Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

ফিরল হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে একদিনেই প্রায় হাজার কোটি টাকা ফিরে পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বড় অঙ্কের অর্থ ফিরে আসার দিনে ডিএসই এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের উত্থান হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকল শেয়ারবাজার।
অবশ্য এর আগে টানা পাঁচ কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ৯১৩ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ওই পরিমাণ বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসই’র এক সদস্য বলেন, কয়েকদিন ধরে বাজারে গুঞ্জন ছিল ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। যার কারণে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়। তবে বিএসইসির চেয়ারম্যান ক্লিয়ার করেছেন আপাতত ফ্লোর প্রাইস উঠানো হবে না। যার ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।

তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে, এটা ঠিক আছে। তবে এই ফ্লোর প্রাইস বর্তমান শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষাকবচের কাজ করছে। এই মুহ‚র্তে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নিলে একশ্রেণি লাভবান হবে, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে বড় ধরনের লেনদেন খরার কবলে পড়ে শেয়ারবাজার। তবে এখন আস্তে আস্তে শেয়ারবাজার স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ৫০ কোটি টাকায় নেমে যাওয়া লেনদেন গত কয়েকদিন ধরে দুইশ কোটি টাকার উপরে উঠে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আবার আস্থা ফিরে আসবে। আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার পথ ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নিলে তখন হয়তো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারবাজারে আস্তে আস্তে লেনদেনের গতি বাড়ছে। এটা ভালো লক্ষণ। বোঝা যাচ্ছে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে। তাছাড়া এখন অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম বেশ কম রয়েছে। বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারলে এ বাজার থেকে ভালো মুনাফা করা সম্ভব। প্রায় হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন বাড়ার দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৯৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭টির। আর ১৭৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৫২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ২৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০১টির।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিএসই


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ