Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

নোয়াখালীর কবিরহাটে মানবপাচারকারীর ভয়ে বাড়ী ছাড়া এক যুবক

নোয়াখালী ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০২০, ৭:৩২ পিএম

কবিরহাট উপজেলায় ইতালি গমনেচ্ছুক এক যুবক মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতারনা ও নির্যাতনের শিকার মো: ইসমাইল হোসেন (২৫)। উপজেলার চিরিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কবিরহাট থানা পুলিশ অীভযোগটি তদন্ত করছে।

ইসমাইল হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মৃত মজিবুল হকের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৫৫) ও মফিজের জামাই বাবলু মিয়ার (৩০) মাধ্যমে ৮লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যাওয়ার চুক্তি করি। টাকা দেওয়ার পর তারা আমাকে ঢাকা নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম প্রধান কামাল প্রকাশ হাজী কামালসহ আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের কাজ কর্মে আমি বুজতে পারি এরা বড় ধরনের মানব পাচারকারী চক্র। এরপর তিনি নোয়াখালী ফিরে এসে ইতালি না যাওয়ার কথা মফিজকে জানায়।

তিনি বলেন, এরপর থেকে মফিজ ও তার ভাগিনা হাতিয়ার আকবর হোসেন (দালাল) আমার সাথে ঝামেলা শুরু করে। একপর্যায়ে মানব পাচারকারী মফিজ আমাকে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার ৮লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোন টাকা ছিল না। এ ঘটনায় আমি চেক প্রত্যাখ্যান ও প্রতারনার অভিযোগ এনে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত নোয়াখালীতে একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে গত ২০মে দুপুরে নোয়াখালী আদালত এলাকা থেকে মফিজ উদ্দিন ও তার জামাতা বাবলু এবং বাবুল মিয়া মোটরসাইকেল যোগে আমাকে অপহরন করে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে নিয়ে ২৪ঘন্টা একটি ঘরে আটক করে মারধর করে আমাকে দেওয়া ডিজঅনার হওয়া ৮লাখ টাকার চেক ও ১৫ টি সাদা স্ট্যাম্পে (লেখা বিহীন স্ট্যাম্প) স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। ঘটনায় গত ৮জুন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মফিজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়ে এখন নিজের এখন নিজের জীবন বাঁচাতে নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ইসমাইল।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ০১৮৭৯৭৫০৫৯৪ নাম্বারে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কবিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুল কাদের বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তবে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মাফিজ উদ্দিনের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। অভিযুক্ত মো: মোফিজ উদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযোগকারীও এলাকায় নেই।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযুক্ত মো: মফিজ উদ্দিন কোন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যকিনা তা খতিয়ে দেখতে নোয়াখালী সিআইডি কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য কবিরহাট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মানবপাচারকারী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ