Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

স্বাধীন মত প্রকাশ-শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা বন্ধ করুন

সরকারের প্রতি অ্যামিনেস্টির আহবান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম

স্বাধীন মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশকারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বলেছে, প্রতিশোধ নেয়ার আতঙ্ক ছাড়াই সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের অনুমতি দিতে হবে । গতকাল নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: রাইজিং এটাকস অন ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন এন্ড পিসফুল এসেম্বলি মাস্ট বি আর্জেন্টলি স্টপড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, একই সঙ্গে স¤প্রতি ধারাবাহিক যেসব হামলা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। স¤প্রতি একজন ছাত্রনেতা জোরপূর্বক গুমসহ সা¤প্রতিক হামলাগুলোর আলোকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এতে বলা হয়েছে, মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির ২৭ বছর বয়সী ছাত্র ও একজন ছাত্রঅধিকার কর্মী আশরাফ উদ্দিন মাহদিকে গত ৬ আগস্ট গুম করা হয়। আত্মীয়দের বাসায় বেড়িয়ে তিনি যখন বাসায় ফেরেন তখন রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। ৪৮ ঘণ্টা তাকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র চাপ সৃষ্টির পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মাহদির রয়েছে অনলাইনে বিপুল পরিমাণ অনুসারী। তিনি সরকারের একজন সমালোচক। অ্যামনেস্টিকে মাহদি বলেছেন, অপহরণকারীরা তাকে মুক্তি দিয়েছেন। তবে শর্ত দিয়েছেন, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামুলক পোস্ট দেয়া বন্ধ করতে হবে তাকে।
অ্যামনেস্টি বলেছে, ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে জোরপূর্বক গুম। প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ)-এর মতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০৭ জন মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬২ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। জীবিত ফিরেছেন ২৮৬ জন। বাকি ১৫৯ জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে বা তারা কোথায় আছেন, তা এখনও অজানা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেছেন, কয়েক বছরে বাংলাদেশে যেভাবে জোরপূর্বক গুম বৃদ্ধি পাচ্ছে তা হতাশাজনক। বিশেষ করে এতে টার্গেট করা হচ্ছে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বী মত প্রকাশকারীদের। আশরাফ উদ্দিন মাহদিকে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গুম করা হয়। তার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার এটা এক নির্লজ্জ কৌশল। কর্তৃপক্ষের সমালোচনাকারীদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে ছাত্র অধিকারকর্মীরা সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন বিভিন্ন গ্রুপের পক্ষ থেকে। এসব গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে। ৮ আগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র বিষয়ক সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র সালেহ উদ্দিন সিফাতকে প্রহার করে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে প্রহার করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে যায় হামলাকারীরা। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় একটি হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
এতে আরো বলা হয়, কয়েক বছরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপ‚র্ণ সমাবেশের অধিকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন তীব্র করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। শুধু ২০১৯ সালেই বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৭৩২টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমপক্ষে ১৩২৫ জনকে। এর অর্থ হলো প্রতিদিন আটক করা হয়েছে তিন জনের বেশি মানুষকে। ২০২০ সালের প্রথম অর্ধেক সময়ে এই আইনে আটকের সংখ্যা ৫০০ অতিক্রম করেছে। স¤প্রতি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামুলক পোস্ট, লেখা এমনকি ব্যাঙ্গচিত্রের কারণে ছাত্র, শিক্ষক, কার্টুনিস্ট এবং মানবাধিকারকর্মীদেগর কয়েক ডজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ##



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ