Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ০৮ সফর ১৪৪২ হিজরী

অবৈধ পার্কিংয়ে কমছে গতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

কামাল আতাতুর্ক মিসেল | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনায় গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেকে গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছে না। আর এসব গাড়ি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পার্কিং করায় যানজটসহ দুর্ঘটনার প্রবণতা বেড়েই চলছে। ফলে মহাসড়কের গতি দিন দিন কমছে।

মহাসড়ক কিংবা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখা সড়কেও গাড়ি পার্কিং নিষেধ থাকলেও তোয়াক্কা করছে না পরিবহন শ্রমিকরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে বড় বড় ট্রাক-লরি। মহাসড়কের সীতাকুÐ অংশে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করতে দেখা যায়। বড় দারোগারহাট থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে অনেক স্থানে এভাবে যানবাহন পার্কিং করে রাখা হয়েছে।

কুমিরা বাইপাস, কুমিরা বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেট এলাকায়, টোবাকো গেট, সলিমপুর ফকিরহাট, পাক্কা রাস্তা মাথাসহ অন্তত ১০টি স্থানে প্রতিদিন অসংখ্য মালবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান ইত্যাদি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে এসব স্থানে যানজটসহ প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

সীতাকুÐ থেকে চট্টগ্রামগামী বাস সেইফ লাইনের চালক মো. কামরুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, গাড়ি চালাতে গিয়ে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হই। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে মহাসড়কের উপরেই সবসময় ভারী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে। এতে মহাসড়কের মাঝপথ দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। মহাসড়ক নিরাপদ করতে এসব অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার জোর দাবি জানান তিনি।

বারো আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরাও এসব অবৈধ পার্কিং নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিছুদিন পরপর যানবাহন মালিক ও শিল্প কারখানা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে সভা করেছি। তারা প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন, কারখানার সামনের মহাসড়ক বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনো যানবাহন রাখবেন না। কিন্তু এখনো প্রতিশ্রæতির বাস্তবায়ন হয়নি। যদি তারা নিজ দায়িত্বে পার্কিং বন্ধ না করেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেও গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। এতে ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক ও মহাসড়কের প্রায় ১ কি.মি. জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ গাড়ির পার্কিং। মহিপাল থেকে জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের স্থায়ী কাউন্টার না থাকায় সড়ককে স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে তারা।

সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহিপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনী পৌরসভার তত্ত¡াবধানে একটি বাসস্ট্যান্ড চালু ছিল। এ স্ট্যান্ড ইজারা দিয়ে বার্ষিক মোটা অঙ্কের টাকা নেয় পৌরসভা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে সে স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে স্ট্যান্ডটিতে এখন আর গাড়ি ঢোকাতে অনীহা চালকদের।
ফেনী থেকে নোয়াখালী সুগন্ধা কিং ও সুগন্ধা দ্রæতযান সার্ভিসের প্রায় ১শ’ বাস, লক্ষীপুরগামী যমুনা, নোয়াখালী রোডের যাত্রীসেবা, বসুরহাট এক্সপ্রেস, বারইয়ার হাটগামী বাস, সোনাগাজীগামী বাস বর্তমানে মহিপাল ফ্লাইওভার ছাড়াও উত্তর দিকে রেলওয়ে ওভারপাস আর দক্ষিণ দিকে হাজী নজির আহম্মদ সিএনজি ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত স্ট্যান্ড করে রাখা হয়েছে। লোকাল গাড়ি ছাড়া দূরপাল্লার বেশিরভাগ যানবাহন মহিপালের ৬ লেনের ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করে। ফলে নিচের চার লেনের সড়কটিকে পার্কিং আর স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে বাস মালিক ও চালকরা।

সড়কে স্ট্যান্ড করাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির নাম বিক্রি করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও লাইন সমিতি। অবৈধ স্ট্যান্ড টিকিয়ে রাখতে গাড়ি প্রতি নামে-বেনামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। সুগন্ধা কিং, সুগন্ধা দ্রæতযান সার্ভিস ও যমুনা পরিবহন থেকে গাড়ি প্রতি দৈনিক ২শ’ টাকা আদায় করা হয়। এদিকে মহিপাল থেকে স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস ছাড়াও বিভিন্ন রুটে কয়েক হাজার সিএনজি চলাচল করে। নোয়াখালীমুখী মহিপাল সড়কের একাংশকেই এসব গাড়ির মালিক ও চালকরা স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে এসব অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে মাসোয়ারা নেয় পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা এসব গাড়ি দেখেও না দেখার ভান করে।

এ বিষয়ে জেলা ট্টাফিক পুলিশের (টিআই) প্রশাসন মো. আলাউদ্দিন মাসোয়ারা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সাময়িকভাবে সেখানে গাড়ির স্ট্যান্ড করা হয়েছে। তবে মেইন রোডের ওপর কোনো গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ নেই। পার্কিং অবস্থায় গাড়ি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফেনী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বাবলু জানান, মহিপালে স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের ব্যাপারে বার বার পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হলেও কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে গাড়িগুলো রাস্তায় পার্কিং করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ