Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আমার ভাই চোখে দেখেন না। আমার বাবা মরণাপন্ন রোগী। উনি চাচ্ছেন, উনার ছেলেকে মরণোত্তর চক্ষুদান করতে। প্রশ্ন হলো, মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?

হাবিবা আক্তার মণ্টি
ইমেইল থেকে

প্রকাশের সময় : ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৭:২৪ পিএম

উত্তর : শরীয়তে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মালিক সে নিজে নয়। এর মালিক আল্লাহ তায়ালা। সে জন্য কারো জন্যই নিজের রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয় করা জায়েজ নয়। রক্তদান করা যায়। বিক্রয় করা হারাম। চক্ষু বা অন্যান্য অঙ্গ দান সাধারণত জায়েজ নয়। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যুই মানুষের শেষ নয়। এরপরও তার পুনরুত্থান ও পরকালীন জীবন আছে। তাছাড়া মৃত ব্যক্তির প্রচ্ছন্ন একটি অনুভূতি শক্তিও থাকে। সে আশপাশের লোকজনকে বুঝতে পারে। শরীয়তবিরোধী কাজ, বেপর্দা, সীমাতিরিক্ত বিলাপ, কান্নাকাটি তাকে কষ্ট দেয়। জোরে নড়াচড়া, অধিক ঠান্ডা বা অধিক গরম পানি ব্যবহারে তার কষ্ট হয়। জানাজা নিয়ে বেশি ছোটাছুটি, ঝাঁকুনি ও আঘাত সে অনুভব করে। কবর থেকে লোকজন চলে যাওয়ার সময় সে পায়ের আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পায়। এমন একজন মৃত ব্যক্তির সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যদি সে দান করে যায় আর মৃত্যুর পরই ছয় ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তার এসে তার চোখ খুলে নেয়, হার্ট খুলে নেয়, লিভার খুলে নেয়। উন্নত বিশ্বে এখন শরীরের ভেতর বাইরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ব্যবহারযোগ্য। এমতাবস্থায় শরীরের সব অঙ্গ খুলে নিয়ে গেলে দাফন করা হবে কাকে? এ অবস্থাটি মৃত ব্যক্তির জন্য কী পরিমাণ কষ্টের হবে? আর তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও সকল আত্মীয়ের জন্য কতটুকু বেদনার হবে তা ভেবে দেখা দরকার। এ জন্যই শরীয়ত এসব দান সমর্থন করে না। একান্ত ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মাসআলা যদি সামনে আসে তাহলে সবদিক বিবেচনা করে মুফতিগণ সুনির্দিষ্ট ফতোয়া দিতে পারেন।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী
সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ।
প্রশ্ন পাঠাতে নিচের ইমেইল ব্যবহার করুন।
[email protected]

 

ইসলামিক প্রশ্নোত্তর বিভাগে প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
[email protected]



 

Show all comments
  • SALIM SINHA ১৬ আগস্ট, ২০২০, ৬:৪৯ পিএম says : 1
    ALLAMA NADVI'S ANSWER IS NOT JUST. OUR ALL ORGAN WILL BE MIXED WITH SOIL AFTER DEATH . WE CAN'T MAKE ANY ORGAN . IT IS MADE BY ALLAH . SO IF IT IS USED(AFTER DEATH) FOR OTHER HUMAN BEINGS GOOD WHAT IS THE LOSS? PLS NOTE THAT ONCE UPON A TIME DUE TO SOME NARROW MINDED MOLLAH BLOOD DONATION WAS FORBIDDEN . BUT NOW ALL ISLAMIC SCHOLARS ARE AGREED THAT BLOOD DONATION IS A GOOD DEED. SO I REQUEST HONORABLE NADVI SAHEB NOT GIVE ANY FOTWA WITHOUT KNOWING . PLS READ MORE & THINK WHAT WILL BE GOOD & BENEFICIAL FOR MANKIND. PLS PARDON ME IF I HURT YOU
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন

আমি একটা মসজীদে থাকি। সেখানে মক্তবের ছেলেমেয়েদেরকে পড়ানোর জন্য আমি একটা ব্ল্যাকবোর্ড কিনতে চেয়েছিলাম। সেজন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা চাঁদা তুলি এবং বাকি টাকা আমার থেকে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি ওই টাকাটা খরচ করে ফেলি। এবং এখন আর ব্ল্যাকবোর্ড কিনার প্রয়োজনও নাই। এটা আরো ৪-৫ বছর আগের কথা। আমি যাদের কাছ থেকে টাকাগুলো তুলেছিলাম তারা এখন আর মসজীদে পড়ে না। এবং আমার সঠিকভাবে মনেও নাই কার কার কাছ থেকে টাকাগুলো তুলেছিলাম। এখন আমি সেই টাকাটা কী করবো?

উত্তর : আপনার এটি একটি সমস্যা। কারণ যে জন্য টাকা তুলেছিলেন, সেটি না হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত দেওয়া উচিত ছিল। এখন যদি আপনি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ