Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি

বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী

কুড়িগ্রাম থেকে শফিকুল ইসলাম বেবু | প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০২০, ৯:৪১ এএম

কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। আজ সকালে সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮১ সেন্টিমিটার, তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫৬টি ইউনিয়নের ৫শতাধিক গ্রামের প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে জেলা-উপজেলা শহরের সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বানভাসি মানুষের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। উঁচু রাস্তা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে নৌকার অভাবে অনেকেই নিরাপদ স্থানে যেতে পারছেনা।
ধরলা নদীর পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার সারডোবে একটি বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, বাঁধটি ভেঙে পানি প্রবল বেগে ধেয়ে আসে। একে একে ঘরবাড়ি, গাছপালা বিধস্ত হতে থাকে। হাঁস মুরগী, আসবাবপত্র, ধান-চালসহ অনেক মালামাল ভেসে যায়। বাঁধটি ভাঙার ফলে কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা, ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙামোড়, বড়ভিটা ও নাগেশ^রী উপজেলার নেওয়াশি ইউনিয়নের মোট ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে গবাদীপশু নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন। মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে নৌকা পাওয়া যাচ্ছেনা। বাঁধের এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ফুলবাড়ী উপজেলা সদর ও কুড়িগ্রাম জেলা সদরে যাতায়াত করতো। যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ময়নুল ইসলাম জানান, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারের জন্য সেখানে দু’টি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, বাঁধটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে বিকল্প বাঁধটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছিল। কিন্তু পানির প্রবল চাপে শেষ পর্যন্ত বাঁধটি ভেঙে যায়।
জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। ৪০০ মে. টন চাল, ১১ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।



 

Show all comments
  • মোঃ আকরাম হোসাইন ১৪ জুলাই, ২০২০, ২:৩২ পিএম says : 0
    আমার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মানুষসহ আশপাশের ইউনিয়নের অসহায় খেটে খাওয়া মানুষগুলা বন্যায় কবলে পড়ে নানা প্রকার বিপযয় এ আসে।আথিক ভোগান্তিতে বিশদ্ধ খাবার বিশদ্ধ পানি, ইত্যাদির সংকট দেখা দিলে এখন পযন্ত কোনো প্রকার সহয়তা আসেনি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা পরিস্থিতি


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ