Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী

রেকর্ড রিজার্ভ কাজে লাগাতে হবে

| প্রকাশের সময় : ৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম মন্দাবস্থা চলছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এই অর্থনৈতিক মহামন্দার মধ্যেই বাংলাদেশে করোনার পাশাপাশি উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতের পর দফায় দফায় বন্যায় পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আশার কথা, করোনা ও বন্যার মধ্যেও বৈদেশিক কর্মসংস্থান থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভ এখন নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত জুন মাসে বিশ্ব অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত অবস্থায়, তখন প্রবাসীরা ১৮০ কোটি ডলার বা সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দেশে পাঠিয়েছে। জুন মাসের এই আয় আগের বছরের জুন মাসের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে গত জুলাই মাসের আয় জুনের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাই মাসে রেমিটেন্স এসেছে ২৬০ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে যা ২২ হাজার ৯৫ কোটি টাকার বেশি। জুন-জুলাইয়ের রেকর্ড রেমিটেন্সের উপর ভর করে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভ দাঁড়িয়েছে ৩৭.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। করোনাকালীন মন্দা ও অর্থনৈতিক সংকটের সন্ধিক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই রেকর্ড রির্জাভ দেশের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।

করোনাকাল ও দেশব্যাপী বন্যার মহাদুর্যোগের সময় কর্মহীন দরিদ্র মানুষের ত্রাণ সহায়তা, পুনর্বাসন কার্যক্রম, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভকে কাজে লাগানোর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার কথা সর্বাগ্রে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চাঙা রাখার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই রিজার্ভের অর্থ ব্যবহারের কথা বলেছেন। এ অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা যায়, এ নিয়ে পরামর্শ ও পরিকল্পনার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে গত অর্থবছরে বৈধপথে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসী আয়ের উপর ২ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা দেন তিনি। তার এ নির্দেশনা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বাস্তবায়ন করেন এবং এর ফলশ্রæতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গতি লাভ করে। এখন তা নতুন রেকর্ড গড়েছে। পাকিস্তান ও ভারতের প্রবাসীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত থাকা সত্তে¡ও, তাদের অর্থনীতি অনেকটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। করোনা ও বন্যার কবলে পড়েও তাদের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি বেশ মজবুত অবস্থায় রয়েছে। আমাদেরকে এই অবস্থা ধরে রাখতে হবে। ইতোমধ্যে বন্যায় ঘর-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলী জমি তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। তারা সময়মতো আগাম ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমানো অসম্ভব কিছু ছিল না। দেখা যাবে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এ ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতি সমাল দিতে সরকারকে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ ও যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

করোনা এবং বন্যার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় এখন অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং অন্যান যে বৈদেশিক সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে, তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে। এসব অর্থ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজে লাগানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষত করোনাভাইরাসে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতি উত্তরণে বন্যার্ত মানুষের ত্রাণ, পুর্নবাসন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুঁজির নিশ্চয়তা এবং বন্যা পরবর্তী অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ কাজে লাগানোর বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সময়োপযোগী বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের ফলে এই দুর্যোগকালে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহে যেমন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রাকে উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করার সময়োপযোগী নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেগা প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম থেমে নেই। বন্যা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, কৃষি-শিল্প-অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুর্নবাসনে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভকে কাজে লাগানোর মধ্য দিয়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তেমনি অর্থনীতিও গতিশীল হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের চলমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেমন ধরে রাখতে হবে, তেমনি তা এগিয়ে নেয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ অবস্থা নিম্নগামী হলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থনীতি


আরও
আরও পড়ুন