Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

টেকনাফ থানার পুলিশ কী খুনি প্রদীপ-লিয়াকতকে বাঁচাতে সক্রিয়? নতুন ওসিও কী যোগ দিলেন তাদের সাথে?

ইনকিলাব রিপোর্ট | প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০২০, ১:৫০ পিএম

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানা পুলিশ কি মামলা তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবের মুখোমুখি হতে চায়? নাকি বরখাস্তকৃত ওসি খুনি প্রদীপ ও আইসি লিয়াকতের অপকর্ম ঢাকা দিয়ে তাদের বাঁচাতে সক্রিয়?

এদিকে মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ৪ পুলিশসহ ৭ আসামির ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরআগে গতকাল তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে র‍্যাব।

পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গতকাল সকালেই গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এই তিনজন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব। গতকালই আদালতে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়েছিল মামলা তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব।

কিন্তু সরকারী ছুটির দিন হওয়ায় আদালত আজ বুধবার সেই আবেদন শুনানীর সময় নির্ধারন করেছি। আজ ওই আবেদন শুনানী শেষে আদালত তাদের ৭ দিন করে রিমান্ড মন্জুর করেন।

গ্রেফতারের আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে তাদের দুই সাক্ষী দাবি করেছেন, মেজর সিনহা হত্যার বিষয়ে তারা কেউ নিজের চোখে কিছু দেখেননি। ৩১ জুলাই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের ডেকে নেয়া হয় পরে টেকনাফ থানায় নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয় বলে দাবি করেছিলেন তারা।

এদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা মামলায় র‍্যাবের তদন্তে অযাচিতভাবে যেন নাকগলাতে শুরু করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ! র‍্যাব তিন আসামিকে আটকের পর, তাদের বাড়িতে গিয়ে অপহরণ মামলা করতে বাধ্য করে টেকনাফ থানার পুলিশ। আসামিরাও অন্য কেউ নয়। মেজর সিনহা রাশেদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা হত্যাচেষ্টা মামলার জোর করে বানানো সাক্ষী ছিল তারা।

টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার প্রধান তিন সাক্ষীর একজন নুরুল আমিন। মেজর অব. সিনহা হত্যার ঘটনায় ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, নিজের চোখে কিছুই দেখেননি, শোনেনওনি। একই কথা বলেন, সেই মামলার আরেক সাক্ষী মোহাম্মদ আয়াছও।

সোমবার বিকেলে সেই সাক্ষীদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে হেফাজতে নিয়ে আসে তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব। পরদিন মঙ্গলবার সিনহা রাশেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের।

এদিকে র‍্যাব আসামিদের নিয়ে যাওয়ার পর মধ্যরাতে ঘটে টেকনাফ থানা পুলিশের অযাচিত বাড়াবাড়ি। টেকনাফের মারিশ বনিয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আয়াছের বাড়িতে যায় টেকনাফ থানার পুলিশ। কিন্তু স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্ত যখন র‍্যাবের হাতে, তখন আসামিদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতির কারণ কী? এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।

তাহলে সেনাবাহিনীর অবঃ মেজর সিনহা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার পুলিশ কি এই মামলার আসামী বরখাস্ত করা ওসি খুনী প্রদীপ ও লিয়াকতকে রক্ষার জন্য মামলা তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবের মুখোমুখি হতে চায়? সম্প্রতি টেকনাফ থানায় নিয়োগ পাওয়া নতুন ওসি আবুল ফয়সল কি যোগ দিয়েছেন প্রদীপ-লিয়াকত সিন্ডিকেটের সাথে?

নিজাম উদ্দীন নাজুর স্ত্রী শাহেদা বেগমকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাত আড়াইটার দিকে লাথি মেরে দরজা ভেঙে পুলিশ বলে, আপনার স্বামীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এটা বলতে ওসি সাহেবের কাছে যেতে হবে।

মোহাম্মদ আয়াছের ভাই মোঃ মোবারক বলেন, রাত তিনটার দিকে পুলিশ আসে বাসায়। এসে একটা দস্তখত নিয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, ভোর রাতে নুরুল আমিনের মা খালেদা বেগমকে টেকনাফ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। খালেদা জানান, সেখানে দুটি কাগজে টিপ সই নিয়ে আবার বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ।

হাতের টিপসইয়ের ছাপ দেখিয়ে নুরুল আমিনের মা খালেদা বেগম বলেন, পুলিশ বলছে তোর ছেলের মরা মুখ না দেখতে চাইলে এখানে টিপসই দে।খালেদা বেগমের টিপসই দেয়া সেই মামলার কাগজ পৌঁছেছে বিভিন্ন সংবাদ কর্মীদের হাতে।

র‍্যাব সদস্যদের অজ্ঞাতনামা সাদা পোশাকের লোক হিসেবে উল্লেখ করে, মধ্যরাতেই অপহরণ মামলা নিয়ে নেয় অতি উৎসাহী টেকনাফ থানা পুলিশ। মামলার এজাহারে সাক্ষরও করেন টেকনাফে নতুন যোগ দেয়া আসা ওসি আবুল ফয়সল।

অথচ র‍্যাব ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পরে যথানিয়মে আদালতে হাজির করেন এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। র‍্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আজ (১২ আগষ্ট) বুধবার ওই তিনজনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন

এবিষয়ে জানতে টেকনাফ থানায় বারবার যোগাযোগ করলেও ওসিসহ কর্মকর্তারা ফোন ধরেন না কেউ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মেজর সিনহা


আরও
আরও পড়ুন