Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

মন্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় কলড্রপ হচ্ছে

ভার্চুয়াল আলোচনায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, মন্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় কলড্রপ হচ্ছে। কারণ প্রযুক্তি কোন ব্যক্তি চেনে না। ৩টি থালা দিয়ে ৫ জন অতিথিকে খাওয়াতে গেলে যেমন সমস্যা হয় তেমনি স্বল্প তরঙ্গ দিয়ে সেবা দিতে গিয়ে গ্রাহকদের কাক্সিক্ষত সেবা দেয়াও সম্ভব না। যেটা অপারেটররা করছে এবং এজন্য গ্রাহকরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘গ্রাহক স্বার্থরক্ষায় মানসম্মত টেলিকম সেবার জন্য পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দে প্রতিবন্ধকতা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দরজা সব সময় অপারেটরদের জন্য খোলা। আসেন আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসি, যাতে তরঙ্গ অবিক্রিত না থাকে, গ্রাহক ভাল সেবা পায় এবং অপারেটররা তরঙ্গ কিনতে পারে। তরঙ্গের দাম নিয়ে অপারেটরদের আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলেই মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য তরঙ্গ মূল্য কমাতে পারে না। অনুমতি লাগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের, এমনকি কখনো কখনো প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগে। দাম কমাতে হলে অপারেটরদেরকে সরকারের সাথে কথা বলতে পারে। একসাথে বেশি তরঙ্গ ক্রয়ে দাম কমানো সম্ভব জানিয়ে বিটিআরসি প্রধান বলেন, সম্পূর্ণ তরঙ্গ কিনলে দাম কমানো সম্ভব, পার্টলি নিলে সম্ভব হবে না দাম কমাতে। ২০১৮ সালে যে নিলাম হয়েছে সে দাম থেকে কম হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তবে আলোচনা করে সমাধানে আসা যাবে। বিটিআরসি সব সময় পজিটিভ। তরঙ্গ অব্যবহৃত হয়ে আছে এটা খারাপ দিক, একটি পলিসি থাকা উচিত যেন তরঙ্গ অব্যবহৃত না থাকে। তবে তরঙ্গের দাম কমানো বাস্তবে অসম্ভব। নিলামে ১৫ বছরের জন্য তরঙ্গ দেওয় হয়, ১৫ বছরের জন্য যা দেওয়া হয়েছে দাম কমালে সেই মূল্য বা টাকা ফেরত কি তারা চাইবে না। অপারেটররা যৌক্তিক প্রস্তাব দিলে মানা হবে।

২০১৮ সালে দেশে ফোরজি চালু করার জন্য তরঙ্গ নিলাম করে বিটিআরসি। নিলামে মোট ১১টি ব্লকে ৪৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের জন্য ছিল। এর মধ্যে তিনটি ব্লকে ১৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ বিক্রি হয়। ৬৭ শতাংশ তরঙ্গ অবিক্রিত হওয়ার মূল কারণ উচ্চমূল্য বলে দাবি করে আসছে অপারেটররা। বিটিআরসির হিসেবে, টুজির ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড ১২ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ এবং থ্রিজির ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ২০ মেগাহার্টজ ব্যবহারযোগ্য রয়েছে। এ তিন ব্যান্ডে মোট ৪০ দশমিক ৮ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে যেখান থেকে অপারেটররা কিনতে পারেন।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, কমিশন গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। আমরা চাই গ্রাহকরা তার কাক্সিক্ষত সেবা পাক অন্যদিকে অপারেটররাও যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকটাও আমরা লক্ষ্য রাখছি। তরঙ্গের স্বল্পতার বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কমিশনার (এসএম) মোঃ আমিনুল হাসান বলেন, অপারেটররা ফ্রি তরঙ্গ চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদনে যদি গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ও শিক্ষর্থীদের স্বল্পমূল্যে সার্ভিস দেয়ার কথা উল্লেখ থাকতো তাহলে কমিশন অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ভাবতো।
রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান রেগুলেটরি খুবই আন্তরিক তবে তাদেরও লিমিটেশন আছে তারা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারেন না। বিটিআরসি তরঙ্গ দাম কমানোতে পজিটিভ তবে তাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। পলিসি মেকারদের আগে থেকে ইনভলভ করতে হবে, বিটিআরসি যা বুঝে হয়ত অর্থমন্ত্রণালয় তা বুঝছে না। সব শেষে আমরা চাই গ্রাহকরা ভাল সেবা পাক, মিশনের সাথে পলিসির একযোগে কাজ করতে হবে।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তৈমুর রহমান বলেন, টিকে থাকার জন্যই ২০১৮ সালে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি তরঙ্গ কেনা হয়েছিল। বিটিআরসি সরকারকে বুঝাতে পারে যত তরঙ্গ দেবে তত রাজস্ব বাড়বে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব নুরুল কবির, এরিকসনের কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুস সালামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ