Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

| প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০২ এএম

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ কোভিড-১৯ প্রতিরোধের কোন প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। তাই এ দুঃসময়ে প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়িয়ে তোলা। এর ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে যে মারাত্মক লক্ষণ- অর্থাৎ শ্বাসতন্ত্র এবং পরিপাক তন্ত্রের সংক্রমণ দেখা যায় সেগুলো প্রতিরোধ করা সহজ হয়। করোনা ভাইরাস প্রোটিনযুক্ত অনুজীব। এরা মানুষের দেহে জ্বর, কাশি, গলাবাথা, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করে। এমনকি এ ভাইরাস সহজেই ভয়ংকর প্রাণঘাতী হয়ে যেতে পারে। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন বেশী পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। উদ্ভিজ্জ্ব খাবার হলো- অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস। এর মধ্যে বেগুণী, লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজী ও ফলমুল।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হলো- কিছু ভিটামিন, খনিজ ও এনজাইম, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শরীরের ক্ষতিকর কোষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। জীবানু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। প্রধান প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো হলো- ভিটামিন-এ, বি, সি, ই, বিটাক্যারোটিন, লাইকোপেন, সেলেনিয়াম, লুটেইন ইত্যাদি

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত হতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে খাবারগুলো বেশী করে খেতে হবে। সেগুলো হলো-

ভিটামিন-এ ঃ গাজর, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টি আলু, লাউ, ব্রুকলি, লাল মরিচ, লেটুস, পালংশাক, ফুটি, জাম্বুরা, ডিম, দুগ্ধজাতীয় খাবার, কলিজা ইত্যাদি

ভিটামিন-সিঃ লেবু, আমড়া, কমলালেবু, আম, জাম, আঙুর, জলপাই, জাম্বুরা, চেরি, ষ্ট্রবেরী, মাল্টা, আমলকী পেঁপে, সবুজ শাকসবজী, ক্যাপসিকাম, মরিচ, টমোটো ইত্যাদি

ভিটামিন-ই ঃ কাঠবাদাম, চীনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, জলপাই, ডিম, দুধ, মাছ, কলিজা, লাল মাংস ইত্যাদি
বিটাক্যারোটিনঃ উজ্জ্বল রংয়ের শাকসবজী ও ফলমুল যেমন- পুঁইশাক, সজনে পাতা, লালশাক, টমেটো, গাজর, বীট, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি

সেলেনিয়ামযুক্ত খাবার:- শস্য, রসুন, ব্রুকলি, বাদাম, আখরোট ইত্যাদি

এছাড়া আরো কিছু খাবার আছে যেগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এ খাবার গুলো গ্রহণ করলে শরীরকে সুস্থ থাকতেও সহায়তা করে। সেগুলো নিম্নরুপ:-

ভিটামিন-ডি:- করোনা প্রতিরোধে ভিটামিন-ডি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভিটামিন-ডি দেহের অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করে। এটি আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসকে দ্রবীভূত করে। সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, মাছের তেল, বীজ, মাশরুম, ডিমের কুসুম, দুধ, দই, পানির, টকদই (প্রোবায়োটিক) ইত্যাদি

অন্যান্যঃ- শিমের বীচি, মটরগুঁটি, বালি, ওটস, লাল চাল ও আটা, মধু, ইত্যাদি

পরিমিত মাত্রায় সুষম খাদ্যাভ্যাসের সাথে সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অতি প্রয়োজন। এর জন্য সর্বদা মানসিক চাপমুক্ত থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধুমপান ও মদপান পরিহার করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও পর্যাপ্ত পানি পান করা ইত্যাদি

করোনা ভাইরাস সংক্রমনের হাত হতে রক্ষার জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হোমিও প্যাথিক ঔষধ সেবনেও ফল পাওয়া যাচ্ছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি লক্ষণ ভিত্তিক। তাই লক্ষণানুযায়ী করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের সাথে সাথে হোমিওপ্যাথিক ইমিউনিটি বুষ্টার গ্রহণ ও আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা সেবা নিতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রতিকার নয় প্রতিরোধই সর্বদা উত্তম। এটা মেনে চলতে পারলেই আমরা এ উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতির জটিলতা এড়াতে পারব।
ডাঃ মোঃ হুমায়ুন কবীর
রেনেসাঁ হোমিও মেডিকেয়ার
৮৯, নিমতলী সিটি কর্পোরেশন মার্কেট
চাঁনখারপুল, ঢাকা- ১০০০।
মোবাইল নম্বরঃ- ০১৭১৭-৪৬১৪৫০, ০১৯১২-৭৯২৮৯৪।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন