Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

পানির নিচে ঢাকার নিম্নাঞ্চল নদীভাঙনে দিশেহারা মানুষ

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর পূর্বাভাস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে থাকা তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার পানি। ফলে নদ-নদী তিনটির উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত ঢাকার নিম্নাঞ্চল। তবে বিপদসীমার নিচে রয়েছে বুড়িগঙ্গার পানি। তিনটি নদ-নদীর পানির উচ্চতার কারণে রাজধানীর প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে নামছে না পানি।

বন্যা প‚র্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পরিস্থিতি নিয়ে দু’রকম পূর্বাভাস দেয়ায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পূর্বাভাস সম্পর্কিত এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঢাকা শহর ও তৎসংলগ্ন এলাকার শীতলক্ষা, বালু, তুরাগ, টঙ্গি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও বংশী নদীর পানি সমতল আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে স্থিতিশীল থাকলেও বর্তমানে হ্রাস পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তা অব্যাহত থাকার সম্ভবনা রয়েছে। এতে রাজধানীর আশপাশের বন্যা পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়ে আসতে পারে। চলতি মাসে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা নেই।

অন্যদিকে আগামী ১০ দিনের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ দিন নারায়ণগঞ্জে লক্ষ্যা নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী ৭ দিন স্থায়ী হতে পারে। ডেমরা পয়েন্টে বালু নদী, মিরপুর পয়েন্টে তুরাগ নদী এবং বেকারী বাজার পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বন্যার পানি কমতে থাকায় তীব্র নদীভাঙনের ভয়াবহতা চলছে দেশের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায়। ভারত থেকে নামা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে এর আগে উত্তর ও প‚র্বাঞ্চলে কয়েক দফা বন্যার পর এখন ভাঙনের আতঙ্ক জেঁকে বসেছে নদীপাড়ের মানুষের মনে। দেশে দেড় মাস ধরে চলছে বন্যা, তার সাথে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। পানি নেমে গেলে ভাঙন আরো তীব্র হওয়ার আভাস রয়েছে, যা করোনাভাইরাস মহামারীকালে লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় শিমুলিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে এবং তীব্র স্রোতে শিমুলিয়ার দু’টি ফেরিঘাট এবং কুমারভোগে পদ্মা সেতুর ইয়ার্ডে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাপক এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বাঁশ, জিউ ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় দ্রæত স্থায়ীভাবে নদী শাসন না করলে আগামীতে পদ্মা সেতুর পাশের এলাকা এবং নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা ১ নম্বর ও ২ নম্বর ফেরিঘাটসহ বিআইডবিউটিসি ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াতে ব্যস্ততম এ নৌ-রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রমত্তা পদ্মার করাল গ্রাসে শিমুলিয়ায় কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ-রুটের ৩ নম্বর ফেরিঘাট ৩১ জুলাই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গত ৪ আগস্ট আবারো আকস্মিক ভাঙনে ৪ নম্বর ফেরিঘাট এবং কুমারভোগের পদ্মা সেতুর ডকইয়ার্ডও প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে পদ্মা সেতুর মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদী প্রায় ৬০০ ফুট ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর পানি কমার সাথে সাথে তীব্র স্র্রোতের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের গোয়ালখালী ডাকপাড়া গ্রামের ১০টি বাড়ি। হুমকির মুখে আরো ৫০টি বাড়িসহ মসজিদ, বিদ্যুৎ টাওয়ার এবং সরকারি স্থাপনা। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা জানান, জেলার ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম। ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ঐ গ্রামের ৩টি মসজিদসহ কয়েকশ’ হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজানী, সংকোশ, গঙ্গাধরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে ফলে প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলগুলো থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। এদিকে নদ নদীগুলোর পানি কমে যাওয়ায় দুধকুমার ও কালজানী নদীর ভাঙনের তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। ভাঙ্গছে কালজানী নদী। বড় বড় চাপ ধরে পাকারাস্তা, ঘাট, ঘাটসংলগ্ন বাজার বসতভিটা, গাছবাগান, বাঁশঝাড় আর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। হুমকিতে আছে বিজিবি ক্যাম্প, মডেল প্রাইমারী স্কুল এবং জনবসতিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা

২ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ