Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

খামারমুখী কোরবানিদাতারা

চট্টগ্রামে অস্থায়ী পশুরহাট নিয়ে সংশয় স্থানীয়ভাবে মিটবে চাহিদা

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০২০, ১২:০৫ এএম

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ এড়াতে পশুর হাটে ভিড় না করে বিকল্প উপায়ে কোরববানির পশু কেনায় উদ্যোগী হয়েছেন ক্রেতারা। সরাসরি খামারিদের সাথে যোগাযোগ করছেন কোরবানিদাতারা। অনেকে আবার অনলাইনে গবাদি পশু কিনে নিচ্ছেন। ফেসবুকভিত্তিক বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে পোস্ট করা গরু পছন্দ করে ফোনেই সেরে নিচ্ছেন দর-দাম। হোম ডেলিভারি সার্ভিসও চাল করছেন কেউ কেউ। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন এবার স্থানীয় গবাদিপশু দিয়েই বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা যাবে। এই অঞ্চলের খামারে পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদিপশু মজুদ রয়েছে।

পবিত্র ঈদ উল আযহার বাকি আরও প্রায় ২০ দিন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে পশুরহাট নিয়ে এবার আগেভাগেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গবাদিপশুর হাটেও চালু হয়েছে। নগরীর স্থায়ী দুটি পশুরহাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসতে শুরু করেছে। আরও চারটি অস্থায়ী হাট বসানোর আয়োজনও চলছে। বিশেষ করে সংক্রমণ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে কিভাবে পশুরহাট পরিচালনা করা যায় তা নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরীতে দুুটি স্থায়ী পশুরহাটের পাশপাশি আরও চারটি অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর প্রক্রিয়া প্রায় চ‚ড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে করোনা মোকাবেলায় উপদেষ্টা কমিটির চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ী পশুর হাট না বসানোর পরামর্শে ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা কারিগরি কমিটির সুপারিশ এখনও পান নি জানিয়ে বলেন, আমার স্থানীয় সরকার পলীø উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর সাথে একমাস আগে বৈঠক করে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পশুরহাট বাসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরং ভিড়-জটলা এড়াতে আগের চেয়ে বেশি পশুরহাট বসানোর পরামর্শ দেয়া হয়। তবে পুলিশের অনুরোধে যানজট এড়াতে এবার সিটি কর্পোরেশন হাটের সংখ্যা তিনটি কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, দুটি স্থায়ী হাটের পাশাপাশি আরও চারটি অস্থায়ী হাট চালুর প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। করোনা প্রতিরোধে জাতীয় কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ চারটি মহানগরীতে অস্থায়ী পশুরহাট না বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামে এবার প্রায় সাত লাখ পশু কোরবানি হবে। প্রতিবছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশি পশু কোরবানি হয়। এখানে বিশাল সাইজের গরুর চাহিদাও বেশি। চট্টগ্রামের বাজার ধরার জন্য প্রতিবছর বৃহত্তর ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা গরু লালন পালন করেন। বাজার না বসলে তারা পশু কিভাবে বিক্রি করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা এসব খামারিরা। অস্থায়ী হাট না বসলে কোরবানিদাতারাও বিপাকে পড়বেন। পৌনে এক কোটি মানুষের এই মহানগরীতে মাত্র দুটি স্থায়ী পশুরহাটে তখন ভিড়-জটলা আরো বেড়ে যাবে বলেও মনে করেন অনেকে। আর তাতে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে।

স্থানীয় খামারিরা বলছেন, তাদের খামারে ক্রেতার যোগাযোগ বাড়ছে। অনেকে সরারসি খামারে হাজির হয়ে গরু পছন্দ করে রাখছেন। কেউ আবার ফোনে যোগাযোগ করে বুকিং দিচ্ছেন। অনলাইনে যারা কেনাবেচা করেন তারাও খামারিদের সাথে যোগাযোগ করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে চট্টগ্রামের চার হাজার ৭৭৮টি খামারে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৯টি গবাদিপশু রয়েছে। এরমধ্যে গরু, মহিষ চার লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৩টি। ছাগল ভেড়া এক লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৬টি। বেশির ভাগ খামার নগরী এবং আশপাশের এলাকায় হাওয়ায় ক্রেতারা সহজে এসব খামার থেকে গরু কিনতে পারবেন। খামার ছাড়াও এই অঞ্চলের কৃষকের ঘরেও অনেক গবাদিপশু আছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকেও চট্টগ্রামের বাজারে গরু আসে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে এবার চট্টগ্রামে প্রায় ৭ লাখ ৩১ হাজার পশু কোরবানি হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম


আরও
আরও পড়ুন