Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী

এবার কমলা হ্যারিসকে নিয়েও মিথ্যাচার ট্রাম্পের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৪:৩৪ পিএম

আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে এবার বিরোধী শিবিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের যোগ্যতা সম্পর্কে ডানপন্থী ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো উসকে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কমলা হ্যারিসের জন্মস্থান ও প্রার্থী হওয়ার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করেন। যদিও, প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে, তিনি যে মিথ্যাচার করেছেন তা প্রমাণ করে দিয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান ও তার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর যোগ্যতা নিয়ে যেভাবে মিথ্যাচার করে এসেছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রায় একই কায়দায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিসকে ঘায়েল করতে চাইছেন। নির্বাচিত হলে কমলা হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কালো এবং এশীয়-আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর জন্ম নেওয়া কমলা হ্যারিসের বাবা জ্যামাইকান, মা ভারতীয়। ডেমোক্র্যাট এ নারী সিনেটরের যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা আছে কিনা’ সম্প্রতি ট্রাম্পের সমর্থক মার্কিন এক আইনের অধ্যাপক এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ ও চতুর্দশ সংশোধনীর দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক ইস্টম্যান বলেছেন, কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার বাবা-মা দুজনের কারওই যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকে (উদাহরণ স্বরূপ, যদি সেসময় দুজনেই শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন), তাহলে জো বাইডেনের এই রানিং মেটের সম্ভবত ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘যোগ্যতা থাকে না।’ ইস্টম্যানের এ তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীই বলেছেন, কমলা হ্যারিসের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন ও দায়িত্ব পালনে সাংবিধানিকভাবে কোনো ধরনের বাধা নেই।

ট্রাম্প অবশ্য এত যুক্তির ধার ধারেননি। ইস্টম্যানের আপত্তি সম্বন্ধে ট্রাম্পের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি আজই শুনেছি যে ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে যা যা প্রয়োজন তা নাকি তার (কমলা) নেই। যে আইনজীবী এটা লিখেছেন তিনি খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন, খুবই মেধাবী আইনজীবী।’ তিনি বলেন, ‘এটি খুবই গুরুতর বিষয়, আপনারা বলছেন, আরও অনেকে বলছেন যে তিনি (কমলা) সাংবিধানিকভাবে যোগ্যতা অর্জন করেননি কেননা তিনি এদেশে জন্মই নেননি।’

এ বিষয়ে সিএনএন জানায়, কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে। সুতরাং, জন্মসূত্রে একজন প্রকৃত নাগরিক হিসাবে, তিনি ভাইস-প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য সংবিধানের শর্ত পূরণ করেন। এটি নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হ্যারিসের বাবা-মা অভিবাসী ছিলেন, তবে এর সাথে তার যোগ্যতার কোন সম্পর্ক নেই।

২০০৮ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ‘বার্থার’ আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ওবামা জন্মেছিলেন কেনিয়ায়। ত্যক্ত বিরক্ত ওবামা এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে তার জন্মের সনদও প্রকাশ করেন। গতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নেমে চাপের মুখে আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। ওবামার জন্ম যে যুক্তরাষ্ট্রেই, এক বিবৃতিতে তিনি তা মেনেও নেন। সূত্র: টিওআই, সিএনএন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ