Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

রাজধানীর আদাবরে চার মাসের শিশুর খুনি প্রতিবেশি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২০, ১০:১৯ পিএম

রাজধানীর আদাবরে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাত্র চার মাসের শিশু সাদিয়াকে হত্যা করে প্রতিবেশি পারভীন আক্তার। হত্যাকান্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও পারিবারিক ঘটনা বিশ্লেষণের পর শিশু সাদিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার পারভীন আক্তার। পারভীন আক্তার জানান, তার দুই সন্তান সাদিয়াদের ঘরে গেলে গালিগালাজ ও মারধর করতো তার মা। এর প্রতিশোধ নিতেই এবং উচিত শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যেই শিশু সাদিয়াকে খুন করেন পারভীন। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, পুলিশ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও গোপেন সূত্রের ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই ভিকটিমের প্রতিবেশি পারভিনকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিশু সাদিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেন। ভিকটিমের পরিবার ও হত্যাকারী পারভীনের পরিবার দুটোই নিম্নবিত্তের। আসামি পারভীন গৃহিনী। তিনি ৫ মাস পূর্বে ঢাকায় আসেন। তার স্বামী একজন রিকশাচালক। ভিকটিম সাদিয়ার পিতা একজন দিনমজুর ও দাদা বস্তির ম্যানেজার। করোনার কারণে পারভীনের স্বামীকে বাসার সামনে ভিকটিমের দাদা দোকান করতে না দেয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। দ্বিতীয়ত পারভিন আক্তারের দুই বছরও চার বছরের দুটি বাচ্চা সাদিয়াদের বাসায় গেলে সাদিয়ার বাবা ও মা তাদের মারধর করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়।
ডিসি হারুন বলেন, ব্যবসা করতে না দেয়া ও সন্তানদের গালিগালাজ ও মারধর করার কারণে আসামি পারভীন ভিকটিমের মাকে একটি উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক পারভীন ঘটনার দিন সাদিয়ার মা তাকে ঘুম পাড়িয়ে রান্না করতে গেলে সে ঘরে ঢুকে বেøড দিয়ে গলা কেটে হত্যাকান্ডটি ঘটায়। সে একাই এই নির্মম হত্যাটি করে। তিনি আরো বলেন, পারভীন আক্তার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘর থেকে হত্যাকাÐে ব্যবহৃত বেøডটি উদ্ধার করা হয়। খুব দ্রæতই শিশু সাদিয়া হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
উল্লেখ, গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উত্তর আদাবরের একটি বাসা থেকে গলাকাটা অবস্থায় চার মাস বয়সী শিশু সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুনি

১৭ জুলাই, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ