পশু। করোনার কারণে গত চার মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মেজবানসহ সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিপুল সংখ্যক গরু রয়ে গেছে। তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও দেশের বৃহত্তর ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও এবার পর্যাপ্ত পশু আসবে চট্টগ্রামের বাজারে। ফলে বাজারে পশুর কোন সঙ্কট হবে না।

মজুদ গবাদি পশুর মধ্যে গরু চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭২টি, মহিষ ৫৭ হাজার ১৩১টি এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ২১০টি। প্রাণি সম্পদ বিভাগের হিসাবে গত বছর চট্টগ্রামে পশু কোরবানি হয় সাত লাখ ৩০ হাজার ৭৮৯টি। যার মধ্যে গরু পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ১৭টি, মহিষ তিন হাজার ৪৩৫টি এবং ছাগল ও ভেড়া দুই লাখ ২৬ হাজার ৩৭টি। এরমধ্যে গত বছর স্থানীয় উৎপাদন ছিলো ছয় লাখ ১০ হাজার ২১৯টি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাস্থ্যবিধি


আরও
আরও পড়ুন