Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ

খুলনা-রামপাল-মংলা মহাসড়ক

কামাল আতাতুর্ক মিসেল | প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেশের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক খুলনা-রামপাল ও মোংলা। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটির সংস্কারের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। এ কারণে চলতি বর্ষায় এ পথে চলাচলকারীরা কাঁদা পানি ও খানা-খন্দে দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন প্রতিনিয়িত। খানা-খন্দের কারণে এ সড়কটির কিছু অংশ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হওয়ার পরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, বন্দরের বহুমুখী পরিকল্পনার মধ্যে এ সড়কটি ৬ লেনে প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে সড়ক সংলগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতন না হলে এ সড়কটি সচল রাখা কষ্টকর হবে বলে অভিযোগ বন্দর কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোংলা-খুলনা ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের বন্দর এলাকা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটারই ভাঙা ও খানা-খন্দে ভরা। মোংলা বন্দর থেকে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সকল জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এটি। তাই এখান থেকে দূরপাল্লার বাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে ও আসছে। এছাড়া বন্দর ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামাল এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহনে মালামাল বোঝাই করে চলাচল করতে হচ্ছে চালকদের। সড়কটির বন্দর এলাকায় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় দু’পাশে মালামাল বহনকারী লরি-ট্রাকসহ যানবাহন রাখায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের শেষের দিকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির বন্দর এলাকায় সংস্কার করা হয়। কিন্তু ৬ বছর যেতে না যেতেই আবার ভেঙে যায়। মোংলা বন্দর থেকে দিগরাজ ও বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত এই ৮ কিলোমিটারের অধিকাংশই ভাঙা আর গর্তে ভরা। কোনো কোনো স্থান দেবে উঁচু-নিচু হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে কাদা হয়ে যায়। প্রতি বছর মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে সামান্য সংস্কার করলেও তা কোনো কাজে আসছে না।
একদিকে মোংলা বন্দরের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত ভারি যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন চলাচল করার কারণেই সড়কটি সংস্কারের পরেও টিকছে না বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করতে একটি প্রস্তাবনা পাশ হয়েছে যার কাজ অল্প দিনের মধ্যেই শুরু করা হবে বলে জানালেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা-রামপাল ও মোংলা মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকালী মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বড় বড় যানবাহন চলাচল করার কারণেই সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার মধ্যে পানি জমে বিভিন্ন জায়গায় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়। এছাড়া এ মহাসড়কে শত শত ট্রাক পার্কিং করে রাখার ফলে পথচারীদের চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ সড়কে চলাচলকারী চালক আকরাম হোসেন জানান, খুলনা-রামপাল ও মোংলা মহাসড়কের পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কে গর্ত থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে সড়ক চরম খারাপ রুপ নেয়।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন (উপ-সচিব) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এই সড়কের দ্বিগরাজ ও বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশিরভাগ সমস্যা হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য। সড়কের এই এলাকা নিচু হওয়ায় এবং দুই লেনের এই রাস্তা দিয়ে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচল করায় মহাসড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সড়কটি ৬ লেনে প্রশস্ত করার জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাজ শুরু হলে আর কোন সমস্যা থাকবে না বলে জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ