Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

করোনা উপসর্গে মৃত্যু ১০

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০২০, ১২:৫৭ এএম

করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সারা দেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

যশোর ব্যুরো জানায়, যশোরের সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. শেখ আবু শাহীন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জনের মুখপাত্র ডা. রেহেনেওয়াজ গতকাল দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেে বলেছেন, সিভিল সার্জনসহ যশোরে নতুন আরো ১৫জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে যশোর ২৫০ বেড হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর পর্যন্ত যশোরে মোট করোনায় আক্রান্ত ৯শ ৮৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। যবিপ্রবি জানায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেণ্টারের পরীক্ষায় রোববারের ফলাফলে চার জেলার আরো ৮০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জনও ক্যানসারে আক্রান্ত। ফলে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনে এক ধরণের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদকে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমনের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার অতিক্রম করল। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এসময়ে বিভাগের ৬ জেলায় নুতন আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে ৮জন বৃদ্ধি পেয়ে ১১৬’তে উন্নীত হবার ফলে মোট সংখ্যাটা দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০’এ। দক্ষিণাঞ্চলে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চলতি মাসের ১২ দিনেই ২৩ জনের মৃত্যু ও এক হাজার ৯২ জন আক্রান্তের খবর দিল স্বাস্থ্য বিভাগ। গত২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পটুযাখারীর কলাপড়া’র ৮৬ বছর বয়স্কা এক মহিলা ছাড়াও বরিশাল মহানগরীর সাগরদী এলাকার ৮০ বছর বয়স্ক একজন এবং জেলার উজিরপুরের পূর্ব সতলার ৬৮ বছর বয়স্ক আরো একজন পুরুষ রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩২ জন সহ মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ হাজার ৫০৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে নুতন সংক্রমনের সংখ্যা আগের দিনের ১০ থেকে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ এবং বরগুনাতে দেড়গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ থেকে পনেরতে উন্নীত হয়েছে। ফলে বরিশালে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৯ জনে। মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। যারমধ্যে মহানগরীতেই আক্রন্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৭শ। জেলায় মৃত ৩৩ জনের মধ্যে মহানগরীতেই মৃত্যুবরণ করেছে ১৭ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৬৫ জন। এরমধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩ জন। বরিশাল মহানগরীর প্রতিটি এলাকাতেই প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ আক্রান্ত হলেও নূন্যতম কোন স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ চোখে পড়ছে না। পুরো বিষটি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, নগর ভবনসহ প্রশাসনেরও কোন হেল দোল আছে বলে মনে করছেন না সচেতন নাগরিক সমাজ।
এদিকে পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠীতে আগের দিনের তুলনায় গতকাল দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমনের সংখ্যা সামান্য কমলেও তা কতটা টেকসই হবে সে বিষয়ে সন্দিহান ওয়াকিবাহল মহল। পটুয়াখালীতে আগের দিনের ৩৩-এর স্থলে রবিবার অক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১। এ নিয়ে জেলাটিতে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাটা দাড়াল যথাক্রমে ৬৭৫ ও ২৫জনে। জেলায় গতকাল নুতন ২১ জন সহ মোট সুস্থ হয়েছেন ২০৩ জন।
ভোলাতেও আগের দিনের ১৪ জনের স্থলে রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ১২জনে হ্রাস পেলেও নতুন কারো সুস্থ্যতার খবর নেই। দ্বীপ জেলাটিতে রবিবার দুপর পর্যন্ত মোট ৩৮৮ জন আক্রান্তের বিপরিতে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আর মোট সুস্থতার সংখ্যা ১৯৯’তেই আটকে আছে। পিরোজপুরেও রবিবার দুপুরের পূববর্তি ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের ৩০ থেকে অর্ধেক হ্রাস পেয়ে ১৫’তে স্থির হয়েছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ও ৩৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন মাত্র একজন। ফলে মোট সুস্থতার সংখ্যা ১৮২।
বরগুনাতে আক্রান্তের সংখ্যাটা আগের দিনের দশ থেকে ১৫’তে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ জেলায় মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাটা যথাক্রমে ৩৮৩ ও ৫জন বলে জানা গেছে। এ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ্য হয়েছেন আরো ৭ জন সহ মোট ২০৪জন। ঝালকাঠীতে আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের ১১ থেকে ৯’তে হৃাস পেয়েছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৩২৭ জন আক্রান্তের বিপরিতে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। তবে ঝালকাঠীতেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোন সুস্থতার খবর দিতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। এ পর্যন্ত জেলাটিতে মোট সুস্থ্য হয়েছেন ১৫১জন।
এদিকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রবিবার সকালের পূর্ববর্তি ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ জন নতুন রোগী ভর্তি করা হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ১১ জন। করোনা ওয়ার্ডেও নতুন ৪ জনকে ভর্তি করা হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫জন। বর্তমানে হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৬১ ও করোনা ওয়ার্ডে ৬০ জন চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। তবে হাসপাতালটির এ দুটি ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত ৮৬৮ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১২৬ জন। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৬২৬ জনকে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য গতকাল সকালে জানান, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৭১ জন। আর মারা গেছেন ১১৪ জন। তিনি জানান, বিভাগের আট জেলায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪২৯ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন বগুড়া জেলায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা রাজশাহীতে ১ হাজার ৬০১ জন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৭৭, নওগাঁয় ৬৭৪, নাটোরে ২৯৪, জয়পুরহাটে ৫৫০, সিরাজগঞ্জে ৮২৩ এবং পাবনায় ৫৯৯ জন শনাক্ত হয়েছেন।
শনিবার নতুন ১৯২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৮৯, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩, নাটোরে ১৩, বগুড়ায় ৫৫ এবং সিরাজগঞ্জে ৩২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ দিন বিভাগে নতুন চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বগুড়া। আর একজনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়।
বিভাগে এখন মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১৪ জন। এর মধ্যে ৭০জনের মৃত্যু হয়েছে বগুড়ায়। এছাড়া রাজশাহীতে ১৫, নওগাঁয় ১০, নাটোরে ১ এবং সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ৯ জন করে মারা গেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটে এখনও কারও মৃত্যু হয়নি।
গত শনিবার বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ১২৪ জন। এদের মধ্যে ৭৮ জনেরই বাড়ি বগুড়া। এ দিন নওগাঁর ২৫, জয়পুরহাটের ৫, সিরাজগঞ্জের ১২ এবং পাবনার ৪ জন সুস্থ হয়েছেন। গোটা বিভাগে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৭১ জন।
এর মধ্যে রাজশাহীর ৩২১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৩ জন, নওগাঁর ৪৮০ জন, নাটোরের ৯৭ জন, জয়পুরহাটের ১৬৯ জন, বগুড়ার ১ হাজার ৭৭৭ জন, সিরাজগঞ্জের ১২৬ জন এবং পাবনার ২০৮ জন করোনামুক্ত হয়েছেন।
এছাড়া রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল সকালে মোজাফ্ফর হোসেন (৫৫) নামে এক ট্রাফিক পুলিশের মৃত্যু হয়েছে। নগরীর অভায়ার মোড় এলাকায় মেয়ের বাসায় হোম কোয়ারেণ্টিনে তিনি মারা যান।
তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজি গোবিন্দপুর গ্রামের ফকিরপাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত জাবান আলী। তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে এবং তিনি পুলিশ লাইন্স ব্যারাকে থাকতেন।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, তিনি গত ৭ জুলাই জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি পুলিশ হাসপাতালে যোগাযোগ করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নগরের মেয়ের বাড়িতে হোম কোয়ারেণ্টাইনে চলে যান। সেখানে তিনি গতকাল সকালে মারা যান। তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষা অফিসার ও তার ছেলে এবং এক ওষুধ ব্যবসায়ীসহ নতুন করে আরও ৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পরীক্ষার রির্পোটে তাদের কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোজিয়ারা খাতুন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তানোর উপজেলায় ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ থাকায় গত ৭ জুলাই তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তাদের করোনা পজিটিভ আসে।
আক্রান্তরা হলেন, উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের আহাদ আলী (৪০), আমশো মেডিকেল মোড়ের বৃষ্টি ফার্মাসির স্বত্বাধিকারী জালেক (৩৮), সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু বকর সিদ্দিক (৪০) ও তার ছেলে আহনাফ সিদ্দিক (৯) এবং গোল্লাপাড়া এলাকার রুনা (১৭)।
আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনসহ নিজ নিজ বাসস্থানে হোম কোয়ারেণ্টিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তিনি জানান, নতুন আক্রান্ত এই ৫ জন নিয়ে তানোরে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে।
সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত নারীর নাম হোসনে আরা খাতুন (৫৮)। তিনি কলারোয়া উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।
এদিকে, সাতক্ষীরায় নতুন করে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরো ৪৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৩৯৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির রাজাপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে সুফিয়া বেগম (৬০) নামে এক নারী ও নলছিটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে লুৎফর রহমান (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তাদের মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবার জানায়, শনিবার বিকেলে জ্বর, বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় রাজাপুরের সুফিয়া বেগমকে। রবিবার তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে জ্বর, বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৮ জুন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় নলছিটির লুৎফর রহমানকে। তার করোনা ধরা পরায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার রাতে গুরুত্ব অসুস্থ হয়ে তিনিও মারা যান।
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত শনিবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের প্রদত্ত তথ্য মতে পিসিআর ল্যাবে ১১ জুলাই কুষ্টিয়ার ৬৭ নমুুনা ছিলো। তাতে জেলার কুমারখালি উপজেলার ৯ জন ও ভেড়ামারা উপজেলায় ২ জন মোট ১১ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলার আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানা বামনপাড়া ও পূর্ব ভেড়ামারা। কুমারখালি উপজেলার আক্রান্ত ৯ জনের ঠিকানা আলাউদ্দিননগর ১ জন, বারুলিয়া ১ জন, খয়েরচারা ১ জন, সেরকান্দি ৩ জন, তিবাড়িয়া ১ জন, ওয়াসি পাণ্টি ১ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘরের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। অতি প্রয়োজনীয় না হলে বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। অনুগ্রহ করে সতর্ক থাকুন, সাবধানে থাকুন।
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর থেকে জানান, জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আইসোলেশন ইউনিটে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নূর মোহাম্মদ করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল বেলা পৌনে ১২টায় হাসপাতালে ভর্তি হন। আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু।
চাঁদপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, আইসোলেশনে মৃত নুর মোহাম্মদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে, চাঁদপুর আরো ৩৪জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৮৫জন। এরমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৬৬জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৯জন, হাইমচরে ২জন, মতলব দক্ষিণে ২জন, ফরিদগঞ্জে ৮জন, হাজীগঞ্জে ১০জন, কচুয়ায় ৩জন।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার দুপুরে ১০১টি রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে ৩৪টি পজেটিভ। ৬৭টি নেগেটিভ।
জেলায় ১ হাজার ২৮৫জন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হচ্ছে; চাঁদপুর সদরে ৪৯৭জন, মতলব দক্ষিণে ১৪৯জন, শাহরাস্তিতে ১২৮জন, হাজীগঞ্জে ১৩০জন, ফরিদগঞ্জে ১৫৩জন, হাইমচরে ৯৩জন, কচুয়ায় ৫৪জন এবং মতলব উত্তরে ৮১জন।
চাঁদপুর জেলায় করোনায় মৃত ৬৫জনের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৯ জন, হাজীগঞ্জে ১৬জন, ফরিদগঞ্জে ৯জন, কচুয়ায় ৫ জন, মতলব উত্তরে ৮জন, শাহরাস্তিতে ৫জন , মতলব দক্ষিণে ৩জন এবং হাইমচরে ১জন।
কুমিল্লা : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ আরও পাঁচজন মারা গেছেন।হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে তিনজন, করোনা ওয়ার্ডে একজন এবং আইসোলেশনে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গতকাল সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম এসব তথ্য জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসহাকের ছেলে শামসুল হক (৮০), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা গ্রামের সুমি আক্তার (২২), বরুড়া উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের মিজানের স্ত্রী হনুফা বেগম (৬০), সদর দক্ষিণ উপজেলার ইসমাইলের ছেলে হাজী ইউনুস (৯০) ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে নুরুল আমিন (৬৫)।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে করোনা উপসর্গ নিয়ে মো. আবির মিয়া নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে শনিবার ১১ জুলাই সকালের দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি গত কয়েকদিন থেকে করোনা উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
নড়াইল : নড়াইলের কালিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রদীপ মÐল (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে উপজেলার বড়দিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের ভুপাল মÐলের ছেলে।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নতুন করে ১৪ জনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মঠবাড়িয়া পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নে ০৭ জন, দাউদখালী ইউনিয়নে ০১ জন, বড় মাছুয়া ইউনিয়নে ০২ জন, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে ০১ জন ও ধানীসাফা ইউনিয়নে ০৩ জন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জনে দাঁড়াল। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৪ জন। বাকী ৭০ জন আইসোলেশনে আছে।
বিরামপুর(দিনাজপুর)উপজেলা সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার একইর মঙ্গলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিরামপুর পৌর সভার রুপালি ব্যাংক সংলগ্ন স্যামসাং মোবাইল ফোনের ডিলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান মিনু চৌধুরি (৪৮)গতকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যায়।
বাউফল উপজেলা (পটুয়াখালী )সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সাত পুলিশ সদস্য ও এক সাংবাদিক পরিবারের দুই সদ্যস্যসহ মোট ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ