Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

জাতিসংঘকেও রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য দিল না ফেসবুক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০২০, ১:৫৬ পিএম

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা তদন্তে সহায়তা করার কথা বলেও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের কোনোরকম সহায়তা করেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ফেইসবুক। সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এই খবর দিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিষ্ঠানটি গাম্বিয়াকেও এই ধরনের তথ্য দিতে রাজি হয়নি। গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার পর গত জুনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটিকে তথ্য দিতে অনুরোধ করে।

জাতিসংঘের ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম অন মিয়ানমারের (আইআইএমএম) প্রধান নিকোলাস কোমজিয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেইসবুকের কাছে এমন সব উপাদান আছে, যা মারাত্মক আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সম্ভাবনাময়। কিন্তু বছরব্যাপী আলোচনার পরেও তারা কোনো তথ্য দেয়নি।

মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটির প্রধান অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমান সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে তারা তদন্ত কর্মকর্তাদের সহায়তা করার কথা বললেও কোনো তথ্য-প্রমাণ তারা দিতে অস্বীকার করছে।
আইআইএমএমের পক্ষ থেকে ফেসবুকের কাছে কী ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়টি বিস্তারিত বলেননি তিনি। এ বিষয়ে ফেসবুকের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মুখোমুখি হতে হয়েছে মিয়ানমারকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। মিয়ানমার গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনারা অভিযান চালিয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ফেসবুক মিয়ানমারে ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়াতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, যাতে সহিংসতা বেড়ে গিয়েছিল।
ফেসবুকের ভাষ্য, তারা ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়ানো ঠেকাতে কাজ করছে এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ সেনাদের অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছে। কিন্তু ওই তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ২০১৮ সালে আইআইএমএম প্রতিষ্ঠা করে, যাতে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ জোগাড় করে ভবিষ্যৎ শুনানিতে ব্যবহার করা যায়।

নিকোলাস কোমজিয়ান অভিযোগ করেন, ‘এ পর্যন্ত জাতিসংঘের মেকানিজম ফেসবুকের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য পায়নি। কিন্তু এ নিয়ে আলোচনা চালিয়েই যাচ্ছে জাতিসংঘ। আশা করব, ফেসবুকের কাছ থেকে মেকানিজম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাবে।’
গত সপ্তাহে ফেসবুক জানায়, তারা গাম্বিয়ার অনুরোধ রাখতে বাধ্য নয়, তবে তারা আইআইএমএমের সঙ্গে কাজ করবে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সরকারের দীর্ঘ কয়েক দশকের জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়ন এবং ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পটভূমিতে গাম্বিয়া আইসিজেতে সুরক্ষার আবেদন করে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফেসবুক

১৬ জানুয়ারি, ২০২১
১২ ডিসেম্বর, ২০২০
৬ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন