Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য ই-চালান চালু করা হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ থাকছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০২০, ৮:২১ পিএম

আর ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি নয়। এখন ঘরে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেই অনলাইনে ভ্যাটের (ভ্যাট, টার্ন ওভার কর, সম্পূরক শুল্ক, জরিমানা, বিলম্ব সুদ) টাকা জমা দেয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে এইচএসবিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ই-পেমেন্টে ভ্যাটের টাকা জমা দিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশের সব ব্যাংকে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে।

বৃহষ্পতিবার (১৬ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ই-পেমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন কম্পট্রলার এন্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবীর, ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এ সময় কিছু চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে চাই। তার অধিকাংশ করদাতাদের অনলাইনভিত্তিক সেবা দেয়া। এর অংশ হিসেবে ভ্যাটের ই-পেমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে। এটির ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে সমাধা করে নেব। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ব্যাংককে ই-পেমেন্ট মডিউলে যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এ বছর থেকেই ই-চালানের মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কর নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী বছর থেকে ই-চালান বাধ্যতামূলক করা হবে। তার আগে কয়েকটি কর সার্কেলে পাইলটিং করা হবে। সফল হলে দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার অংশ হিসেবে ভ্যাট আইনটি করা হয়েছিল। এ আইনের মূল ভিত্তি ছিল অটোমেশন। এ জন্য ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পও ঝিমিয়ে চলছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পার করে অনলাইন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা হয়। আইন বাস্তবায়নের পর বিভিন্ন মডিউল বাস্তবায়ন করে চলছি। ইতিমধ্যেই ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেমের (আইভাস) ১৬টি মডেলের মধ্যে ৩টি মডিউল বাস্তবায়ন করা হয়ে গেছে। আর কয়েকদিন পরে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে। তার আগে প্ল্যাটফর্মে ত্রুটি-বিচ্যুতি শেষ করবো। ইএফডি কবে নাগাদ চালু হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ইএফডি স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। করোনার কারণে কিছু পিছিয়ে গেছে। করোনার কারণে বিদেশি কনসালট্যান্ট ও ভেন্ডররা আসতে পারেনি। আবার তারা কাজ শুরু করেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা পাইলটিং করবো। কনসালট্যান্ট এখনো আসেনি। সব রেডি আছে। আশা করি আগস্টের মধ্যে আমরা পাইলটিংয়ে যেতে পারবো। এক লাখ মেশিন দিয়ে পাইলটিং করা হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ই-পেমেন্ট এনবিআরের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যা ব্যবসার পরিপালন খরচ কমাবে এবং ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। ই-পেমেন্টের মাধ্যমে করদাতা ঘরে বা যে কোন স্থানে বসে তার ব্যাংক হিসাব হতে সরাসরি সরকারী কোষাগারে জমা করতে পারবেন। আগের মতো নগদ অর্থ বা পে-অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে যেতে হবে না। অর্থাৎ কর পরিশোধে সময় কম লাগবে। পাশাপাশি এনবিআরও আইভাস সিস্টেম থেকে নির্ভুল করের হিসাব পাবে। ট্রেজারি চালান যাচাই বিড়ম্বনা দূর হবে এবং সর্বোপরি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন