Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি ঋণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০২ এএম

উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, নয়-ছয় সুদের চক্করে দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি খাতে ঋণের মন্থর গতি ছিল। মহামারি করোনার থাবায় অর্থবছর শেষে তা তলানিতে এসে পড়েছে। গত অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত এক দশকেও এমন সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। নিম্নগতির এ শনিরদশা বেসরকারি ঋণে থাকলেও সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে। বার্ষিক ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় অংশই আসে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। সুতরাং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও তার প্রভাব পড়বে। কাঙ্খিত শিল্পায়ন হবে না। বাধাগ্রস্ত হবে কর্মসংস্থান।
সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই বছর আগেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির চিত্র এমন ছিল না। বেশ কিছু ব্যাংকের আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে ওই সময় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের শুরুতে বেসরকারি ঋণপ্রবাহের লাগাম টানতে ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) কিছুটা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। যদিও এরই মধ্যে কয়েক দফা এডিআর সমন্বয়ের সীমা বাড়ানো হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুনে সেই প্রবৃদ্ধি আরো নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে। এটি চলতি মুদ্রানীতিতে প্রক্ষেপিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। এটি এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুনের চেয়ে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১০ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি কমে হয় ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর পরের ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়ায় মাত্র ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর টানা তিন অর্থবছর প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল। যেমন- ২০১৩-১৪ অর্থবছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে হয় ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা আরো বেড়ে হয় ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা আরো বেড়ে হয় ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই গতি কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে সেটি আবার বেড়ে হয় ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনক হারে কমে একলাফে নেমে আসে ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা আরো কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বেসরকারি-ঋণ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ