Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ০৯ সফর ১৪৪২ হিজরী

বেঙ্গালুরুতে পুলিশের গুলিতে নিহত ৩

ফেসবুকে মহানবী (স.)-এর অবমাননা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম

মন্দির পাহারা দিচ্ছে মুসলিমরা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের প্রতিবাদে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে ব্যাপক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকালে বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার কমল পন্ত এ ব্যাপারে অবমাননাকর পোস্ট শেয়ারের অভিযোগে নবীন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি কংগ্রেস বিধায়ক অখন্ড শ্রীনিবাস মূর্তির ভাতিজা।

কংগ্রেস বিধায়ক অখন্ড শ্রীনিবাস মূর্তির ভাতিজা ফেসবুকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে কটূক্তি করে একটি পোস্ট শেয়ার করায় বিধায়কের বাসভবন ও স্থানীয় থানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের গুলিতে তিনজন জন নিহত হন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ ৬০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিজে হাল্লি ও কেজি হাল্লি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং গোটা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে ১১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে সহিংসতার মধ্যেও বেঙ্গালুরুতে দেখা যায় এক অনন্য নজির। হিন্দুদের মন্দিরে যাতে কোনো ধরনের অশান্তি ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য মুসলিম যুবকরা মানব ঢাল তৈরি করে মন্দির পাহারা দেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক শেয়ার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রচুর সংখ্যায় মানুষজন বিধায়ক অখন্ড শ্রীনিবাস মূর্তির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে। বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার কমল পন্ত বলেন, গুলিতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ ৬০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তার মৃত্যু হয়।

বিধায়ক অখন্ড শ্রীনিবাস মূর্তি ক্ষুব্ধ মুসলিমদের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি জনগণের কাছে আবেদন করছি যে, কিছু দুর্বৃত্তের ভুলের কারণে আমাদের সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। ঝগড়া লড়াই করার দরকার নেই। আমরা সবাই ভাই। আমরা আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি দেবো। আমরাও আপনাদের সাথে আছি। আমি আমার বন্ধুদের শান্তি বজায় রাখার জন্য আবেদন করছি।’

গণমাধ্যমে প্রকাশ, বিধায়ক অখন্ড শ্রীনিবাস মূর্তির এক আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিজনক পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রচুর মানুষজন স্থানীয় থানার সমানে জড়ো হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের দাবি, এফআইআর করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে, কারণ ওই ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এসময় ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বিধায়কের বাড়ির সামনে থাকা কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।

গুলিবর্ষণ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার তার সাফাইতে বলেন, পুলিশকর্মীদের উপরে বড় বড় পাথর দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। আচমকা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভিড় মোকাবিলা করতে আমাদের কিছুটা সময় লেগেছে। যেহেতু চারদিক থেকে থানা আক্রমণ করা হচ্ছিল, সেজন্য পুলিশের কাছে গুলি চালানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।

কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই এক বার্তায় বলেন, ‘অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা আইনবিরোধী। বিষয়টি যাই হোক না কেন, আইনের আওতার মধ্যেই তা সমাধান করতে হবে। আমি পুলিশকে শান্তি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কোনো ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। যে বা যারা এ জন্য দায়ী তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। আমি আপনাদেরকে আশ্বাস দিচ্ছি যে কাউকে রেহাই দেয়া হবে না।’

কর্ণাটকের আমীর-এ-শরীয়া হযরত মাওলানা সাগীর আহমেদ মুসলিমদের শান্তি বজায় রাখার আবেদন করে বলেন, পুলিশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যে ওই আপত্তিজনক কাজ করেছে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি জনগণকে আইন হাতে না নিতে আবেদন জানিয়েছেন। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিবিসি ও এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বেঙ্গালুরু
আরও পড়ুন