Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮, ০৪ রমজান ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

জোরপূর্বক বিয়ে : বাংলাদেশ থেকে আইরিশ তরুণী উদ্ধার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০২০, ৯:১৮ পিএম

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আয়ারল্যান্ডের ২১ বছর বয়সী এক যুবতী আমালাকে (প্রকৃত নাম নয়) ডাবলিন থেকে বাংলাদেশে এনে জোর করে বিয়ে দেন তার পিতামাতা। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন বিয়ের পর আয়ারল্যান্ডে রেখে আসা তার বয়ফ্রেন্ড তাকে উদ্ধারে তৎপর হন। আইরিস সরকার ও বৃটিশ সরকারের সংশ্লিষ্টতায় এক আন্তর্জাতিক উদ্ধার মিশনে উদ্ধার করা হয় তাকে। আমালা ফিরে যান আয়ারল্যান্ডে।–সাউথ এশিয়ান মনিটর, দ্য হেরাল্ড

পুরো একটি ডিটেকটিভ কাহিনীর মতো ঘটে গেছে ঘটনা। আমালাকে উদ্ধারে তার প্রেমিক কি ব্যবস্থা নিয়েছেন বা আমালা তার আইরিশ বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন- এটা কোনোভাবেই বুঝতে পারেনি তার ‘স্বামী’ বা তার পরিবার। এমন ঘটনা আয়ারল্যান্ডে এটাই প্রথম। এ খবর দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের অনলাইন হেরাল্ড। এতে বলা হয়, দেশে ফিরে আসার আগে অনিচ্ছায় আমালাকে দুই মাস ঘর করতে হয় ওই বাংলাদেশি ‘স্বামীর’ সঙ্গে। এ সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে। হেরাল্ডকে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আটকা পড়েছিলেন তিনি। এখান থেকে আয়ারল্যান্ডে ফিরে যেতে পেরেছেন আন্তর্জাতিক এক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে। এই উদ্ধার অভিযানটি ছিল ব্যাপকভাবে ছদ্মবেশে, গোপনীয়তার সঙ্গে। আমালার আইরিশ বয়ফ্রেন্ড অনলাইনে ডিটেকটিভের মতো কাজ করেছেন। আর ব্রাকগ্রাউন্ডে ভিন্নভাবে কাজ করেছে ওই দুটি দূতাবাস। চূড়ান্ত দফা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বুলেটপ্রুফ গাড়ি।

আমালার বয়স যখন ২০ বছর, তখন তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তার পরিবার। তাকে জানানো হয় তার দাদী বা নানী খুব অসুস্থ। তাকে দেখতে আসছেন তারা। কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর আমালার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় পরিবারের সদস্যরা। তাকে তাদের পছন্দমতো বিয়ে করতে চাপ দেয়। জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয় এক বাংলাদেশির সঙ্গে। আমালা বলেন, তার এই ‘স্বামী’ যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষায় তিনি কথা বলেন না। ওই স্বামীর সঙ্গে তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাপ প্রয়োগ করে তার স্বামী ও নিজের পরিবার।

আমালা বলেন, আমি যতটা পেরেছি, আমাকে ততটা কম ধর্ষণ করতে দিয়েছি। এটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আমার মনে আছে তার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, সেখানে আমি ছিলাম না। ক্ষোভে আমি কাঁদতে পারিনি। কিন্তু আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরেছে। পুরোপুরি অসাড় হয়ে থাকতাম আমি। এমন (ধর্ষণ) বহুবার হয়েছে। ঘনঘন হয়েছে। প্রায়দিনই হয়েছে। আমালাকে বিয়ে দিয়ে তার পিতামাতা ফিরে যান আয়ারল্যান্ডে। আমালাকে পাসপোর্টবিহীন রেখে যান বাংলাদেশে। ভাগ্যে কি ঘটে গেছে তা মনে করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। আমালা বলেন, আমার মনে হতে লাগলো, এখানেই আমাকে চিরদিন কাটাতে হবে। এক সময় আমি ভাবলাম আত্মহত্যাই ভাল হবে।

এমন সময়ে তিনি আয়ারল্যান্ডে রেখে আসা তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। বান্ধবীর এমন অবস্থা জেনে তার বয়ফ্রেন্ড জোরপূর্বক বিয়ে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন বৃটিশ সরকারের ফোর্সড ম্যারিজ ইউনিট নামে একটি ইউনিট আছে। আয়ারল্যান্ডে এমন কোনো ইউনিট নেই। আমালার বয়ফ্রেন্ড বৃটিশ সরকারের ওই ইউনিটকে সব জানান। ফলে বৃটিশ সরকার আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র বিষয়ক ডিপার্টমেন্টকে আমালার কাহিনী জানায়। এরপর আমালাকে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদে উদ্ধারে গোপনীয়তা অবলম্বন করেন বৃটিশ কর্মকর্তারা। তাকে উদ্ধার করে তারা একটি নিরাপদ ভবনে রাখেন। সেই ভবনের পিছনের দরজা দিয়ে তাকে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরে। এরপর বিমানে করে উড়ে যান আয়ারল্যান্ডে। আয়ারল্যান্ডে পৌঁছার পর একজন পুলিশ সদস্য তাকে প্রহরা দেয়। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নারীদের আশ্রয়শিবিরে। আমালা বলেছেন, আয়ারল্যান্ডে জোরপূর্বক বিয়ের বিষয়ে আরো ভালভাবে জানাশোনা থাকা উচিত। এই জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ধর্মের চেয়ে প্রথাগত, সাংস্কৃতিক কারণে বেশি ঘটছে ।

আয়ারল্যান্ডের ২১ বছর বয়সী  এক যুবতী আমালাকে (প্রকৃত নাম নয়ডাবলিন থেকে বাংলাদেশে এনে জোর করে বিয়ে দেন তার পিতামাতা। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন বিয়ের পর আয়ারল্যান্ডে রেখে আসা তার বয়ফ্রেন্ড তাকে উদ্ধারে তৎপর হন। আইরিস সরকার  বৃটিশ সরকারের সংশ্লিষ্টতায় এক আন্তর্জাতিক উদ্ধার মিশনে উদ্ধার করা হয় তাকে। আমালা ফিরে যান আয়ারল্যান্ডে।সাউথ এশিয়ান মনিটর, দ্য হেরাল্ড

পুরো একটি ডিটেকটিভ কাহিনীর মতো ঘটে গেছে ঘটনা। আমালাকে উদ্ধারে তার প্রেমিক কি ব্যবস্থা নিয়েছেন বা আমালা তার আইরিশ বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেনএটা কোনোভাবেই বুঝতে পারেনি তার ‘স্বামী’ বা তার পরিবার। এমন ঘটনা আয়ারল্যান্ডে এটাই প্রথম।  খবর দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের অনলাইন হেরাল্ড। এতে বলা হয়দেশে ফিরে আসার আগে অনিচ্ছায় আমালাকে দুই মাস ঘর করতে হয় ওই বাংলাদেশি ‘স্বামীর’ সঙ্গে।  সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে। হেরাল্ডকে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেনবাংলাদেশে আটকা পড়েছিলেন তিনি। এখান থেকে আয়ারল্যান্ডে ফিরে যেতে পেরেছেন আন্তর্জাতিক এক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে। এই উদ্ধার অভিযানটি ছিল ব্যাপকভাবে ছদ্মবেশেগোপনীয়তার সঙ্গে। আমালার আইরিশ বয়ফ্রেন্ড অনলাইনে ডিটেকটিভের মতো কাজ করেছেন। আর ব্রাকগ্রাউন্ডে ভিন্নভাবে কাজ করেছে ওই দুটি দূতাবাস। চূড়ান্ত দফা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বুলেটপ্রুফ গাড়ি

আমালার বয়স যখন ২০ বছরতখন তাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তার পরিবার। তাকে জানানো হয় তার দাদী বা নানী খুব অসুস্থ। তাকে দেখতে আসছেন তারা। কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর আমালার পাসপোর্ট  মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় পরিবারের সদস্যরা। তাকে তাদের পছন্দমতো বিয়ে করতে চাপ দেয়। জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয় এক বাংলাদেশির সঙ্গে। আমালা বলেনতার এই ‘স্বামী’ যে ভাষায় কথা বলেনসেই ভাষায় তিনি কথা বলেন না। ওই স্বামীর সঙ্গে তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাপ প্রয়োগ করে তার স্বামী  নিজের পরিবার

আমালা বলেনআমি যতটা পেরেছিআমাকে ততটা কম ধর্ষণ করতে দিয়েছি। এটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আমার মনে আছে তার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, সেখানে আমি ছিলাম না। ক্ষোভে আমি কাঁদতে পারিনি। কিন্তু আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরেছে। পুরোপুরি অসাড় হয়ে থাকতাম আমি। এমন (ধর্ষণবহুবার হয়েছে। ঘনঘন হয়েছে। প্রায়দিনই হয়েছে। আমালাকে বিয়ে দিয়ে তার পিতামাতা ফিরে যান আয়ারল্যান্ডে। আমালাকে পাসপোর্টবিহীন রেখে যান বাংলাদেশে। ভাগ্যে কি ঘটে গেছে তা মনে করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। আমালা বলেনআমার মনে হতে লাগলোএখানেই আমাকে চিরদিন কাটাতে হবে। এক সময় আমি ভাবলাম আত্মহত্যাই ভাল হবে

এমন সময়ে তিনি আয়ারল্যান্ডে রেখে আসা তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। বান্ধবীর এমন অবস্থা জেনে তার বয়ফ্রেন্ড জোরপূর্বক বিয়ে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন বৃটিশ সরকারের ফোর্সড ম্যারিজ ইউনিট নামে একটি ইউনিট আছে। আয়ারল্যান্ডে এমন কোনো ইউনিট নেই। আমালার বয়ফ্রেন্ড বৃটিশ সরকারের ওই ইউনিটকে সব জানান। ফলে বৃটিশ সরকার আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র বিষয়ক ডিপার্টমেন্টকে আমালার কাহিনী জানায়। এরপর আমালাকে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদে উদ্ধারে গোপনীয়তা অবলম্বন করেন বৃটিশ কর্মকর্তারা। তাকে উদ্ধার করে তারা একটি নিরাপদ ভবনে রাখেন। সেই ভবনের পিছনের দরজা দিয়ে তাকে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরে। এরপর বিমানে করে উড়ে যান আয়ারল্যান্ডে। আয়ারল্যান্ডে পৌঁছার পর একজন পুলিশ সদস্য তাকে প্রহরা দেয়। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নারীদের আশ্রয়শিবিরে।  আমালা বলেছেনআয়ারল্যান্ডে জোরপূর্বক বিয়ের বিষয়ে আরো ভালভাবে জানাশোনা থাকা উচিত। এই জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ধর্মের চেয়ে প্রথাগতসাংস্কৃতিক কারণে বেশি ঘটছে 



 

Show all comments
  • নিসারুল ইসলাম ১৯ জুলাই, ২০২০, ১২:০৪ এএম says : 0
    Amik Janat ২০২০-০৭-১৮ ২৩:০৯:৪২ This is the price of enjoying western life. I am not saying forced marriage was right but her parents are paying the price for living in the west. I guess they realized their daughter got involved with a local Irish boy and they were not ready to accept it. So they tricked her into a marriage in Bangladesh but it failed. If her parents were not ready to accept that their children have chance of going in pure Irish way, they should not have lived in Ireland. I know one case in Canada where an Indian origin gentleman's daughter went with a white Canadian boy but he was not ready to accept it. He sold his home and car and went back to India with his other daughter. Before leaving, he reported said - "I lost my one eye but I am trying to save the other eye'.
    Total Reply(0) Reply
  • raian ১৯ জুলাই, ২০২০, ৪:১৪ এএম says : 0
    Right, they raise their child in western culture, she can take boyfriend but cant have husband,its the price,really its the price, and also its ilegal take a girl from her husband, but Bangladesh has no honor,look like bangladesh has no law to prorect the citizen rights, yhey didnt care about Bangladesh law,
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন