Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ

| প্রকাশের সময় : ৭ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

দেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ আয়োডিন স্বল্পতার শিকার। আর ৩ কোটি মানুষ জানেন না যে, তারা আয়োডিন ঘাটতির শিকার হয়ে স্বল্প বুদ্ধি ও শিখন ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে ‘আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টারের’ গবেষকরা। তারা বলেছেন, এদশের মাটি আয়োডিন ঘাটতি অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় মাছ, মাংস, দুধ ডিম ও শাক-সবজিতে আয়োডিন থাকার সম্ভাবনা নেই। ফলে ঘাটতি পূরণের জন্য একমাত্র আয়োডিনযুক্ত লবণ গ্রহণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। লবণে আয়োডিন মিশানোর জন্য কেজি প্রতি ২০/২৫ টাকা অতিরিক্ত দাম নিলেও সঠিক পরিমাণে আয়োডিন দেয়া হচ্ছে না। এই বিষয়ে নীতিমালা থাকা সত্তে¡ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে তদারকি না করার ফলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

অতিসাম্প্রতি কলাবাগানের পবা কার্যালয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’-(পবা) ও ‘ আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টার’ যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধে আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মো. মোনজুরুর হক বলেন, মানুষের মাথায় চুল কম, স্থূলদেহ, ছেলেমেয়েরা খাটো হয়ে যাচ্ছে, মেয়েরা সংখ্যায় বেশি খাটো, স্কুল পড়–য়াদের পড়াশোনায় মন বসে না, স্মরণশক্তি ও ধৈর্য-ক্ষমতা কম ইত্যাদি বিষয় আজকাল লোকসমাজে আলোচনা হয়। তাছাড়া নানা রোগব্যাধি তো লেগে আছেই। এসব ঘটনা দেহে আয়োডিনের অভাবের কারণে হতে পারে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আয়োডিনের অভাব হয়ত কমেছে, তবে গলগন্ড ছাড়া অন্যান্য সমস্যা যে বৃদ্ধি পায়নি তা জোর দিয়ে বলার সুযোগ নেই।

আয়োডিনের অভাব হয় শিশু জন্মের আগেই। মহিলাদের গর্ভবতী অবস্থায় আয়োডিনের ঘাটতি বেশি হলে মৃত সন্তান প্রসব, গর্ভপাত, শিশুর জন্মগত অস্বাভাবিকতা, বামনত্ব এবং অনিরাময়যোগ্য সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মোতাবেক একজন মানুষকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ খাবার নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ তা অনুসরণ করে। এই লবণে (সোডিয়াম ক্লোরাইড) থাকা সোডিয়াম একজন মানুষ দৈনিক গ্রহণ করবে সর্বোচ্চ ২ গ্রাম (২০০০ মিলিগ্রাম)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা থেকে আরো কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ তা অনুসরণ করে। বক্তারা বলেন, লবণে আয়োডিনের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, প্রতিজন প্রতিদিন ১৪.৫ গ্রাম আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলে চাহিদা পূরণ হবে। ১৪.৫ গ্রাম লবণে সোডিয়াম আছে কমপক্ষে ৬৬০০ মিলিগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ, সোডিয়াম পরিমাণ ২০০০ মিলিগ্রামের স্থলে আমরা খাচ্ছি প্রতিজন দৈনিক ৬৬০০ মিলিগ্রাম। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও ট্যালেন্ট প্রমোশন ইনিশিয়েটিভের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মো. মোনজুরুর হক।

সবশেষে মনে রাখুন- আয়োডিনের ঘাটতি হলে ঘ্যাগ বা গলগন্ড রোগ হয়। এ রোগ সব বয়সী মানুষের মধ্যেই হতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ঘ্যাগ রোগী আছে। খাবারে আয়োডিন নামক খনিজ লবণের অভাবে ঘ্যাগ রোগ হয়। বেলে মাটিতে বা চরাঞ্চলের মাটিতে আয়োডিন কম থাকলে উৎপাদিত খাদ্যে আয়োডিন কম থাকে, এরূপ খাদ্য খেলে আয়োডিনের ঘাটতি হয়। গর্ভবতী মায়ের আয়োডিনের অভাব হলে হাবাগোবা এবং বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে। এ সব রোগ থেকে প্রতিকারের উপায় হচ্ছে-সামুদ্রিক মাছ ও শুটকিতে প্রচুর আয়োডিন আছে, দৈনিক এগুলোসহ আয়োডিনযুক্ত লবণ রান্নায় ও পাতে খাওয়াতে হবে। লিপিওডল ইনজেকশন নিলে এ রোগের হাত থেকে বাঁচা যায়।
ডা: মাও: লোকমান হেকিম
চিকিৎসক-কলামিস্ট,
মোবা : ০১৭১৬২৭০১২০



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আয়োডিন
আরও পড়ুন