Inqilab Logo

ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

এখনো অধরা রিজেন্ট সাহেদ

পাসপোর্ট-হার্ডডিস্ক জব্দ : আরও ২৩ মামলার সন্ধান

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:১১ এএম

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে পলাতক সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করেছে তদন্তকারী দল। তার বিরুদ্ধে আরও ২৩টি মামলার হদিস পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৫৬টি মামলার আসামি প্রতারক সাহেদকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রিজেন্টের সাহেদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। না হলে গ্রেফতার করা হবে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মো. আশিক বিল্লাহ জানান, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাহেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে র‌্যাবের একাধিক টিমও কাজ করছে। আশা করি খুব দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাহেদ আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তিনি দেশেই আছেন। বিদেশে পালিয়ে যেতে পারবেন না। তার স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এছাড়াও গ্রেফতার হওয়া তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি অচিরেই তাকে গ্রেফতার করা যাবে।

তদন্তকারী দলের এক কর্মকর্তা জানান, সাহেদ দেশত্যাগ করতে পারে এমন শঙ্কা ছিল। রিমান্ডে থাকা আসামিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল আবারও অভিযান পরিচালনা করা হয় রিজেন্ট হাসপাতালে। সেখান থেকে সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এখন অন্তত সাহেদ কোনো এয়ারপোর্ট বা বন্দর হয়ে দেশত্যাগ করতে পারবেন না। অভিযানকালে আমরা রিজেন্ট কার্যালয়ের রান্নাঘর থেকে কম্পিউটারের তিনটি হার্ডডিস্ক জব্দ করেছি। এর মধ্যে সাহেদের ল্যাপটপের হার্ডডিস্কও রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়ার শঙ্কায় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি গায়েব করার উদ্দেশে হার্ডডিস্কগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। আমরা হার্ডডিস্ক বিশ্লেষণ করব, ফাইল ডিলিট করা হলে সেগুলো উদ্ধার করে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, বালু-পাথরের ব্যবসা করতে গিয়েও প্রতারণা করেছেন সাহেদ। সেই অর্থ প্রতারণার দায়ে মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সিলেটের জৈন্তাপুরের ব্যবসায়ী শামসুল মাওলার কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকার মালামাল নেয়ার পর পরিশোধ করেন মাত্র ২ লাখ। বাকি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে চেক বাউন্স হওয়ার পর ওই ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেছেন। সেটিও তদন্ত চলছিল। এরকম অর্ধশত ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ আমরা আমলে নিচ্ছি।

একটি সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে ১০ হাজারের বেশি করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। হাসপাতালটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে চুক্তি করেছিল করোনা আক্রান্ত রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দেবে বলে। কিন্তু তারা রোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অংঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এসব প্রতারণার মূলে রয়েছে গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। তবে অভিযানের পর থেকে তিনি পলাতক। তাকে গ্রেফতারে র‌্যাব-পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ