Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

পোল্যান্ডে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ দুদার জয়ে উদ্বিগ্ন ইউরোপ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০২০, ৭:১৪ পিএম

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে জয় পেয়েছেন পোল্যান্ডের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বিতর্কিত নেতা আন্দ্রেই দুদা। তার জয়ে বিশ্বজুড়ে চরম জাতীয়তাবাদী, পপুলিস্ট শক্তি বাড়তি উৎসাহ পাবে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। এর ফলে মধ্য ইউরোপের এই দেশটির সাথে ইইউ’র সংঘাত আরও বাড়তে পারে।

পোল্যান্ডের মানুষের মধ্যেও আদর্শগত ভিত্তিতে বিভাজন সম্পর্কে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুদার জয় অ্যামেরিকার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উপরও প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়েও জল্পনাকল্পনা চলছে। ট্রাম্প এর ফলে বাড়তি উৎসাহ পাবেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ দেখছেন না পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্বের যে সব দেশে বর্তমানে চরম জাতীয়তাবাদী, বিতর্কিত শক্তির হাতে ক্ষমতা রয়েছে, পোল্যান্ড সেগুলির মধ্যে অন্যতম। তাই সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল। রোববার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার এ দিন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এখনো সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা না হলেও ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, কনজারভেটিভ-ন্যাশনালিস্ট ল এন্ড জাস্টিস পার্টির নেতা দুদা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। তার প্রতিপক্ষ ওয়ারশ শহরের মেয়র ও উদারপন্থি দল সেন্টার-রাইট সিভিক কোয়ালিশনের প্রার্থী রাফাল ত্রজাকভস্কি পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। ফলে অল্পের জন্য জিতে আবারও ক্ষমতা থাকা নিশ্চিত করেছেন দুদা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইইউ-র মৌলিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করার অভিযোগে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মতো দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দুদা এমন ‘ইললিবারাল ডেমোক্র্যাসি’ বা উদারপন্থা-বিরোধী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রবক্তা। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগে ইইউ তার সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে দুদার ক্ষমতায় থাকা ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নিশ্চিত হলো। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে এই দল প্রথম ক্ষমতায় এসেছিল। সংসদে যথেষ্ট আসন না থাকায় দলটি প্রেসিডেন্টের ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। উদারপন্থি প্রার্থীর জয় হলে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতো।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুদার জয় চূড়ান্ত হওয়ায় পোল্যান্ডে বিচার বিভাগের পর সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাও খর্ব করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোও দুর্বল করার প্রচেষ্টা হবে বলে বিরোধীরা মনে করছে। সংসদে বিরোধী পক্ষের শক্তি আগেই খর্ব করা হয়েছে। এমন স্বৈরাচারী প্রবণতা পোল্যান্ডের সঙ্গে ইইউ-র সংঘাত আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

বিরোধী উদারপন্থি শিবিরের প্রার্থী ত্রজাকভস্কি এমন অবস্থাতেও হাল ছাড়তে প্রস্তুত নন। তিনি বলেন, আদালতের মুক্তি, সংবিধান সুরক্ষা ও নারী অধিকার নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তার মতে, একবার জেগে ওঠার পর আবার ঘুমিয়ে পড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সূত্র: ডয়চে ভেলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ