Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী

আক্রান্তে ইতালিকে ছাড়াল বাংলাদেশ, মৃত্যু আরও ৩৯

দেশে করোনাভাইরাস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ আগস্ট, ২০২০, ১২:০১ এএম

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় ৮ মার্চ, যে সময় ইতালিতে কভিড পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যায় এখন ইতালিকেই ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। সংক্রমণ শনাক্তের তালিকায় বেশ কিছুদিন ধরে ইতালির পরেই বাংলাদেশের অবস্থান ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের তথ্য আনুযায়ী, ইতালিতে সংক্রমিত মোট রোগীর সংখ্যা এখন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন। আর বাংলাদেশে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে ২ হাজার ৯৭৭ জনসহ মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ জন। তবে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণে বাংলাদেশ ও ইতালির অবস্থান কাছাকাছি হলেও এই দুটি দেশের মধ্যে মৃত্যুসংখ্যায় পার্থক্য অনেক বেশি। ইতালিতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ৩৫ হাজার ১৮১ জনের। সেখানে বাংলাদেশে সংখ্যাটি নতুন ৩৯ জনসহ মোট ৩ হাজার ৩০৬।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক প্রফেসর ডা. বায়েজিদ খুরশিদ রিয়াজ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৮৯টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৭০৮টি। দেশে এ পর্যন্ত ১২ লাখ ২৫ হাজার ১২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট শনাক্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ জন। করোনায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৭৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪৩ হাজার ৮২৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

বুলেটিনে জানানো হয়, মোট মৃতের সংখ্যায় ২ হাজার ৬০৬ জন পুরুষ আর ৭০০ জন নারী। ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৯ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। হাসপাতালে ৩০ জন এবং ৯ জন বাড়িতে মৃত্যু বরণ করেছেন। বয়স বিশ্লেষনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে। উল্লেখিত ওই বয়সের মধ্যে মারা গেছেন ১৩ জন। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৯ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ৭ জন এবং বাকিরা অন্যান্য বয়সের। বিভাগ অনুযায়ী, ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪ জন খুলনা বিভাগের, ২ জন বরিশাল বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং ৩ জন রংপুর বিভাগের।

হাসপাতালের বেড ও আইসিইউসহ রোগী ভর্তির তথ্য সম্পর্কে জানানো হয়, সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে সাধারণ বেডের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৮টি। বেড ফাঁকা আছে ১১ হাজার ২৬৯টি। আইসিইউ ৫৩৯ টি বেডের মধ্যে ফাঁকা আছে ২৪৭টি বেডে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন, কোয়ারেন্টানের তথ্য সম্পর্কে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫৫ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে। আর ছাড়া পেয়েছেন ৭৩৬ জন। হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ৩৯৯ জনকে। ছাড়া পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৯ জন।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়ায় ২ জুলাই। ওই দিনই দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়। আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৪ হাজার ১৯ জন। আক্রান্ত রোগী শনাক্তের দশ দিন পর ১৮ মার্চ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ৬৪ জন। ৩০ জুন এই মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।###

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ