Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

তৈরী হলো না এন্ড্রু কিশোরের ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ৬:৫৬ পিএম

কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। কিন্তু তার রেখে যাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গান মানুষের মনে থাকবে চিরকাল। তবে গুণী এই সঙ্গীতশিল্পীর জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি বলে দাবি জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা।

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে অবশেষে সোমবার (৬ জুলাই) রাজশাহীর মহিষবাথানের একটি হাসপাতালে ৬৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর।

প্লেব্যাক সম্রাটের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় বসবাসরত তার আত্মীয়স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবার অনেকেই টেলিভিশনের পর্দায় শিল্পীর মৃত্যুর খবর শুনে অঝোরে কেঁদেছেন। পাশাপাশি উপজেলাবাসীর মাঝেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

জীবিত থাকাকালীন সময়ে ২০১৮ সালে স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রুকে সঙ্গে নিয়ে কোটালিপাড়ার চীথলিয়া গ্রামের পৈতৃক ভিটাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। এ সময় তিনি সেখানে 'প্রার্থনা কুঞ্জ' তৈরী করতে চেয়েছিলেন বলে জানান প্রয়াত শিল্পীর চাচাতো ভাই পূর্ণদান বাড়ৈ।

সম্প্রতি গণমাধ্যকে পূর্ণদান বাড়ৈ জানিয়েছেন, আমার কাকা ক্ষিতিশ বাড়ৈয়ের ছোট ছেলে এন্ড্রু কিশোর। কাকা চাকরিসূত্রে রাজশাহীতে থাকতেন। আর সেখানেই জন্ম হয় কিশোরের। তবে কাকার জন্ম গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়।

তিনি আরও বলেন, এন্ড্রু কিশোরের বাবা কোটালিপাড়ায় খুব কম সময় থেকেছেন। তবে প্রতি বছরই ক্ষিতিশ বাড়ৈ এলাকাতে আসতেন।

কিংবদন্তি এই শিল্পীর মৃত্যুতে কোটালিপাড়ার বাসিন্দারের দাবি, এন্ড্রু কিশোরের স্মৃতি রক্ষার্থে কোটালিপাড়ায় একটি সঙ্গীত একাডেমি কিংবা সঙ্গীতের স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা গানের যুবরাজ খ্যাত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। এরপর শৈশব, কৈশর তার প্রিয় জন্মভূমিতেই কেটেছে। মূলত ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতের প্রতি আকর্ষণ ছিলো তার। আর সেকারণে আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছ থেকে সঙ্গীতের পাঠ নেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ার গড়তে একসময় ঢাকাতে চলে আসেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে 'মেইল ট্রেন' সিনেমার 'অচিনপুরের রাজকুমারী নে যে তাঁর কেউ' শীর্ষক গান দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে এ জে মিন্টুর 'প্রতীজ্ঞা' সিনেমার 'এক চোর যায় চলে' গানিটি দিয়ে। তারপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে। একের পর এক গেয়ে গেছেন অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় ও কালজয়ী গান।

বলতে গেলে নব্বই দশকের গোড়ার দিকে চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো তার। সেসময় রিয়াজ অভিনীত 'প্রাণের চেয়ে প্রিয়' সিনেমার 'পড়েনা চোখের পলক' গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়াও তার কন্ঠে গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে, 'হায়রে মানুষ রঙের ফানুস', 'জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প', 'আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি', 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে', 'আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান', 'আমার বুকের মধ্যে খানে' সহ অসংখ্য গান।

বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর এন্ড্রু কিশোরের শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গেল বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর যান তিনি। সেখানে দেশটির জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয় শিল্পীর।

পরে শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে গত মাসের ১১ জুন নিজ দেশে ফিরেন এই সঙ্গীতশিল্পী। দেশের ফিরেই পরের দিন রাজশাহীতে যান তিনি। সেখানে বোন ডা. শিখা বিশ্বাস ও বোনজামাই ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আর সেখানেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢালিউড


আরও
আরও পড়ুন