Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সমুদ্র বন্দরে দেশবিরোধী ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল কর -ইশা ছাত্র আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০২০, ৬:৪৯ পিএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান ক্রমাগত বাড়ছেই। এমনকি করোনা মহামারীকালে সীমান্তে বাংলাদেশীদের পাখির মতো গুলি করা হচ্ছে। যা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। এমতাবস্থায় বন্ধুত্বের নামে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমুদ্র বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নব্য ষড়যন্ত্র। অবিলম্বে দেশবিরোধী ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করতে হবে।

আজ ২৩ শে জুলাই ২০২০ইং বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে ইশা ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে “ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠায় গৃহীত দেশবিরোধী চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি” বাতিলের দাবীতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা অত্যান্ত পরিতাপের সাথে লক্ষ করেছি- ২০১০ সালে ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ছিল যথাক্রমে সড়ক ও রেলপথে প্রতি কন্টেইনার ১০ হাজার টাকা, সড়কপথে কাভার্ড ভ্যান (প্রতি টন) ১ হাজার টাকা, জাহাজ যোগে বা রেলপথে (প্রতি টন) ১ হাজার টাকা এবং বিমা কাভারেজ বাধ্যতামূলক কিন্তু বর্তমানে তা কমিয়ে যথাক্রমে সড়ক ও রেলপথে প্রতি কন্টেইনার মাত্র ৫০০ টাকা, সড়কপথে কাভার্ড ভ্যান (প্রতি টন) মাত্র ২০ টাকা, জাহাজ যোগে বা রেলপথে (প্রতি টন) মাত্র ২০ টাকা এবং বিমা নিষ্প্রয়োজন করা হয়েছে। এটা কোন নীতিকে সামনে রেখে করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এম হাছিবুল ইসলাম দেশবিরোধী ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে” ব্যবহার করে ভারতের আসাম ত্রিপুরা রাজ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যা বাংলাদেশের চরম স্বার্থবিরোধী। একইসাথে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দূরভিসন্ধি।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালে ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৪১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর কথা বলেছিল। কিন্তু পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা সেই বাঁধ আজ ৪৫ বছরেও বন্ধ হয়নি। তাই এই পরীক্ষামূলক চুক্তির মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ছাত্র সমাজকে নিয়ে দেশবিরোধী সকল পাঁয়তারা রুখে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল করীম আকরামের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, প্রচার ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক এম এম শোয়াইব, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম হুসাইন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য সুলাইমান দেওয়ান সাকিবসহ ঢাকা মহানগর ও ঢাকাস্থ ক্যাম্পাস নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে পল্টন অভিমুখে হাউজ বিল্ডিং চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।



 

Show all comments
  • Miah Adel ২৩ জুলাই, ২০২০, ৯:১৮ পিএম says : 0
    ইসরাইলের জন্মদাতা হচ্ছে বৃটেন। এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্র তার জনক বা জননীর প্রতি কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে? কোন পর্যায়েই ইসরাইলের ক্ষতিকর কাজে বৃটেন আগায় না। ইসরাইলের জনক-জননীর আজন্ম কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য হলেও কর্মে-কান্ডে তার কাম্যতা দেখায় না। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের আজন্ম অকুণ্ঠ সাহায্যদাতা ও সমর্থনদাতা। উল্লেখ করা যেতে পারে যে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার সা্হায্য দান করে। ইসরাইলই ছিল সাহায্যপ্রাপ্ত দেশের মধ্যে সেরা। ২০০৪ সালে তা ছিল ২.৬২ বিলিয়ন ডলার। কারণ ছিল সাহায্যের সিংহভাগ ইরাককে দেওয়া হয়েছিল। ইসরাইল কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে? যুক্তরাষ্ট্রই কতটুকু কৃতজ্ঞতা দাবী করে থাকে? যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ব্যাপারে আভ্যন্তরীণ হস্তক্ষপে করে থাকে না। এইরূপ রীতিনিতি সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ইসরাইলের স্বাধীনতা ও উন্নত শীরের জন্য অত্যাবশ্যক। সত্যিকার দরদ প্রকাশের এ দৃষ্টান্ত জগতে আর দ্বিতীয় কোনটা নাই।এটাই সভ্যজগতের নিয়ম। ইষ্ট তিমুরই বা অষ্ট্রেলিয়াকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কি দিয়ে থাকে?
    Total Reply(0) Reply
  • ash ২৭ জুলাই, ২০২০, ১:৫৭ এএম says : 0
    GOODDDDDDD
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিক্ষোভ মিছিল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ