Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ০৯ সফর ১৪৪২ হিজরী

ভারতের উদ্বেগ তবুও চীনা কোম্পানী কাজ পেল সিলেট বিমানবন্দরের

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই, ২০২০, ৭:৪১ পিএম

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পেয়েছে চীনা কোম্পানি। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।

হংকং ভিত্তিক পত্রিকা এশিয়া টাইমসের প্রতিবেদনের এমন তথ্যে সরগরম ভারতের মিডিয়া। প্রকাশিত সংবাদে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বহন করছে, চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বাংলাদেশ। অপরদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চার মাস চেষ্টা করেও পাননি সাক্ষাৎ। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম এ মোমেন ‘দ্যা হিন্দু’কে রোববার জানান, ‘পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ফোন করলে কি করার আছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান তো একই বিশ্বে বাস করে। আবার একদিন পরে অপর একটি ভারতের মিডিয়াকে বলেছেন, তিনি আশা করেন যে, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। শেখ হাসিনা-ইমরান খানের আলাপ ছিল সৌজন্যমূলক। কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। শেখ হাসিনা এনিয়ে কথা বলতে চাননি।’ এশিয়া টাইমসে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিম ভিরতুল লিখেছেন, ‘বিজেপি বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনো শিক্ষা হয়নি তার। আর সে-কারণে দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষুন্ন হয়েছে তার ইজ্জত। এশিয়া টাইমস পত্রিকাটির মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলীর ৪র্থ বারের মতো মর্যাদাহানি ঘটেছে। দি হিন্দুকে জনাব মোমেন অবশ্য বলেছেন, এটা সঠিক নয়। কারণ করোনার কারণেই সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। এভাবে দেখাটা অতিরঞ্জিত। এশিয়া টাইমস এর ভাষায় দি হিন্দু যে রিপোর্ট করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, চীন এবং পাকিস্তান উভয়কে যখন ভারত তার প্রতিপক্ষ মনে করে, তখন এ দুটি দেশের দিকে সাম্প্রতিককালে ঝুঁকে পড়েছে বাংলাদেশ। আর এই ঝুঁকে পড়ার নিদর্শন হচ্ছে সিলেট এয়াপোর্টে চীনা কোম্পানির কাজ পাওয়া।’

প্রসঙ্গত, ২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন। গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একটি অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন, একটি কার্গো ভবন, আধুনিক এটিসি টাওয়ার, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন এবং আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপন সম্ভব হবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। এর ফলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা উন্নীত হবে৬ লাখ থেকে ২০ লাখে। চুক্তিপত্রে বেবিচকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান এবং কার্যাদেশ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কন্সট্রাকশন গ্রুপের পক্ষে বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড হ্যারল্ড হুয়াং। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে সময় লাগবেদুই বছর ৯ মাস। বেবিচক জানায়, লন্ডন, ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন আন্তরিক গন্তব্যে ফ্লাইটের কারণে বাড়ছে জনপ্রিয়তা। এছাড়া আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য সিলেটের অসংখ্য মানুষ বিদেশে করেন বসবাস। ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে দাবি উঠেছিল এ টার্মিনাল ভবন নির্মাণের। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের একটি দূরদর্শী ও অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্তসামাজিক উন্নয়নে ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে ব্যাপক। বেইজিং আরবান কন্সট্রাকশন গ্রুপকে বেবিচকের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে স্বাগত জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানটি সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন ও দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। হ্যারল্ড হুয়াং বেইজিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিলেট বিমানবন্দর
আরও পড়ুন