Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫ আশ্বিন ১৪২৭, ০২ সফর ১৪৪২ হিজরী

উপকূলীয় সুপার ড্রাইভওয়ে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

| প্রকাশের সময় : ৭ আগস্ট, ২০২০, ১২:০৩ এএম

দীর্ঘস্থায়ী বন্যার গ্রাসে দেশের অর্ধেকের বেশি জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর আগেই ঘূর্ণীঝড় আম্ফানের আঘাতে উপকুলীয় বেড়িবাঁধের অনেক অংশ বিলীন হয়ে লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছিল। এবারের দীর্ঘ বন্যায় সে দুর্ভোগ আরো বিস্তৃত ও প্রলম্বিত হল। এর আগে গত দশকে দেশের উপক‚লীয় জেলাগুলোর বেড়িবাঁধে সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড় সিডর ও আইলার বিদ্ধংসী তান্ডবের ক্ষত এখনো সারিয়ে তোলা যায়নি। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগের তান্ডবের শিকার হয়ে উদ্বাস্তু ও নি:স্ব হয়ে পড়ছে উপকুলীয় এলাকার মানুষ। এর একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে সুর্দীঘকাল ধরে। চলমান বন্যার পর উপকুলীয় জনপদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ আরো বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় দেশের ২৫ জেলার ৫ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বন্যার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ ও পুর্নবাসনের পাশাপাশি বন্যা পরবর্তি অবকাঠামো উন্নয়ন ও বেড়িবাঁধ মেরামতের বিশাল উদ্যোগের কথা এখন ভাবতে হচ্ছে। সেই ভাবনার মধ্যেই প্রথমবারের মত উঠে এসেছে দেশের দীর্ঘতম উপকূলীয় সড়কপথ নির্মানের ধারণা। এটি এখন প্রাথমিক স্তরের চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টি এখন প্রকল্প আকারে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

বন্যাপরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ নির্মানের টেকসই, স্থায়ী ও বহুমুখী উপযোগিতাপূর্ণ সমাধানের উপায় হিসেবে এবার গ্রহণ করা হচ্ছে কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত দীর্ঘ সুপার ড্রাইভওয়ে নির্মানের মেগা প্রকল্প। গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢল বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলোকে আরো মজবুত ও টেকসই করতে নকশায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দেশের ২৫টি উপকূলীয় জেলাকে সংযুক্ত করে কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত পরিকল্পিত সুপার ড্রাইভওয়ে নির্মানে অর্থায়নের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে চীনের সাথে আলোচনা চলছে। উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য এরই মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা পর্যন্ত উপকূলীয় সুপার ড্রাইভওয়ে নির্মানের প্রকল্পটি এখনো পরিকল্পনা কমিশনে যায়নি। যে কোনো বিচারে এটি একটি অত্যন্ত গুৃরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার প্রাপ্য প্রকল্প হিসেবে গণ্য হতে পারে। যেহেতু বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরই উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলোর সংস্কার ও পুন:নির্মানের উদ্যোগ নিতে হবে, সে কারণে পরিকল্পিত সুপার ড্রাইভওয়ের চুড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং যথাশীঘ্র এর কাজ শুরুর বাস্তবানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।

কৃষি. খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প, বাণিজ্য ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারিত করার কোনো বিকল্প নেই। সুপার ড্রাইভওয়ে বা উপকূলীয় হাইওয়ে নির্মানের মধ্য দিয়ে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক উপযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের প্রকল্প একই সঙ্গে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বিশাল অংশের টেকসই সমাধান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি দ্রুতগামী সড়ক যোগাযোগ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং পর্যটনশিল্পের জন্য সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে চীনের অর্থায়নে গৃহিত তিস্তা নদী খণন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সুপার ড্রাইভওয়ে নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো, যোগাযোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জিত হবে।এ ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সগযোগিতার পাশাপাশি যে সব দেশ উপকূলীয় ভূমি উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইলফলক উন্নতির স্বাক্ষর রেখেছে সে সব দেশ থেকেও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রকৌশলি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গ্রহন করা যেতে পারে। ইতিপূর্বে গৃহিত ডেল্টা মেগা প্রকল্পের কাজ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। আমরা আশা করব, সুপার ড্রাইভওয়ে নির্মান প্রকল্পটির কাজ যথাশীঘ্র শুরু করা হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে আগামি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মানের পর এই প্রকল্প হতে পারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের আরেকটি মাইলফলক উন্নয়নের দৃষ্টান্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য প্রকল্পের ন্যায় এই প্রকল্প যেন, অস্বচ্ছতা, মানহীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার ঘেরাটোপে আটকে না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দ্রুততার সাথে মানসম্মতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেয়ার বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ অবকাঠামো ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুদূরপ্রসারি ফলাফলের কথা বিবেচনা করে যথাশীঘ্র এর বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সুপার-ড্রাইভওয়ে
আরও পড়ুন