Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

পান চাষে লক্ষ্মীপুরের চাষিদের ঘুরছে ভাগ্যের চাকা

প্রকাশের সময় : ১ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এস,এম বাবুল (বাবর), লক্ষ্মীপুর থেকে

লক্ষ্মীপুরে পান চাষে চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি, পান চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে এলাকার চাষিরা। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় পান চাষে আগ্রহ বাড়ছে উপকূলীয় এ জেলার চাষিদের মধ্যে। এখানকার উৎপাদিত পান জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। উৎপাদিত পান বিদেশে রফতানি করে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায় এখান কার চাষিরা। এবার উৎপাদিত পানকে ঘিরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত পান বিদেশে রফতানি করে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব। কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় ৫শ’ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শুধু রায়পুর উপজেলায় আবাদ হয়েছে প্রায় ৪শ’ হেক্টরে। প্রতি একর জমিতে পানের উৎপাদন ব্যয় হয় ৫-৬ লাখ টাকা, আর তা বিক্রি হয় ১০-১২ লাখ টাকা। সপ্তাহে দুইদিন পানের সবচেয়ে বড় হাট বসে রায়পুরের হায়দরগঞ্জ ও নতুন বাজারে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে পান সংগ্রহ করে সড়ক পথে নিয়ে যায়। জেলার পানপল্লী খ্যাত রায়পুরের ক্যাম্পেরহাট ও চরআবাবিল এলাকা। এসব এলাকার ৬০ শতাংশ মানুষ পারিবারিক শ্রম কাজে লাগিয়ে পান চাষ এবং ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা। এতে চাষিরা চোখে-মুখে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছেন। কৃষকদের ভাষ্যমতে, পুঁজির অভাবে তারা পানের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করতে পারছে না। কা- পচা, পাতা ঝড়াসহ বিভিন্ন রোগ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-তুফানের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে। বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান। রায়পুরের ক্যাম্পের হাটের কৃষক উত্তম কুমার ও ঝাউডগী গ্রামের মো. ফরহাদ হোসেন জানায়, পান লাভজনক ফসল। উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। তবে প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে পানের বরজ প্রসার করা যাচ্ছে না। মিতালী বাজার মডেল একাডেমী প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, পান চাষের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত পান বিদেশে রফতানি করে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব। দক্ষিণ চর আবাবিল গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বেপারী বলেন, এখানকার উৎপাদিত পান সুস্বাদু হওয়ায় তা জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ মাঠ ফসলকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল মমিন বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানের উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কম থাকে। আর শীতে ফলন কম হওয়ায় দাম চড়া থাকে। মাঠে পানের উৎপাদন বাড়ানো, রোগ-ব্যাধি নির্মূল, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা বলেন, লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে পান চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবার উৎপাদিত পান থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পান চাষে লক্ষ্মীপুরের চাষিদের ঘুরছে ভাগ্যের চাকা
আরও পড়ুন