Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭, ১৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন সামাজিক বয়কটের আহ্বান ছিল বঙ্গবন্ধুর

প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কতটা সোচ্চার ছিলেন তা আলোচনায় এসেছে সামান্যই। স্বাধীনতার পরপরই এক ভাষণে জাতির উদ্দেশে দুর্নীতিবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন তিনি।
এছাড়া এরও আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্নীতিবাজদের নাম তিন পয়সা মূল্যের পোস্টকার্ডে লিখে তার কাছে পাঠানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারে বঙ্গবন্ধুর হাতে কিছুদিন যে কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল, তার মধ্যে দুর্নীতি দমনের দায়িত্বও ছিল।
স্বাধীনতার পরপর বঙ্গবন্ধু তার এক ভাষণে বলেন, ‘ফৌজদারি আইন করে দুর্নীতিবাজ দমন করা সম্ভব নয় জনগণের সমর্থন ছাড়া। আমি আপনাদের বলেছিলাম, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ো, কেনÑজেহাদ করতে হবে, যুদ্ধ করতে হবে শত্রুর বিরুদ্ধে। আজকে আমি বলব বাংলার জনগণকেÑএক নম্বর কাজ হবে, দুর্নীতিবাজদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে, আমি আপনাদের সাহায্য চাই।’ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু ওই ভাষণে বলেছিলেন, ‘কেমন করে ধরতে হবে, আইন চালাবÑক্ষমা করব না, যাকে পাব ছাড়ব না। একটা কথাÑআপনাদের করতে হবেÑজনগণের এমন গণআন্দোলন করতে হবে। আমি গ্রামে গ্রামে নামব, এমন আন্দোলন করতে হবে, যে ঘুষখোর, যে দুর্নীতিবাজ, যে মুনাফাখোর, যে আমার জিনিস বিদেশে চালান দেয়, তারে সামাজিক বয়কট করতে হবে।’
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নিজে থাকবেন আশ্বাস দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে হবে, ওই চোর, ব্ল্যাক মার্কেটিয়ান, ওই ঘুষখোর। ভয় নাই, কোনো ভয় নাই। আমি আছি। ...দুর্নীতিবাজদের খতম করো, বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচন করো।’ এছাড়া দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৫৬ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর শহরের গোপালকৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে পিরোজপুর মহকুমা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি দুর্নীতিবাজদের তালিকা পোস্টকার্ডে করে তার কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পিরোজপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন মুক্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দফতরের মন্ত্রী তরুণ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষণে তিনি ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসের নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ১৪০টি আসন। পক্ষান্তরে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পেয়েছে মাত্র ৯টি আসন।
এ সময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আপনারা স্বৈরাচারী, অত্যাচারী ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে আমাকে ঋণী করেছেন। আমি আমৃত্যু সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো।’ তিনি আরও বলেছিলেন, দুনিয়ার ইতিহাসে একটি ক্ষমতাসীন দলের এমন পরাজয়ের ঘটনা আর ঘটেনি। কোনো অফিস-আদালতে দুর্নীতি হলে এবং আপনাদের নিকট কেউ ঘুষ চাইলে সঙ্গে সঙ্গে তিন পয়সার একটি পোস্ট কার্ডে লিখে আমাকে জানাবেন। আমি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যাতে করে দুর্নীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।’
বঙ্গবন্ধুর সেদিনের জনসভায় উপস্থিত পিরোজপুরের প্রবীণ আইনজীবী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এম এ মান্নান স্মৃতিচারণ করে গত বছর বলেছিলেন, সমগ্র মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাষণ শুনেছিল এবং গগনবিদারী স্লোগানে জনসভাস্থল প্রকম্পিত করে তুলেছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন সামাজিক বয়কটের আহ্বান ছিল বঙ্গবন্ধুর
আরও পড়ুন