Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

পাটকল চালু করতে নীতিমালা হচ্ছে

উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের পরিদর্শনের আহবান

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১৪ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

সাময়িক বন্ধ সরকারি পাটকলগুলো পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অর্থাৎ যৌথ উদ্যোগ বা লিজ মডেলে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সরকারি ২৫টি পাটকল আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের মিলগুলো পরিদর্শনের আহবান জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
মিলগুলো পরিদর্শনের পর মতামত নিয়ে একটি নীতিমালা ও গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সরকারি মিলগুলোকে উৎপাদনে উপযুক্ত আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালু এবং বিজেএমসি’র জনবল কাঠামো পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ২টি কমিটি ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে তার আগে মিলগুলো বেসরকারি খাতে দেবে না সরকার।

এ বিষয়ে বিজেএমসি’র অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ ইনকিলাবকে বলেন, পাটকলগুলো বেসরকারি উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের পরিদর্শনের পরে মতামত নিয়ে একটি নীতিমালা করা হবে। যাতে ভাল কিছু করা যায় সে জন্য কাজ করা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়ের ২টি কমিটি ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর সভাপতিত্বে নীতি-নির্ধারণী কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বলা হয়, আগ্রহী উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীগণ প্রয়োজনে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব কাজী কামরুল করিমের সাথে যোগাযোগ করে মিলগুলো এখন থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবে।

সংস্থাটির সচিব এ.এফ.এম.এহতেশামূল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোর বিরাজমান পরিস্থিত স্থায়ী সমাধানসহ পাটখাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি পাটকল গত ১ জুলাই বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বহুমুখী পাটপণ্যের বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পুনঃবিন্যাস করে বিজেএমসি’র বন্ধ ঘোষিত মিলগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় চালু করতে কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলো তথা মিলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ জিটুজি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো ভালো করছে। বেড়েছে তাদের রফতানি আয় এবং মুনাফাও করছে। কিন্তু পাটের এই সুসময়েও সরকারের হাতে থাকা পাটকলের সবগুলোই লোকসানে চলছে। প্রতিবছর জনগণের করের টাকা দিয়ে সরকারি পাটকলগুলো টিকিয়ে রাখা হয়েছিল।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ পাট খাতকে লাভজনক করার অঙ্গীকার করে। তারা ক্ষমতায় আসার পর বিজেএমসিকে লাভজনক করতে কর্মপরিকল্পনা করে। এটি বাস্তবায়নে সরকার বিজেএমসির দেনা পরিশোধ করতে ৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা দেয়। এই অর্থ দিলে ভবিষ্যতে বিজেএমসির জন্য আর কোনো আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে না এ শর্তে পাট মন্ত্রণালয়, বিজেএমসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এরপর বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া খুলনার খালিশপুর জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী জুট মিলস ও ফোরাম কার্পেটস ফ্যাক্টরি ফিরিয়ে নিয়ে চালু করে সরকার। কিন্তু কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হয়নি। লোকসান হতেই থাকে। বেসরকারি খাত থেকে ফিরিয়ে নেওয়া মিলগুলোও বড় লোকসান দিতে থাকে। চলতে থাকে সরকারের কাছে হাত পাতা। ২০১৫ সালে পাট মন্ত্রণালয় বিজেএমসির জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাইলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে মারাত্মক ভুল করেছে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাটকল


আরও
আরও পড়ুন