Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ছাড় নেই

উচ্চ আদালতে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধান বিচারপতি

উচ্চ আদালতের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ার উচ্চারণ করছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তবে ঢালাওভাবে নয় দুর্নীতির অভিযোগ হতে হবে সুনির্দিষ্ট। দুর্নীতি রোধে বার এবং বেঞ্চকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। গত শনিবার বিকেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রধান বিচারপতিকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের থেকে আদেশের অনুলিপি পেতে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশের লোভের কারণে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের হতাশা বাড়ছে। বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দুর্নীতির এই ভয়ালগ্রাস থেকে বিচারপ্রার্থী জনগণকে বাঁচাতে আপনাকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা মনে করি, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও আইনজীবী সমিতির সদস্যদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার।
এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ই-ফাইলিং চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই নিরসন হবে। তিনি বলেন, বেঞ্চ অফিসাররা একই বেঞ্চে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাদের বদলি করা হয় না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে বেঞ্চ অফিসারদের একই বেঞ্চে দীর্ঘদিন না রেখে অন্য বেঞ্চে বদলি করব। আইনজীবী সমিতির নেতারা প্রধান বিচারপতিকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেবে তাতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
বৈঠকে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ছাড়াও আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন, সম্পাদক রূহুল কুদ্দুস কাজল, কোষাধ্যক্ষ রাগীব রউফ চৌধুরী, সহ-সম্পাদক বাকির উদ্দিন ভ‚ঁইয়া প্রমুখ অংশ নেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, হাইকোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ চালুর সিদ্ধান্ত হলেও আপিল বিভাগের বিচারকাজ আপাতত ভার্চুয়ালি পরিচালনা করা হবে বলে প্রধান বিচারপতি সমিতির নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন। বৈঠকে চলতি সপ্তাহ থেকে হাইকোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ চলার বিষয়ে আইনজীবীদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু হলে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
বৈঠকের আগে আগে উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও নানা ধরণের অসঙ্গতি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দুর্নীতি বিরোধী সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে স্মারকলিপি দেয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উচ্চ-আদালত
আরও পড়ুন