Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

জনবল সঙ্কটে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীদের নাভিশ্বাস

কুষ্টিয়ার ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বারবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগান্তিতে আছে কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী চার জেলার মানুষ। হাসপাতালটিতে ৫৮ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৩৩ জন চিকিৎসক। বছর খানেক আগে চিকিৎসা সেবাই খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং সারাদেশে রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে রোগীদের অভিযোগের অন্ত নেই। ১৯৬৩ সালে স্থাপিত এ হাসপাতালের শুরুতে শয্যা সংখ্যা ছিল ১৫০। ২০০৫ সালে উদ্বোধন হলেও ২০১০ সালে হাসপাতালটিতে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১১ সালে কুষ্টিয়া মেডিকেল স্কুলে (ম্যাটস) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ চালুর দুই বছর পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ী ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ফলে এখন শুধু কুষ্টিয়া নয় আশপাশের জেলা ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ী জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য আসে এ হাসপাতালে। কিন্তু সে অনুসারে বাড়েনি লোকবল এবং সেবার মান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, জনবল কাঠামো অনুযায়ী হাসপাতালে সব মিলিয়ে ৫৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা। সেখানে আছে মাত্র ৩৩ জন। এছাড়া সেবিকা ও বিভিন্ন বিভাগের টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য ৭১টি পদেও লোকবল নেই। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিনিয়ত এখানে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে আগত প্রায় ১৫শ’ রোগীর সেবা দিতে অন্তত ১৫ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও তা সামলাতে হচ্ছে মাত্র ৫ জন চিকিৎসককে দিয়ে। জরুরি বিভাগের ৪টি পদ থাকলেও পদ শূন্যতায় মাত্র একজন চিকিৎসককে দিয়ে কাজ চালাতে হয়। সার্জিক্যাল বিভাগে কনসালটেন্ট চিকিৎসকের ৩টি পদের মধ্যে এক জনকে দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে। হাসপাতালের একমাত্র মেডিসিন কনসালট্যান্ট সালেক মাসুদ এক বছর আগে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে বদলি হয়েছেন। এরপর এখন পর্যন্ত ওই পদে কোনো কনসালট্যান্টকে দেয়া হয়নি। প্রায় দেড় বছর আগে গাইনি কনসালট্যান্ট রুমী ফরহাদ আরা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে বদলি হলেও সেখানে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। দুই বছর ধরে নেই অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট। ডা.তাপস কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে মাত্র ৩টি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। রোগীর যা চাপ তাতে আরও ৩টি অপারেশন থিয়েটার প্রয়োজন। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কেবল মাত্র কুষ্টিয়া জেলার রোগী হলেও সেবার মান আরেকটু বাড়ানো যেত। কিন্তু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় এখানে আসছেন। কিন্তু এদের বেশিরভাগের চিকিৎসা নিজ নিজ জেলা হাসপাতালেই করা সম্ভব। এছাড়া শল্য চিকিৎসার রোগীদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। সিরিয়ালের জটিলতায় দিনের পর দিন ধরে ঘুরতে থাকার অভিযোগ রয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে ময়লা-আবর্জনার গন্ধে রোগীরা নাক বন্ধ করে হাঁটছেন। পরিষ্কার করার লোক নেই। এছাড়া টয়লেট থেকে ময়লা পানি বের হয়ে ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ছে। শৈলকুপা ত্রিবেনি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ওলিয়ার রহমান গেন্দা নামের নামের এক রোগী বলেন, অপারেশন করার কথা ছিলো ভর্তির এক সপ্তাহ পর কিন্তু ২০ দিন পরেও অপারেশনের সিরিয়াল পায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, ডা. আজিজুন্নাহার এখানে যোগ দেয়ার পর সেবা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তার সময়ে হাসপাতালটি সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রোগীদের সেবার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন তিনি। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বেড়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে। চিকিৎসক সঙ্কট থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সেবা পেতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় অবহিত করেছি বলে তিনি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জনবল সঙ্কটে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীদের নাভিশ্বাস
আরও পড়ুন