Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

রাজধানীতে দুর্বিষহ লোডশেডিং

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:৩১ এএম

রাজধানী ঢাকায় চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। কখন আসে আর কখন যায় বোঝার উপায় নেই। আষাঢ়ের শেষদিকে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দফায়-দফায় চলছে লোডশেডিং। ভিআইপি এলাকা থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকায় একই চিত্র। পিক-অফপিক আওয়ার সমানতালে লোডশেডিংয়ে নাগরিক জীবন নাকাল। করোনার মধ্যে দফায় দফায় এই লোডশেডিংয়ের ওপর ভ‚তুড়ে বিলের ‘ঘা’ যোগ হয়ে নাগরিক জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।
সরকারের হিসেব অনুযায়ী বর্তমান অবস্থায় বিদ্যুতের ঘাটতি থাকার কথা নয়। করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎচালিত বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এখন বন্ধ। এর ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকার কথা নয়। আর বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। লোডশেডিং হলে তা ট্রান্সমিশন বা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে প্রতিদিন এলাকা ভেদে ৪ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ থাকছে না। এক বার গেলে ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা আসে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বেশি। গত শনিবার দিনের বেলায় উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ২২২ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬৫৫ মেগাওয়াট। আর চাহিদা ছিল দিনের বেলায় ১১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় চাহিদা কিছুটা কমে হয় ৯০০০ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি দাবি করলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজধানীবাসী। বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইদানিং লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই দফা থেকে ৫ দফায় লোডশেডিং হয়েছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ি, মাতুয়াইল, মান্ডা, হাজীপাড়া, রামপুরার কিছু এলাকা, উত্তরখান, মীরপুর ১১, নাখালপাড়া, সায়েদাবাজ ইত্যাদি। সপ্তাহে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন সকালে এবং সন্ধ্যার সময় লোডশেডিং হয় বলে এসব এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। মাঝে মাঝে দুপুরে লোডশেডিং হয়ে থাকে।
জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, রাজধানীতে লোডশেডিং নেই বললেই চলে। তবে ট্রান্সমিশনের কারণে সাময়িক সমস্যা হতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনো সমস্যা আপাতত পাচ্ছি না।
লোডশেডিং এর যন্ত্রনার মধ্যে ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ উঠেছে। বিলে অনিময় করায় ইতোমধেই ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া, বিদ্যুৎ বিভাগের টাস্কফোর্স প্রায় তিনশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে ৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমির আলী বলেন, অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর চেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম। তবু আমরা সব অভিযোগ পর্যালোচনা করেছি। এ কারণে চার জন মিটার রিডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাতজন মিটার রিডার ও একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজধানী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ