Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

উন্নয়ন কাজে ধীরগতিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

একনেকে ১১৩৬ কোটি টাকার ৬ প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০২০, ১২:২৫ এএম

বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি নেই। আবার বাড়ছে ব্যয় ও মেয়াদ। আর মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে দুটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে। প্রকল্পের মূল কাজ সময়মতো বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনকে দুটি প্রকল্প রিভিউ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রকল্প দুটি হচ্ছে- ‘খুলনা শীপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং ‘লাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ হতে মিনারবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্প।

গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রতিক্রিয়া দেখান প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা

সভা শেষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের (উন্নয়ন) কাজের ধীরগতি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং কাজগুলোকে ত্বরান্বিত করতে বলেছেন। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অভাব (প্রকল্প বাস্তবায়নে) তার (প্রধানমন্ত্রী) নজরে এসেছে তিনি বারবার বিভিন্ন বিভাগকে এটি (সমন্বয়) জোরদার করতে বলেছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ক্ষোভ ও বিরক্তির পাশাপাশি এখন থেকে উপক‚লীয় অঞ্চলে বাঁধ কিংবা রাবার ড্যাম নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন প্রকৃতির সঙ্গে খেলতে গেলে সাবধান হতে হবে। কেননা একদিকে ভাঙন রোধ করা হলে দেখা যাবে অন্যদিকে ভেঙে সব কিছুই শেষ করে দিচ্ছে। তাই এখন থেকে বাঁধ হোক বা রাবার ড্যাম হোক সুদূর প্রসারী স্টাডি করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে। এর কারণ হলো সমন্বয়ের অভাব এবং মূল কাজের বাইরে বিভিন্ন অঙ্গ যোগ করায় গতি মন্থর হয়েছে। এর পর এই বিষয়গুলো কঠোর ভাবে দেখবো। প্রকল্প প্রস্তাবে পণ্য ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় ধরার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এম এ মান্নান বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের জনবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে পাতায় পাতায় উল্টে প্রকল্প প্রস্তাব দেখা সম্ভব হয় না। তবে এখন থেকে প্রকল্প মূল্যায়নে আরও কঠোরতা অবলম্বন করবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমইডিকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে। আইএমইডির দায়িত্ব হলো একটি প্রকল্পের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দেখা কিন্তু সেখানেও জনবলের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। আইএমইডির রিপোর্টগুলো যথেষ্ট খুরধার হচ্ছে না। ফলে এমন হয়েছে যে আমলাতন্ত্রের ঝোপঝাড়ে সুঁই হারিয়ে গেলে যা হয়।

একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণসহ ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ১ হাজার ১৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘লাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ থেকে মিনার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ (জেড-১০৬১) (ভ‚মি অধিগ্রহণ) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কুমিল্লা জেলার তিতাস ও হোমনা উপজেলায় তিতাস নদী (লোয়ার তিতাস) পুনঃখনন’ প্রকল্প, ‘গাইবান্ধা জেলার সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোঘাট ও খানাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা’ প্রকল্প ও ‘চর ভেডেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-ব্রিজিং (অতিরিক্ত অর্থায়ন) (বাপাউবো অংশ)’ প্রকল্প এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন।



 

Show all comments
  • নাঈম ২২ জুলাই, ২০২০, ২:৪৪ এএম says : 0
    আশা করি সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা মেনে চলবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আশিক ২২ জুলাই, ২০২০, ২:৪৫ এএম says : 0
    সময় ক্ষেপন করে বাজেট বাড়ানোর টার্গেটে আছে মনে হচ্ছে !
    Total Reply(0) Reply
  • বোরহান ২২ জুলাই, ২০২০, ২:৪৭ এএম says : 0
    যাদের কারণে এই ধীর গতি হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক
    Total Reply(0) Reply
  • নাজিম ২২ জুলাই, ২০২০, ৩:০৯ এএম says : 0
    সকল প্রকল্প তত্তাবধায়নের দায়িত্বে থাকা কর্তাদেরকে চাপ দিলেই সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আমি মনে করি।
    Total Reply(0) Reply
  • শান্তা ২২ জুলাই, ২০২০, ৩:১০ এএম says : 0
    উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন