Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি

খলিলুর রহমান | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০৫ এএম

রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গতকাল ভোরে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করার পর হেলিকপ্টারে করে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে নিয়ে রাজধানীতে দিনভর অভিযান চালায় র‌্যাব। বিকেলে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে সাহেদ গ্রেফতারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই তার হাতে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে তারা প্রতারক সাহেদের সুষ্ঠু বিচার করে সর্বোচ্চ শান্তির দাবি করেছেন।

র‌্যাব জানায়, গতকাল ভোর ৫টা ১০ মিনিটের সময় সাতক্ষীরা দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র‌্যাবের হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয় তাকে। সকাল ৯টায় তেজঁগাওস্থ পুরাতন বিমানবন্দরে র‌্যাবের হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। পরে সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর উত্তরাস্থ র‌্যাব সদর দপ্তরে। সকাল পৌনে ১০টায় সাহেদকে নিয়ে র‌্যাবের সদর দপ্তরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে নিয়ে উত্তরা রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর বাসায় অভিযানে যায় র‌্যাব।

এর আগে ১২ টা ১৫ মিনিটে ওই ভবনে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পরে আবার র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে নেওয়ার পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এসময় বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে বহনকারী র‌্যাবের হেলিকপ্টার ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে পৌঁছার পর র‌্যাবের এডিজি (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার সাংবাদিকদের জানান, সাতক্ষীরায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাত ২টা থেকে অভিযান শুরু করা হয়। পরে গতকাল ভোর ৫টা ১০ মিনিটে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এর আগে বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বেশ কয়েকবার সাহেদের কাছাকাছি গিয়েও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে, সাহেদকে গ্রেফতার করায় প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে আইনের সুষ্ঠু বিচার করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের এক নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসার মালিক মো. ফিরোজ আলম চৌধুরী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আমি সকালে সাহেদ গ্রেফতারের খবর শুনেছি। তাকে গ্রেফতার করায় আমার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

তিনি বলেন, সাহেদ আমার ভবন ভাড়া নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখা পরিচালনা করে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে ভাড়া না দিয়েই সে হাসপাতালটি পরিচালনা করেছিল। এ ব্যাপারে আমি একাধিকবার নোটিশও দিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উল্টো আমাকে হুমকি দিত সে। তার কাছে আমি ভাড়া বাবদ ৪৫ লাখ টাকা পাব।

তিনি আরো বলেন, আমার মত আরো অনেকেই তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করায় আমি খুশি হয়েছি। সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ।

জাকির হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগি দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আমি সাহেদের কাছে টাকা পাবো। টাকা চাইলে সে হুমকি দিত। তাই ভয়ে কিছু বলতাম না। শুধু গ্রেফতার করলে চলবে না, আইনের মাধ্যমে তার সর্বোচ্চ শান্তি চাই আমি।

তবে প্রতারক সাহেদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগিদের সহায়তা করবে র‌্যাব। গতকাল বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে ডিজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগিরা আমাদের কাছে আসছেন তাদের আমরা আইনি পরামর্শ দিচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন