Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

বদলাচ্ছে আইএসপি নীতিমালা

তিন ক্যাটাগরি গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে চায় মন্ত্রণালয় শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট করতে বাধ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান : অ্যাক্টিভ শেয়ারিং চায় আইএসপিএবি

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তি দুনিয়ায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবন। পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী হচ্ছে দেশের বিভিন্ন নীতিমালা। এখনো দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পরিচালিত হচ্ছে এক যুগ আগের নীতিমালায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার নীতিমালা সময়োপযোগী করার দায়িত্ব পালন করেনি বা গ্রাহক সেবার গুণগত মানও নিশ্চিত করতে পারেনি। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠনের (আইএসপিএবি) পক্ষ থেকে বার বার আবেদনের পরও ‘অ্যাকটিভ শেয়ারিং’ নীতি অনুমোদন করেনি। এমনকি ট্রান্সমিশন সেবার মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া বিটিআরসি ১১ বছর ধরে ঝুলে রাখার ফলে ট্রান্সমিশন সেবা নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে গ্রাহকরা অত্যন্ত নিম্নমানের সেবা গ্রহণে বাধ্য হয় এবং বৈধ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের নতুন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তার নির্দেশনায় এই খাতের সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেছে বিটিআরসি। প্রস্তুত করা হয়েছে খসড়া নীতিমালা। সংযোজন-বিয়োজন শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা পাঠানো হবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। নতুন নীতিমালায় গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, নতুন নীতিমালায় আগের এ, বি, সি ক্যাটাগরি ভিত্তিক লাইসেন্স ব্যবস্থা তুলে দিয়ে জাতীয়, জেলা এবং উপজেলা ভিত্তিক লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন নীতিমালায় শুধু ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কেনার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ছোট ছোট আইএসপিগুলো বড় আইএসপি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে পারবে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যমান আইএসপি নীতিমালায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পাঁচ ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হতো। নেশনওয়াইড, জোনাল এবং এ, বি ও সি তিনটি ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরি নির্ধারণ নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে গ্রাহক সেবা জিম্মি হয়ে পড়ছে। তাদের ইচ্ছেমত সেবা নিতে বাধ্য গ্রাহকরা। ফলে গ্রাহক সেবায় গুণগত মান ও যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ইন্টারনেট সেবা গ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, তারা প্রত্যাশানুযায়ী সেবা পান না। প্রতিকার পেতে অভিযোগ জানানোর কোনও জায়গা তাদের নেই। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ‘আইএসপি রেগুলেটরি ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন’ শীর্ষক গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
নীতিমালায় যেসব পরিবর্তন আসছে: আগের ৫টি ক্যাটাগরির জায়গায় এখন ন্যাশনওয়াইড, আরবান ও রুরাল এই তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ন্যাশনওয়াইড সারাদেশেই, আরবান জেলা শহরে এবং রুরাল উপজেলা/থানা/পৌরসভা শহরে সেবা দিতে পারবে।
আইএসপি অপারেটর এনটিটিএন এর লোকাল ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে সর্বোচ্চ এক মাইল দূরত্বে সংযোগ প্রদান করতে পারবে। এর বেশি দিতে হলে কমিশনের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
সেন্ট্রাল জোন আইএসপিগুলো ন্যাশনওয়াইড আইএসপিতে রূপান্তরিত হবে। এজন্য তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বেই আবেদন করতে হবে। অন্যত্থায় লাইন্সে বাতিল হয়ে যাবে। এনটিটিএন/আইআইজি/আইটিসি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান আইএনপির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। ইতোমধ্যে যেসব আইএসপি’র এনটিটিএন/আইআইজি/আইটিসি লাইসেন্স রয়েছে তাদেরকে যে কোন একটি রেখে অন্য লাইসেন্সগুলো এক বছরের মধ্যে সমর্পন করতে হবে। একইভাবে স্যাটেলাইট ব্রডকাস্টিং চ্যানেল সার্ভিস প্রোভাইডার/ক্যাবল অপারেটর আইএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। যাদের ইতোমধ্যে লাইসেন্স আছে তাদেরকে গাইডলাইন প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে একটি রেখে অন্যগুলো সমর্পন করতে হবে। এটি না করে যদি কেউ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ন্যাশনওয়াইড, আরবান এবং রুরাল আইএসপিগুলোকে আইআইজি’র কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ নিতে হবে। তবে যেসব এলাকায় আইআইজি’র পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) থাকবে না সেসব এলাকায় কমিশনের অনুমতি নিয়ে আরবান ও রুরাল আইএসপিগুলো চাইলে ন্যাশনওয়াইড আইএসপি’র কাছ থেকেও ব্যান্ডউইথ কিনতে পারবে। একইভাবে রুরাল আইএসপি ন্যাশনওয়াইড ও আরবান আইএসপি থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে পারবে।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল গাইডলাইন: ইন্টারনেট শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে আইএসপিকে চাইল্ড অনলাইন প্রটেকশন (সিওপি) গ্রহণ করতে হবে। কারণ অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্ষতিকর বা অপব্যবহার করতে পারে। এজন্য অভিভাবকরা চাইলে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। যার মধ্যে- ব্রাউজার সেটিং, সার্চ ইঞ্জিন সেটিং, অপারেটিং সিস্টেম সেটিং, আইএসপি’র মাধ্যমে সরাসরি কন্ট্রোল ও সিকিউরিটি সফটওয়্যার। সকল আইএসপিকে এই সুবিধা সরবরাহের সক্ষমতা থাকতে হবে এবং গ্রাহক চাইলে তা বিনামূল্যে দিতে হবে। আইএসপির সেবার মধ্যে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সার্ভিসের মধ্যে ওয়েবসাইট, চ্যাট রুম, ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং বøক, ইমেজ ও ভিডিও ফিল্টার, ইউজার এক্টিভিটি পর্যবেক্ষণ, কেউ যদি সেটিং পরিবর্তন করতে চাইলে অ্যালার্ম সুবিধা, সেটিং অপশন ম্যানেজিং, ইন্টারনেট ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করার সুবিধাসমূহ আইএসপি প্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হক বলেন, আমরা প্রস্তাব দিয়েছি নীতিমালায় যেনো এ্যাক্টিভ শেয়ারিং সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তা না হলে ছোট ও মধ্য সারির আইএসপিগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। আর যদি শুধু আইআইজিদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কেনার বাধ্যবাধকতা থাকে তাহলে যাদের আইআইজি, এনটিটিএন, আইএসপি, আইটিসি লাইসেন্স আছে তারা লাভবান হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রযুক্তি প্রতিনিয়তই আপডেট হচ্ছে। এজন্য যুযোপযোগী নীতিমালা প্রয়োজন। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ডিজিটাল অগ্রযাত্রার মেরুদন্ড। এক্ষেত্রে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই আগের নীতিমালার জটিলতা নিরসনের জন্যই নতুন নীতিমালা। নীতিমালা তৈরির জন্য খাত সংশ্লিষ্ট সবার সাথেই বিটিআরসি বৈঠক করেছে। এখন বিটিআরসি একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে মন্ত্রণালয় সেটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবে।
তিনি বলেন, নীতিমালায় খাত সংশ্লিষ্টদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে, তবে সবার আগে প্রাধান্য দেয়া হবে গ্রাহক সেবা। গ্রাহকরা যেনো মানসম্মত সেবা পায় আমরা সেটি নিশ্চিত করতে চাই। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইএসপি

১৫ জানুয়ারি, ২০২০
৬ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন