Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

খুলনা শিপইয়ার্ডের ভাঙন রোধ প্রকল্প এগিয়ে চলছে

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনা সংক্রমণে পদ্মা এবং কির্তনখোলার ভয়াবহ ভাঙন থেকে বরিশাল ও শরীয়তপুরের বিশাল এলাকা রক্ষা প্রকল্পের অগ্রগতি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও পূর্ণদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ১ হাজার তিনশ’ কোটি টাকার সম্পূর্ণ দেশিয় তহবিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর পক্ষে খুলনা শিপইয়ার্ড। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এ দুটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে বরিশাল মহানগরী ছাড়াও শরীয়তপুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো কির্তনখোলা ও পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খুলনা শিপইয়ার্ড সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক হাজার ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরার প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকা পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। ফলে গত বছরের মত চলতি বর্ষা মৌসুমেও পদ্মার ভাঙনের তীব্রতা হ্রাস করে তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শরীয়তপুরের ভাঙন রোধ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় ৪১ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের লক্ষ্য অতিক্রম করে ৪২ লাখেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে।
বিভিন্ন মাপের ৩২ লাখ সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ব্লক তৈরি করে জিও ব্যাগের ওপর প্লেসমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মডেল স্ট্যাডি অনুযায়ী পদ্মার ভাঙন কবলিত এলাকার বিপরীতে জেগে ওঠা চরসমূহ পুনর্বিন্যাস করতে প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রায় ৪৭ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করেছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে ভিন্ন একটি প্রকল্পের আওতায় বরিশাল মহানগরী সংলগ্ন বেলতলা ও চরবাড়িয়ার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকার ভাঙন রোধে কাজ করছে খুলনা শিপইয়ার্ড। প্রায় সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মধ্যে ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩.৩ কিলোমিটার এলাকার ভাঙন রোধসহ নদীর গতিপথ পরিবর্তনে ড্রেজিং করছে। তবে গত ৩০ এপ্রিল কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টকে ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রায় ১ হাজার ফুট স্টিল সিট পাইলিংয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের আওতায় ৪টি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরিশাল নদী বন্দরের অপর পাড় চরকাউয়া এলাকায় আরো দুই কিলোমিটার এলাকা ভাঙন রোধে কাজ করছে।
ইতোমধ্যে শিপইয়ার্ড প্রকল্প এলাকায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন করেছে। এসব জিও ব্যাগের ওপরে বিভিন্ন সাইজের প্রায় সাড়ে ১২ লাখ সিসি ব্লক প্লেসমেন্ট করার কথা রয়েছে। যার মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ ব্লক তৈরি ও প্লেসমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে ভাঙন কবলিত এলাকায় কির্তনখোলা নদীর স্রোত পরিবর্তনে জেগে ওঠা চরসমূহ পুনর্বিন্যাস করে প্রবাহ সহজ করতে প্রায় ৩৯ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কির্তনখোলা নদীর মূল প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্ত করে ভাঙনের গতি বৃদ্ধিকারী চরসমূহের প্রায় ৩৩ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুলনা-শিপইয়ার্ড
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ