Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

আরিফ-সাবরিনা বিরোধের নেপথ্যে টাকার ভাগ

মামলা ডিবিতে স্থানান্তর জেকেজির আস্তানা থেকে সাড়ে তিন হাজার পিপিই উদ্ধার

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০২০, ২:০৭ এএম

করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতির মামলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল সকালে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। আলোচিত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় ডা. সাবরিনাসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গত রোববার সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনে আনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সোমবার চার দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেখানে শুনানী শেষে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আরিফ-সাবরিনা বিরোধের নেপথ্যে টাকার ভাগাভাগী। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে যে টাকা আয় করা হতো তা নিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরে সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলছিলো। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সনদ জালিয়াতির টাকার ভাগ নিয়ে আরিফ ও সাবরিনার মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সাবরিনাকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক দেন আরিফ। কিন্তু ওই চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। সাবরিনা তখন আরিফকে উকিল নোটিশও পাঠান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১ টার দিকে ডা. সাবরিনাকে নেয়া হয় ডিবি কার‌্যালয়ে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদেও ডা. গাবরিনা জেকেজির সঙ্গে তার সম্পৃক্তার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা চেয়ারম্যান মনে করত। নথিপত্রে কোথাও তার নাম নেই। তার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঘণিষ্ঠতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ জানান, স¤প্রতি জেকেজির ব্যাপারে বিশদ তদন্ত করতে গিয়েই উঠে আসে ডা. সাবরিনা ও তার প্রতারক স্বামী আরিফ চৌধুরীর নাম। এরপর গত রোববার ডা. সাবরিনাকে হৃদেরাগ হাসপাতাল থেকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তেজগাঁও থানার প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তিন দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে এরই মধ্যেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জেকেজির নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পেতে কারা কারা তাকে সহযোগিতা করেছে তাদের অনেকেই নাম বলেছেন। সরকার সমর্থক চিকিৎসক সংগঠনের নেতার নামও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সূত্র জানায়, জেকেজির কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। এরপরও কিভাবে প্রতিষ্ঠানটি করোনা নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পেল তার তদন্ত চলছে। সাবরিনার মোবাইল ফোন চেক করে দেখা যায় কমপক্ষে ৭টি ক্ষুদে বার্তায় জেকেজির চেয়ারম্যান লিখেছেন। সাবরিনা বিভিন্ন মানুষকে ফোন করেও জেকেজি ও ওভালগ্রæপের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা আরিফ গ্রেফতার হওয়ার পর সাবরিনা তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে বহু তথ্য মুছে ফেলেছেন। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।

সাড়ে ৩ হাজার পিপিই উদ্ধার : জেকেজিকে দেয়া নিরাপত্তা সুরক্ষাসামগ্রীর (পিপিই) মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৬টি গতকাল তিতুমীর কলেজস্থ আস্তানা থেকে উদ্ধার করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। জেকেজির কর্মকর্তারা গ্রেফতার হওয়ার পরে এই পিপিইগুলো তিতুমীর কলেজে ফেলে পালিয়ে যায় অন্য কর্মীরা। স্বাস্থ্য অধিদফতর সেগুলো ফেরত আনার বিষয়টি জানিয়েছেন সংস্থাটির গুদাম কর্মকর্তা জিনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পিপিইগুলো জেকেজিকে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে দেয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানার নির্দেশে এগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। পিপিই ছাড়াও করোনা নমুনা সংগ্রহ বক্স, স্প্রে বোতল ১১টি, স্যালাইন চারটি, মাল্টি প্লাগ দুটি, সফট স্ট্রিপ ৩ হাজার ৬০০টি, সু কাভার ৪৫০টি, হেড ক্যাপ ৯০০টি, বায়োহ্যাজার্ড ব্যাগ ৪০০টি, ক্যাটলি ও চশমা ৫০টি উদ্ধার করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন