Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রিজেন্ট সাহেদ ২৮ দিনের রিমান্ডে

আদালতে বললেন অন্যায় করেছি, যারা মামলা করেছেন তাদের টাকা পরিশোধ করব পারভেজকেও ২১ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

স্যার আমি অপরাধ করেছি। সব অপরাধের সঙ্গে আমি জড়িত। যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদের সব টাকা-পয়সা আমি পরিশোধ করব। গতকাল রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) শুনানি চলার সময় এসব কথা বলেন রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। এদিন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, প্রতারণা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা পৃথক চার মামলায় ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী। রিমান্ড শুনানির সময় বিচারককে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন সাহেদ। অন্যদিকে চারটি মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকে ২১ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

বিচারকের উদ্দেশ্যে সাহেদ বলেন, স্যার আমি তো অপরাধ করেছি। সব অপরাধের সঙ্গে আমি জড়িত। যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাদের সব টাকা-পয়সা আমি পরিশোধ করব। গত ১২-১৩ দিন ধরে আমি খুব প্রেসারের মধ্যে আছি। আমি আর পারতেছি না। আমি অসুস্থ। ঈদের পর আমার রিমান্ড শুনানি হলে ভালো হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে বলেন, বিনা টাকায় করোনা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও আসামি রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সে একজন মহাপ্রতারক। অসুস্থ না হয়েও গত ১৬ জুলাই আদালতে সে নিজেকে করোনা রোগী বলে দাবি করে। আসামি আষাঢ়ের গল্প বলছে। পুলিশ তার যে রিমান্ড চেয়েছে, আমরা তা মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক মামলায় সাত দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আদালত ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও উত্তরা পূর্ব থানার চার মামলায় ৪০ দিনের রিমান্ডের আবেদনের শুনানি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী। সাহেদের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন। করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সকালে সাহেদকে আদালতে হাজির করে। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি মামলায় তাকে দশ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলা উত্তরা পশিচম থানার। এর দু’টিতে ইট, বালু, সিমেন্ট সরবরাহের টাকা আত্মসাৎ এবং অন্যটিতে হোটেলের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর উত্তরা পূর্ব থানার মামলাটি করা হয়েছে জাল টাকা রাখার অভিযোগে।

সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান ও শাহ আলম রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। কিন্তু তারা মাত্র একটি মামলায় ওকালতনামা জমা দিতে পেরেছিলেন বলে বিচারক আসামি সাহেদের কাছেই জানতে চান, তার কিছু বলার আছে কি না। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব এবং সহকারী পিপি আজাদ রহমান। পরে আজাদ রহমান বলেন, যে মামলায় সাহেদকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে, সেই মামলায় জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করে দেন। পাশাপাশি চার মামলায় সাহেদকে সাত দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়। এদিকে রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকেও গতকাল করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের অন্য দুটি মামলায় মাসুদকে গ্রেফতার দেখানোর অবেদন মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম।

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে যে অর্থ আত্মসাত করতেন সেই টাকার বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হতো বলে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। গতকাল রোববার র‌্যাবের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ তার প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বিভিন্ন মানুষকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ