Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

কলাপাড়ায় পানিবন্দি ৩০ গ্রামের মানুষ

প্রকাশের সময় : ৬ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জোয়ার পানিতে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম। অমাবশ্যার জো’র প্রভাবে সাগর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার লালুয়া, মহীপুর, ধানখালী ও চাম্পাপুর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দু’দফা জোয়ারের পনিতে গিলে খাচ্ছে ওইসব গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকু। গত কয়েক দিন ধরে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙা অংশ দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ার পানি প্রবেশ করে ফের বাড়ি ঘরসহ ফসলি জমিসহ মাছের ঘের ৩/৪ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায়। চরম দুর্ভোগে পরে ওইসব গ্রামের মানুষ। অধিকাংশ মানুষ এখন অনেকটাই জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সরেজমি ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ফসলী জমি, পুকুর, ঘেরসহ বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে। ওইসব বানভাসি দেড় সহ¯্রাধিক পরিবারের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অস্বাভাবিক ¯্রােতের টানে মানুষ ভেসে বেড়ালেও তাদের আর্তনাদ কেউ শুনছে না। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের চরম সংকট। এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামসহ তিন গ্রামের স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা। এর পরও ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে লালুয়ার ৪৭/৫ পোল্ডারের চাড়িপাড়া বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি নদীর পানি প্রবেশ করে চাড়িপাড়া, পশরবুনিয়া, বানাতিপাড়া, ১১নং হাওলা, বানাতিপাড়া, ধঞ্জুপাড়া ও নয়াকাটা গ্রাম রামনাবাদ নদীর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের সুদিরপুর, নিজামপুর, কমরপুর, ইউসুফপুর, পুরান মহিপুর ও চাম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। নিজমপুর গ্রামে কৃষক ইসাহাক হাওলাদার জানান, এ বছর ও লবণ পানিতে ক্ষেত খামার তলিয়ে রয়েছে। মোগে চাষা বাদ এ্যাহন বন্ধ রয়েছে। একই গ্রামে ইলিয়াস জোমাদ্দার জানান, জোয়ার ভাটায় পানি উড্ডা সব ডুব্বা থাহে। মোগো পোলাপান গুলায় স্কুলে যাইতে পারেনা। বান বান্ধের লইগ্যা চেয়ারমানেরও জানাছি। চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার জানান, দেবপুর ভেঙে যাওয়া বাঁধ এখন এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্ক। কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বলতে গেলে ওইসব গ্রামের মানুষ এখন জোয়ার ভাটার ফাঁদে পড়ে আছে। মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ছালাম আকন জানান, জরুরি ভিত্তিতে নিজামপুর পয়েন্টে ভাঙা অংশ মেরামত করা না হলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারবে না। এ বিষয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খাঁয়ের জানান, এলাকা পরিদর্শন করে তারা ঢাকায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাঠিয়েছেন। আশাকরি বর্ষা মৌসুম শেষে এ ভাঙা বাঁধগুলো মেরামত করতে পারব। কারণ বর্ষায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করলে আবার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন