Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

গণমোনাজাত করতে হবে

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০১ এএম

দুনিয়াময় উদ্ভূত সকল সমস্যার সমাধান বিশ^ধর্ম ইসলামে রয়েছে এবং তাতে উন্নয়ন-কল্যাণের সকল উপায় তদবিরও রয়েছে। ইসলাম সমগ্র মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন-বিধান।

আর পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন হচ্ছে এর মূল উৎস এবং হযরত রসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস হচ্ছে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। তাই রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে দুইটি জিনিস রেখে গেলাম, যতদিন তোমরা এ দুটি আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে নাÑ এর একটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কোরআন) এবং অপরটি হচ্ছে আমার সুন্নাত বা হাদিস ।

সুতরাং, কেবল মুসলমান নয় বিশ^ মানবের ওপর কোনো আসমানি, জমিনি, হাওয়ায়ি তথা প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা-সঙ্কট দেখা দিলে কিংবা দুর্যোগ-বিপর্যয় এলে ধৈর্য্য সহকারে তা মোকাবিলা করার শক্তিও মানুষকে দান করা হয়েছে এবং এর উপায় উদ্ভাবনের ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে, এটি মুসলমানদের বিশ^াস। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রাকৃতিক সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা মানুষকে দেয়া হয়েছে। বহু কিছুতেই মানুষ অসহায়-অক্ষম। বালা-মুসিবত মানুষের কুকর্ম-অপকর্মের পরীক্ষা বা শাস্তি হিসেবে আল্লাহর পক্ষ হতে আপতিত হয়ে থাকে।

বর্ণিত হাদিসের মর্মানুযায়ী, বিনা দ্বিধায় বলা যায় যে, করোনা প্রতিরোধে আরোপিত আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান মেনে চলতে গিয়ে আল্লাহর ফরজ ইবাদত ও রাসুল (সা.) এর সুন্নাত মুসলমানগণ যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না, এসত্য অস্বীকার করার উপায় নেই।

মুসলমানগণ মনে-প্রাণে বিশ^াস করেন, আল্লাহ যেমন মানুষের পরীক্ষার জন্য বহুবিধ রোগ সৃষ্টি করেছেন, তেমনি মৃত্যু ব্যতীত প্রতিটি রোগেরও প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন। খোদ রসুলুল্লাহও (সা.) কারোর অসুখ হলে চিকিৎসা করার উপদেশ দিয়েছেন। তাই ইসলামে চিকিৎসাবিজ্ঞান একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব।’ দোয়ার বেশুমার তাৎপর্যের কথা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। দোয়া বালা-মুসিবত দূর করে বলে রসুলুল্লাহ (সা.) এর উক্তি রয়েছে। প্রাকৃতিক মহাবিপদে নানারকমের দোয়া মোনাজাত কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে এবং ‘গণমোনাজাতের’ও বহু দৃষ্টান্তর য়েছে। খরাকালে বৃষ্টির জন্য গণসমাবেশের মাধ্যমে ‘ইস্তেসকা’ নামাজ পড়ার ব্যাপক প্রচলন সর্বস্তরে স্বীকৃত ও প্রচলিত।

বাস্তবে বারে বারে প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে যে, বৃষ্টির জন্য ‘ইস্তেসকা’ নামাজ পড়ার সাথে সাথে বৃষ্টি নেমে আসে। এ নামাজ মাঠে-ময়দানে জনসমাবেশের মাধ্যমে পড়তে হয়, কিন্তু করোনা তো মুসলমানদের ঈদের নামাজকেও ময়দান হতে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ করোনাকবলিত হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে মারাত্মক বন্যা-প্লাবনের তাÐবলীলার শিকার। আবার কোনো কোনো দেশে করোনার সাথে যুক্ত হয়েছে ভ‚মিকম্প, দাবানল এবং পঙ্গপালের আক্রমণ ইত্যাদি। নানা রোগবালাই আল্লাহরই পরীক্ষা, মানুষের পাপের ফল। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে একা এবং সমবেতভাবে। করোনা, বন্যাকে প্রতিহত করার বৈষয়িক ব্যবস্থাদি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে গণমোনাজাতের ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন ।

আমাদের দেশে সম্মানিত ইমাম-খতিবগণ প্রতি নামাজ ও জুম্মার জমাতে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করে থাকেন, যেন আল্লাহ সে সকল জমিনি, আসমানি, হাওয়ায়ি, আকস্মিক বিপদাপদ হতে রক্ষা করেন। তবে দোয়া মোনাজাত কবুল হওয়ার সময় ও শর্তাবলি পালিত হয় কি’না তাও ভেবে দেখার বিষয়। হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দীর্ঘ মোনাজাত করবে, তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়।’ হুজুর (সা.) কেন দীর্ঘ মোনাজাতের কথা বলেছেন, তার তাৎপর্য অনুভব করতে হবে। এ সর্ম্পকে রাসুলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণিত দোয়া মোনাজাতগুলোর অনুসরণ করাও উত্তম, তাঁরপ্রতি দরুদ ও সালাম অবশ্যই থাকবে এবং দীর্ঘ মোনাজাতের তাৎপর্য অনুধাবন করতে হবে।

 

 



 

Show all comments
  • Md Rejaul Karim ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৫:২৮ এএম says : 0
    সব সমাধানের মালিক আল্লাহপাক কাজেই আপনার মন্তব্যটি পুরোপুরি যৌক্তিক কিন্তুু দুঃখের বিষয় হলেও বর্তমানে এক শ্রেণীর আলেম দোয়াকে হারাম করেছে তাহলে কি করে সম্ভব ???
    Total Reply(1) Reply
    • রেজয়ান ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৯:৩৪ এএম says : 0
      আরতিকেল এ কথাও স্মমিলিত দুয়ার কথা বলা হয়সে, আলেম রা থিক এ বলসেন
  • MD mir hossen ১৪ আগস্ট, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
    Thanks
    Total Reply(0) Reply
  • MD mir hossen ১৪ আগস্ট, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
    Thanks
    Total Reply(0) Reply
  • Zamal U Ahmed ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৩ এএম says : 0
    মানবতার সমাধান ইসলাম। পৃথিবীতে মানব জাতী কি করবে আর করবে না তার চুড়ান্ত সংবিধান হলো ইসলাম।
    Total Reply(0) Reply
  • তাসফিয়া আসিফা ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৩ এএম says : 0
    বিশ্ব মানবতার শান্তির জন্য দুনিয়ায় ইসলামের আবির্ভাব। ইসলামের বাণী দুনিয়া তথা বিশ্বজাহানের স্রষ্টা, প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে। কোনো কিছুন চাইতে হলে তারকাছেই চাইতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • হৃদয়ের ভালোবাসা ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৪ এএম says : 0
    বিখ্যাত কবি বার্নার্ড শ বলেছেন, ‘আজ সমগ্র অশান্ত দুনিয়াটা যদি একটা রাষ্ট্র হতো আর সে রাষ্ট্রটির রাষ্ট্র নায়ক হতেন নবী মুহাম্মদ সা: তবে সমগ্র দুনিয়াটা শান্তির নীড় হয়ে উঠত।’ এখানেও দুনিয়াবাসী সমগ্র মানুষের শান্তির কথা বলা হয়েছে, কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা জাতের কথা বলা হয়নি
    Total Reply(0) Reply
  • মেহেদী ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৫ এএম says : 0
    মুসলমান মানে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পিত ব্যক্তি। একজন আত্মসমর্পিত ব্যক্তির তিনি যার কাছে সমর্পিত তার ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু চিন্তা ও অমূলক। কাজেই একজন মুসলমানের আল্লাহর আদেশ-নিষেধের বাইরে কোনো কিছু করা তো দূরের কথা চিন্তা করাও অচিন্তনীয়। আল্লাহ আমাদের করোনা থেকে মুক্তি দিন।
    Total Reply(0) Reply
  • গাজী ওসমান ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৬ এএম says : 0
    ইসলাম শান্তির ধর্ম। কল্যাণের ধর্ম। মুক্তির ধর্ম। মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান আছে বলেই এই জীবনব্যবস্থা সকল যুগের সকল মানুষের উপযোগী।
    Total Reply(0) Reply
  • হৃদয়ের ভালোবাসা ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৭ এএম says : 0
    ব্যাপক হারে মানুষ আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হলে আল্লাহ পাক পৃথিবীতে গজব নাজিল করেন; যাতে মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাওবার মাধ্যমে আবার ফিরে আসতে পারে। এই গজব বা মহামারি আসলে তখন করণীয় কী? ইসলামে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • হোসাইন এনায়েত ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৭ এএম says : 0
    যে কোন মহামারি থেকে বাঁচতে প্রথম ও প্রধান করণীয় হচ্ছে- নিজেদের কৃতকর্ম থেকে তাওবা করা এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।
    Total Reply(0) Reply
  • জাহিদ খান ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৮ এএম says : 0
    এই মুহূর্তে আমাদের সবার উচিত, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা। সর্বদা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা।
    Total Reply(0) Reply
  • হাসান মুনাব্বেহ সাআদ ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:২৯ এএম says : 0
    মহামারি প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি আল্লাহর গজব বা শাস্তি, বনি ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারি। অতএব, কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১০৬৫)
    Total Reply(0) Reply
  • ahmed hossain khan ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৮:১৭ এএম says : 0
    Dua durod a dur dosa hoy domon, akonisto tawba kori amora jeno kori shi jibon japon,
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২৬ জানুয়ারি, ২০২১
২৩ জানুয়ারি, ২০২১
২২ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন