Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মৃত্যু আরও ৩৯, শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ২৪.৯৫ শতাংশ

দেশে করোনাভাইরাস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০২০, ১২:৪৯ এএম

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২ হাজার ৪২৩টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও তিন হাজার ৯৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। এ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনে দাঁড়াল। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৩৯ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দুই হাজার ৩৯১ জন। এদিকে দেশে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা কমায় কমেছে রোগী শনাক্তের হার। সা¤প্রতিক সময়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে বলে স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) প্রশাসন ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৯৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জন। মারা গেছেন আরও ৩৯ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও নয় জন নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে একজনের বয়স ০-১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১১-২০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ৪১-৫০ বছরের মধ্যে, ১৩ জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৬১-৭০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ও একজনের বয়স ৮১-৯০ বছরের মধ্যে। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন দুই হাজার ৩৯১ জন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৭০৩ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯৮ হাজার ৩১৭ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নয় লাখ ৫২ হাজার ৯৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে মোট পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর মোট শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন, কোয়ারেন্টানের তথ্য সম্পর্কে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬৫ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে। আর ছাড়া পেয়েছেন ৭১৩ জন। হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ৪০১ জনকে। ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ২৭৩ জন।

নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কমার কারণে হিসেবে তিনি বলেন, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমে যাবার কারণ হিসেবে অনেকগুলো ব্যাখ্যা দেয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, একজনের দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার দরকার হচ্ছে না। সুস্থতা ঘোষণার জন্যও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার দরকার হচ্ছে না। এ জন্য পরীক্ষার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করার জন্য একটি ফি নির্ধারণ করেছে। এই কারণেও পরীক্ষা কিছুটা কমতে পারে। যেসব বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সেখানে আগে ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময় নির্দিষ্ট করা ছিলো। কিন্তু ৩টার পরেও অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন নমুনা দেয়ার জন্য। এখন দুপুর ১টার পরেই বুথগুলো শূণ্য হয়ে যায়। নমুনা পরীক্ষা করার জন্য কেউ আসে না। তাছাড়া মানুষের মধ্যে আতঙ্ক অনেকটাই কমে গেছে। মানুষ অনেকটা স্বস্তিতে আছে বলা হয়। তাই পরীক্ষা করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ কমে গেছে।

ডা. নাসিমা সুলতানার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালের ১০ হাজারের বেশি বেড এখনো ফাঁকা থাকছে। সারা দেশে ১৪ হাজার ৯৪৫ টি সাধারণ ও ৩৯৪ টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বেডে ১০ হাজার ৪৭৯টি ও ১৮৮ টি আইসিইউ বেড ফাঁকা আছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ