Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

টাকা দিয়ে প্রবেশ-বাহির

ওয়ারী লকডাউন : স্বেচ্ছাসেবীদের আচরণে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০২০, ১২:০৫ এএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হওয়ায় লকডাউন করা হয়েছে রাজধানীর ওয়ারীর কিছু এলাকা। এই এলাকা থেকে যেন অন্য এলাকায় ভাইরাস ছড়াতে না পারে সেজন্য লকডাউন করা হয়েছে। তবে নানা অজুহাতে লকডাউন এলাকা থেকে বাহিরে বের হচ্ছেন বাসিন্দারা। এক্ষেত্রে অসচেতন নাগরিকদের শৃঙ্খলার জন্য কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকদের ভ‚মিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। এলাকা থেকে বের হতে এবং এলাকায় ঢুকতে কিছু স্বেচ্ছাসেবক বাসিন্দাদের কারো কাছ থেকে ১০০, আবার কারো কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন। একদিকে পরিপূর্ণ লকডাউন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, অন্যদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
লকডাউন এলাকা থেকে বের হবার রাস্তা দুটি- চন্ডীচরণ বোষ স্ট্রিট (ওয়্যার স্ট্রিট) এবং র‌্যাংকিং স্ট্রিট। দুই গেটে ১০ জন করে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়া পুরো এলাকায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। যারা গেটে দায়িত্বপালন করছেন তারাই মূলত এই অপকর্ম করছেন। যারা বের হতে চান তাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন সেই স্বেচ্ছাসেবকরা। যারা টাকা দিচ্ছেন তারা সহজেই বের হতে পারছেন, টাকা না দিলেই হচ্ছেন হয়রানির শিকার।
সম্প্রতি এমন একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আফ্রিদি নামে এক স্বেচ্ছাসেবক একজন বাসিন্দার কাছ থেকে বের হবার জন্য টাকা নিচ্ছেন। পরবর্তীতে তাকে প্রশ্ন করা হলে সে প্রথমে অস্বীকার করে এবং পরে টাকা নেয়ার জন্য ভুল স্বীকার করে মাফ চান। শুধু একটি দুটি ঘটনা না, বাসিন্দারা যেমন অযথাই নানা ছুতোয় লকডাউন থেকে বের হচ্ছেন, সেই সুযোগে স্বেচ্ছাসেবীরাও টাকা কামানোর পথ খুঁজে পেয়েছেন। ফলে যে কারণে লকডাউন সেই উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা মঞ্জুরুল কাদের মামুন, মামুন তালুকদার, তুষার, তমাল, সুমন দাস, মিলন, জিতু, হৃদয়, ফরহাদ, জামাল এ অপকর্ম করছেন। টাকা না পেয়ে অনেক বাসিন্দার সাথেই দুর্ব্যবহার করেছেন এমন প্রচুর অভিযোগ। তারা সরকারদলীয় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী হওয়ায় বাসিন্দারা ভয়ে কেউ কিছু বলেন না। তবে তাদের উপরস্থ নেতাদের কাছে কয়েক দফা বিচার দিয়েছেন এদের অপকর্মের বিষয়ে। আর পুলিশ প্রশাসন বা রাজনৈতিক নেতারা এ বিষয়ে সমাধান দিতে পারছেন না কারণ স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয় কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
স্থানীয় ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে কথা হলে তারা নিজ দলের কর্মীদের এ রকম হীন কাজের বিষয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, আমরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছি, যার ফলে মাঠ পর্যায়ে তদারকি না করতে পারায় অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে দুই কাউন্সিলর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সারোয়ার হাসান আলো ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফি গৌরবকে জানানো হয়েছে। তারা অতি শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশাবাদী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারায়ার হাসান আলো ইনকিলাবকে বলেন, প্রথমে কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল, কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন সে সমস্যা নেই। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন দুইশ’ স্বেচ্ছাসেবকের জন্য আমি ব্যক্তি উদ্যোগে খাবারের আয়োজন করছি। স্বেচ্ছাসেবকদের সার্বিক বিষয় দেখভাল করছি। এখন কোন সমস্যা নেই। এরপরও যদি কোন অভিযোগ পাই সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক রাতদিন কাজ করছেন এলাকাবাসীর জন্য। খাদ্যপণ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে ওষুধ পৌঁছে দেয়া, অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, হাসপাতালে নেয়াসহ যাবতীয় কাজ করছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের টেস্ট করাতে নিয়ে যেতেও সহায়তা করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু গুটি কয়েক অপকর্মকারীদের জন্য সকল স্বেচ্ছাসেবকদের বদনাম হচ্ছে। এদিকে এলাকায় করোনাভাইরাসের বিস্ফোরণ হলেও কেউ সচেতন হচ্ছেন না। আটকানো রাস্তার বাঁশের ফাঁক দিয়ে, ওপর দিয়ে যে যেভাবে পারছেন চুপে চাপে বের হচ্ছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রবেশ-বাহির
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ