Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর : রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নিন্দা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জুলাই, ২০২০, ১:৩৩ পিএম | আপডেট : ৭:৩৫ পিএম, ১১ জুলাই, ২০২০
প্রায় দেড় হাজার বছর আগে গির্জা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ইস্তাম্বুলের বিশ্বখ্যাত আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে আবারও মসজিদ বানানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। গতকাল শুক্রবার তুরস্কের আদালত আয়া সোফিয়া’র জাদুঘর মর্যাদা নাকচ করে দেওয়ার এক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান সেটিকে মসজিদ করার ঘোষণা দেন। আর তা অনুসরণ করে প্রায় ৮৬ বছর পর সেখানে প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় হয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, মসজিদ বানানো হলেও সেখানে পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধা অব্যাহত থাকবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অব স্টেট’র রায়ে বলা হয়েছে, ‘মসজিদ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত ১৯৩৪ সালে মন্ত্রিসভা নিয়েছিল তা আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’ রায়ে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয় ফলে অন্যকিছু হিসেবে এর ব্যবহার আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
এদিকে ইস্তাম্বুলের সেই বিখ্যাত গির্জা আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে পরিণত করার ঘোষণায় নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ। দেশটির আদালতের এমন রায়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ এর নিন্দা জানিয়েছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান ভ্লাদিমির ঝাবারভ তুরস্কের এই সিধান্তকে 'ভুল' পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, এটিকে মসজিদে পরিণত করায় এতে বিশ্ব মুসলিমদের কোনো লাভ হবে না। বরং এতে সংঘর্ষ বয়ে আনবে।
এছাড়াও এই সিদ্ধান্তকে গ্রিস সভ্য বিশ্বে তুরস্কের উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিনা মেন্ডনি বলেন, এরদোয়ান যে জাতীয়তাবাদ দেখালো তা তার দেশকে ছয় শতাব্দী পিছনে নিয়ে গেল।
এছাড়া সাইপ্রাস তুরস্কের এই রায়ের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি তুরস্ককে শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান করে। সেইসঙ্গে ইউনেস্কো জানিয়েছে, তারা আয়া সোফিয়ার মর্যাদা পর্যালোচনা করে দেখবে। এজন্য তারা তুরস্ককে একটি সংলাপে বসার আহ্বান জানান।
আয়া সোফিয়ার ইতিহাস
হাজিয়া সোপিয়ার জটিল ইতিহাসের শুরু ৫৩৭ সালে। ওই সময়ে গোল্ডেন হর্ন উপত্যকা তদারকি করতে বাইজানটাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান বিশালাকৃতির এই গির্জাটি নির্মাণ করেন। বিশালাকারের গম্বুজসহ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় চার্চ ও ভবন বলে মনে করা হয়।
১২০৪ সালে ক্রুসেডারদের অভিযানকালে সামান্য কিছু সময় বাদ দিলে কয়েক শতাব্দী ধরেই ভবনটি বাইজানটাইনদের নিয়ন্ত্রণে থেকেছে। তবে ১৪৫৩ সালে বাইজানটাইন সম্রাটদের পরাজিত করে অটোমান শাসক দ্বিতীয় সুলতান মাহমুদ ইস্তানবুল (পুরনো কন্সটান্টিপোল) শহর দখল করে নেন। আর বিজয়ী শাসক আয়া সোফিয়ার অভ্যন্তরে জুমার নামাজ আদায় করেন।
তার কিছু দিনের মধ্যেই অটোমান শাসকেরা ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করেন। তখন এতে বহিরাবরণসহ চারটি মিনার যুক্ত করা হয়। ভবনটির গায়ে থাকা খ্রিষ্ট ধর্মের নানা প্রতিকৃতি ও স্বর্ণের মোজাইক ঢেকে দিয়ে আরবি ক্যালিগ্রাফি বসানো হয়।
পরের কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিম অটোমান সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্রে থাকার পর ১৯৩৪ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের সরকার এটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন। বর্তমানে এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য। ওই সময়ে কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুরস্ক বেশ কিছুটা ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ার উদ্যোগ নেয়। আজকের দিনে তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আয়া সোফিয়া। প্রতিবছর প্রায় ৩৭ লাখ পর্যটক বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রটিতে ভ্রমণ করে থাকেন।
হাজিয়া সোপিয়াকে মসজিদে রুপান্তরের ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। টুইটারে ওই ঘোষণার প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘এতে লাভও হতে পারে।’ প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর আয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করা হয়। তুরস্কের মূলধারার সবগুলো চ্যানেল ওই নামাজ সম্প্রচার করে।
 


 

Show all comments
  • Dr. Shafiul Haque ১১ জুলাই, ২০২০, ৩:১৫ পিএম says : 0
    বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর কোনো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোয়ান তাঁর দেশে কী করবেন, তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এ ছাড়াও ইহুদিদের দ্বারা টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর হঠাৎ আমেরিকা আফগানিস্তানের তালেবান সরকার কে সরিয়ে তাদের প্রভুত্ব কায়েম করে, সেখানেই পৃথিবীর মধ্যে ৯৯% এর বেশি মুসলিম জনগণের বাস। কোথায় ছিল খ্রিস্টান দেশগুলোর প্রতিবাদ?
    Total Reply(0) Reply
  • Shamsud Duha ১১ জুলাই, ২০২০, ৬:১৩ পিএম says : 0
    আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। আয়া সুফিয়া বা তার চেয়ে বড় বড় কয়েকটি মসজিদ ইস্তাম্বুল শহরে আছে যেগুলো কয়েকশো বছরের পুরাতন,নতুন করে আশি বছর পরে আয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানানো ধর্মীয় গোঁড়ামি এর পরিচয়।আরেকটি বিষয় কোষবদ্ধ তোরবাড়ির জন্য মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ে নেই এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসেন নাইলে মাইর খাইতেই থাকবেন।মুসলমানরা পিছিয়ে পড়েছে জ্ঞানচর্চা থেকে যখন দূরে সরে এসেছে বিলাসী জীবন যখন শুরু করেছে তখন প্রত্যেকটা ইসলামিক মেসন এর পতন হয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানরা সবার আগে ছিল যেদিন থেকে আমরা নিজেদেরকে আয় আমোদ ফুর্তিতে ব্যস্ত করেছি সেদিন থেকে খ্রিস্টান হিন্দু বুদ্ধিস্ট সবচেয়ে বেশি জায়ানিস্ট ইহুদীরা জ্ঞান চর্চা করে আমাদের কে পিছনে ফেলে দিয়েছে এবং মার দিয়েছে
    Total Reply(0) Reply
  • elu mia ১১ জুলাই, ২০২০, ৫:২৭ পিএম says : 0
    অটোম্যান রা অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের পরাজিত করে হাজিয়া সফিয়া দখল করে।এখন কেথলিক খ্রিস্টানরা এত কথা বলে কেন?এটা মসজিদ ছিল এবং থাকবে।এটা তরুস্কের নিজেদের বেপার।গ্রিস আর সাইপ্রাস মুখ বন্ধ রাখলেই ভাল করবে।গ্রিস একটা ফকির দেশ তার ওপর তুরস্কের ৫ ভাগের একভাগ এরা এত কথা বলে কেন।
    Total Reply(1) Reply
    • john sarkar ১৩ জুলাই, ২০২০, ৫:২০ এএম says : 0
      tui o to fakir
  • Amir Khan ১১ জুলাই, ২০২০, ৬:১৯ পিএম says : 0
    অস্ত্রের ঝনঝনানি আর শক্তির প্রদর্শন সাদ্দাম হোসেন কম করে নাই, কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে এবং মারাও গেল।খ্রিস্টানদের ইহুদিদের ষড়যন্ত্র পাড়া দিয়ে সেই পরিণতি ভোগ করেছে এটা তো রিসেন্ট ইতিহাস আপনার আমার সবার চোখে দেখা। আজকে ইরাক রাষ্ট্রটি ধ্বংস হয়ে গেছে অথচ ইরাক রাষ্ট্র হিসেবে সবচেয়ে অগ্রসর ছিল যেহেতু তারা জ্ঞান চর্চা করত। জ্ঞানচর্চা রেখে অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ায় সব হারালো। সাদ্দাম এর পথে এগোলে এরদগান নিশ্চিত ভাবে মাইর খাবে। তাঁর ভাল কাজ গুলি এই ধরনের গোঁড়ামি ম্যানটালিটির কারনে হারিয়ে যাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আলি রিয়ায ১১ জুলাই, ২০২০, ৬:২২ পিএম says : 0
    আমি বলছি না যে অস্ত্রের দরকার নাই আমি বলছি তার চেয়ে বেশি দরকার জ্ঞানচর্চার নতুন টেকনোলজি আহরণ করা। মধ্যযুগীয় মেন্টালিটি নিয়ে এই সেঞ্চুরিতে এসে বেশিদূর আগানো যাবে না।এই ঘটনার রিটেলইএশন হিসেবে ইহুদিরা এখন আপনাকে পিটিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে বের করবে। সেখানে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিবে জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি, ইসলামের নামে বাড়াবাড়ি আল্লাহ্‌ পছন্দ করেন না।
    Total Reply(0) Reply
  • Sazzad Hossain Naim ১২ জুলাই, ২০২০, ৪:১১ এএম says : 0
    প্রিয় ভাইয়েরা,ইতিহাস বিকৃত করা যত বড় অন্যায় ইতিহাস লুকানো তত বড় অন্যায়।আয়া সোফিয়া একসময় গির্জা ছিলো এ কথা সত্য।আর এটি যে পরবর্তীতে মসজীদ হয়েছিলো এ কথাও সত্য।আবার পরবর্তীতে জাদুঘরে রুপান্তর করাটা যেমন অন্যায় ছিলো ঠিক তেমনি এখন আবার মসজীদে রুপান্তর করাটাও ন্যায়সঙ্গত।কারণ গির্জাকে অন্যায়ভাবে মসজীদে রুপান্তর করা হয়নি।অটোমান শাসক ২য় সুলতান মাহমুদ গির্জাটিকে তৎকালীন গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিনে নিয়ে মসজীদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন।আর তাদের এই ক্রয়-বিক্রয়ের বিখ্যাত চুক্তিটি আঙ্কারার 'টার্কিশ ডকুমেন্ট অ্যান্ড আর্গুমেন্ট ডিপার্টমেন্ট'এ সংরক্ষিত রয়েছে।এছাড়াও আপনারা গুগলে সার্চ দিলেও এর প্রমাণ পেয়ে যাবেন।সুতরাং এটি মুসলমানদের মসজীদ ছিলো এখনও থাকবে।এটি দখল করার অধিকার কারো নাই।ঠিক তেমনিভাবে জাদুঘরকে আবার মসজীদে রুপান্তর করার সিদ্ধান্তের উপর প্রশ্ন তোলার অধিকারও কারো নেই যদি সে নিজেকে ন্যায়ের পক্ষাবলম্বনকারী হিসেবে দাবি করতে চায়।
    Total Reply(0) Reply
  • A Salam ১২ জুলাই, ২০২০, ৫:১০ এএম says : 0
    Look at the history no one became super power without weapons, whenever muslims laid down weapons they were humiliated. Turkey's dicision is not religious fanaticism, just they pushed away the injustice, Christian has no right to say condemn, because they destroyed many masajid after establishing colonialism in muslims world.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মসজিদ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ